Search

Aniruddha Bose

Tag

Poems

যুগান্তর

কী চেয়েছিলে নতুন যুগের ভোরে? 

জীবনের যত কুকার্য একত্র করে

স্বর্গ ফিরে পাবে? 

কবিরা তো স্বপ্ন দেখিয়েছিল

নতুন যুগের শিখা।

জ্বলেছিল হৃদয়ে স্বপ্নের কাব্যলেখা।

আঁতুড়ঘরে স্বপ্ন এঁকেছিলে কতকাল,

বিপ্লব, মন্দির, মসজিদ 

ক্ষুদ্র আবর্তে জীবৎকাল।

ইজম ছুঁয়ে গেছিল রিজনকে,

দুনিয়াকে করেছিল দামী

ইজমের বাজারে নিলামি। 

ভেবেছিলে এইভাবে ঘটবে রূপান্তর। 

নিজেকে পশরা করে যুগ থেকে যুগান্তর। 

রং ছড়িয়েছিল আগামীর রূপকার

বোঝেনি ধুলিস্যাত করবে প্রাকৃতিক বাহার। 

অচেনা ভবিতব্য নতুন অঙ্কে 

সেজেছে প্রলয় নৃত্যে আগামীকে সাজাতে। 

উন্মাদ পৃথ্বী চাইছে তোমার সততা 

কোথায় অবজ্ঞা করেছ ধরিত্রীর ঔরস

কোথায় বিঁধেছ তাঁকে লালসার উন্মাদনায়

জ্বালিয়েছ তাঁর অনন্ত বহ্নিচিতা। 

অহঙে দিয়েছ যুগান্তকারী লজ্জা। 

লুণ্ঠিত করেছ তাঁর স্বপ্ন আবেশ,

সজ্জিত তুমি, কুলাঙ্গার বেস। 

যুগান্তরের স্বপ্ন আতুরঘরে নয়,

স্বপ্ন সেটাই যা অন্তরকে চিনে লয়। 

তোমার স্বপ্ন হয়ত ময়ূরকণ্ঠি পক্ষিরাজ। 

যুগান্তরের ইতিহাসে নিছকই ধান্দাবাজ। 

কালকে চিনতে অতীত অবশ্যম্ভাবী। 

মৃত্যুলেখা যুগান্তরের রূপকার

সব অঙ্ক প্রকৃতির চেতনা উদ্ভাসে ছারকার। 

ধূসর সন্ধিক্ষণ

মৃত্যুটা আসবে জেনেও

কেউ অপেক্ষা করে না দিন-ক্ষণ।

জীবন-মৃত্যুর নাগরদোলায়

বাঁচে রাতদিন সর্বক্ষণ।

দিনকে বাঁচাতে, রাতকে করে মধুময়

লোভাতুর অস্তিত্বের চাহিদা সর্বসময়।

অচেনা ভয়, অজানা আতঙ্ক

সরীসৃপ হয়ে আত্মপরিচয়।

মহামারি রূপে দোরের আঙিনায়।

কাঁপে পৃথ্বী, কাঁপে মরে-বাঁচা হৃদয়।

জোনাকি জ্বালাতে পারে না

আসল সন্ধিক্ষণ সময়।

মন শুধু ধরতে চায় অতীত লক্ষ্মণ

অবচেতন নিয়ে জীবনের প্রতি ক্ষণ।

ভয়ডরহীন জীবন যাপন।

রাত ভোর বিনিদ্র নিশা

জাগায় সন্ধিক্ষণে বাঁচার তৃষা।

জীবনের চাঁদে হারানোর দিশা।

প্রভাত আসে প্রকৃতির ফেরে

জীবন ভাসে নতুন দুয়ারে।

অতীতের মরীচিকা জীবন স্বপ্ন

ভাতিয়ারের সুরে প্রভাতির অঙ্ক।

 

জীবন তো মৃত্যুর অন্য দিক

যেমন চাঁদের বুকে লেখা ছায়ার টিপ।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ খেলাঘরে

শাশ্বত প্রাকৃতিক মহাবিশ্বের সামঞ্জস্যের অঙ্ক
ভিন্ন ভিন্ন রূপে সন্তর্পণে, নিভৃতে, অলক্ষ্যে
সত্য চেনাতে বহুরূপী হয়ে খেলা করে।

বাস্তবের কবিতা

কবিতা স্বপ্ন ছিল

স্বপ্ন এখন কবিতা।

রাত দিন ছিল

দিন এখন রাত।

স্বপ্নটা ময়ূরমহলে মেলেছিল ডানা

স্বপ্ন এখন নিশীথে রামগরুরের ছানা।

দিনটা এঁকেছিল নতুন কাব্যলেখা

নিশীথ রাতে সবই এখন মরীচিকা।

মায়াবী অন্ধকার, জ্যোৎস্না আঁধারে একাকার।

 

কোথায় স্বপ্ন?

কবিতা তো বাজারি নিলাম।

আমার কবিতা ফেলে এসেছি

স্বপ্ন গাঙের ভোরে।

আমার কবিতা হারিয়ে গেছে

বাস্তবের অট্টরোল কোলাহলে।

জীবন শুধুই বাঁচার সংগ্রাম

এর বাইরে আছে কী অন্য নাম?

 

কোথায় কবিতা?
কোথায় হারানো কলতান?

স্বপ্ন এখন বাস্তবের আঙিনায়

ডাকছে আগামী শপথের মোহনায়।

রুঢ় কঠিন আগামী জানি

নিন্দা, বিদ্রূপ, কুৎসা, যাতনা

সইতে হবে তাও মানি।

কবিতা এখন জীবন যুদ্ধের

আংশিক অঙ্গীকার।

বাস্তব এখানেই কবিতা

নইলে আগামী ছারকার।

আত্মার সদ্গতি

আমার আত্মা ঘুরে মরে

শূন্য থেকে মহাশূন্যে।

আমার আত্মা খুঁজে ফেরে

গহন গভীর অরণ্যে।

 

যুগ থেকে যুগান্তরে

অনাদি হুতাগ্নি থেকে

বাস্তবের প্রখর দ্বিপ্রহরে।

অসংযমী কুমারী,

লুণ্ঠিত বেশে এলোকেশে

পার্থিব জগত্তারিণী,

কুমারীর স্তনভাণ্ডের পাশে পাশে

আমার আত্মার পরিক্রমা।

এখানেও আমি নেই।

আছে পুরনো বস্তাপচা পাণ্ডুলিপি

পুনরভিনয়ে কী সদ্গতি?

মোক্ষ কী স্বপ্ন চেতনার মায়া

যতক্ষণ না পরলোকে

ফুটছে তার বাস্তবিক ছায়া?

জীবন্ত আত্মার সদ্গতি কী

জীবন থেকে দূরে?

তবে কোন কুহকের টানে

খুঁজছি তার মানে?

স্বপ্নের আঁতুড়ঘরে

স্বপ্নটা এঁকেছিলাম পলাশের বসন্ত রাগে

একান্তে, নিভৃতে, সুন্দর এলোকেশে স্পর্শ-সম্ভোগে।

ঘাসের মখমল বিছানায় উঁকি মারা চাঁদ

দোলের স্বপ্ন দিয়ে আবার মনমোহিনী রাত।

কৃষ্ণচূড়ার আবির পরাবে লাল টিপ।

জাগাবে স্বপ্নের বাস্তব, মনের প্রদীপ।

অধরের অমৃত কোমল স্পর্শ

দোল পূর্ণিমার মধুক্ষণ হর্ষে,

জ্বালাবে অনুভূতির বহ্নিপ্রদীপ।

উষ্ণ ঠোঁট, উদ্বেল আবেগ, ভূলুণ্ঠিত বেশ, সতেজ সবেগ

ধরতে চায়, পেতে চায়,

নির্দিষ্ট স্পর্শের না-পাওয়া আবেগ।

বহ্নি জ্বালাতে চায় মন ছেড়ে দেহে

জাগাতে চায় কামনার জ্বালা
মধ্যরাতের দরবারি কানাড়ার মালা,

প্রত্যুষের ভাতিয়ারে?

স্বপ্নটা মনকে ছোঁয়া

দূরে থেকেও একান্ত নিবিড়,

কাছে পাওয়া বালুতরে কোনও দ্বিপ।

তোমার সঙ্গে দিনরাত হৃদয়ের প্রদীপ।

অনন্ত বিস্তৃত সবুজ মিশেছে নীলে,

স্বপ্ন গাঙের তরী সেখানেই ভাসে

অন্তহীন নীলিমার নীল সলিলে।

 

পাখনা মেলে স্বপ্ন ভেলা চেতনায়

আঁতুড়েই ছন্দ, জীবন শুধু মেঘের মল্লিকায়

স্বপ্ন

স্বপ্নকে হারাইনি ময়ূরপঙ্খি রথে। 

 

স্বপ্নকে হারাইনি কারও হাত ধরে 

সাজতে মনোরথ। 

একাকী বাসনা, 

কামনা তাও একান্ত। 

বসন্ত তো মধুররেনু বনিকা

বিকোতে পরিকর সময়ের নিলামে। 

কেউ সম্মান করে অস্তিত্বে। 

কেউবা আগামীর নিলামে। 

আমিই একা জোনাকি। 

সেলাম বিহীন অন্তরমহলে। 

ফোটে অজস্র তারার হাসনুহানা 

বিগলিত সম্মোহনী কেশে 

স্খলিত মুহূর্তের স্বপ্ন আবেশে। 

আঁকে জীবনের করবি

রামধনু রঙে জীবনের ছবি। 

কে তুমি মহান এত বলিয়ান? 

স্বপ্নকে বিকতে চাও দুনিয়ার হাটে?

একান্ত জীবনের গান। 

কোন ভূষণে পরাতে চাও তাকে? 

আছে কী তোমার নতুন ছন্দ

জীবনের গান? 

আছে কী বোধ 

আগামীকে দেখার আত্মা?
পেয়েছ কী অন্য কিছু

জীবনের নতুন সন্ধান? 

অভিলাসা

তোমাকে কতবার দেখেছি 

কৈশরের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে

যৌবনের লালসে। 

কলতলায় ভেজা স্তন

আবৃত, প্রকট, উদ্ধত। 

হাতছানি পশরা নিয়ে আহ্বানে, 

অনাবিষ্কৃত বেদনায় আকাঙ্ক্ষার তিখরে। 

লাস্য যুবতির কামাতুর আহ্বানে। 

প্রোজ্জ্বল তোমার দেহের ঢেউ-এর উদ্ভাসন

নিপীড়িত রন্ধ্র, নিপীড়িত নিম্নমুখী দুঃশাসন। 

বিদীর্ণ খরাতপ্ত যৌবন।  

সন্ধিক্ষণের আবেষ্টিত ব্রা-ব্রত পার্বণ। 

ভাসাতে চায়, ডুবতে চায় নিবিড় বন্ধনে

সামাজিক বেষ্টনী ছেড়ে মহাপ্লাবনে। 

স্বপ্ন দেখেছিলাম একমুঠো আকাশ।

তুমি কী দেখতে চাও তার সুমধুর প্রকাশ? 

দেখতে চাওনি তার ব্যপ্তি অকুল তিমিরে? 

সেখানেই ভোর, সংজ্ঞাহীন, অর্থহীন নিশীথে। 

সেখানেই জ্বলে বহ্নি আগামীর শিখা, 

তার ঔরসে কী তোমার মায়া-কায়ার কাব্য লিখা?  

তোমাকে তো দেখেছি মন ছন্দের আঙিনায়। 

পাওয়া বা হারানো সে তো তোমার চেতনায়। 

সবই মায়া অভিলসা থেকে স্বার্থের দুনিয়ায়, 

তুমিই সত্য অবিচল, এই মোহময় ব্যথায়। 

স্মৃতি কী?

সুখ স্মৃতিতে ভাসা কল্পনা। 

না কি, বর্তমানকে ছাঁচে না ধরার ব্যর্থতা? 

অবসাদ গ্লানিতে

নিঃশেষ হওয়া সাংসারিক আমিত্বে

অস্তিত্ব যখন টালমাটাল। 

স্মৃতিই শান্তি, স্মৃতিই তৃপ্তি 

স্মৃতি বাঁচার বর্তমান। 

এমনও তো হতে পারে

স্মৃতি প্রেরণা 

আগামীর চেতনা 

পুরাতনকে শেখা নতুন নতুন মন্ত্রে? 

আগামীকে দেখা 

নতুন দর্শন, নতুন আঙ্গিকে? 

আলোড়ন

শূন্যতা,না কি পূর্ণতা?

ব্যর্থতা,না কি জাগরণ?

বিদ্রূপে তিতিবিরক্ত

স্থিত,সঙ্কল্পিত,বলিষ্ঠ মন।

 

শূন্য,পূর্ণ,চেতনার ব্যপ্তি।

অবচেতন খোঁজে নিশ্চিন্ত শান্তি।

অন্ধ হাতড়ে বেড়ায়

অবচেতনের ক্যানভাসে।

মূর্খ খোঁজে বালুচর

অক্ষমতার উদ্ভাসে।

মোহময় স্বপ্ন দেয় হাতছানি।

কোথা থেকে কেনা যাবে নিজেকে।

নিজের চেয়েও বেশি করে দামি।

মোহে মোহিত লাখো বাসনা

তৃপ্ত বিক্ষিপ্ত চেতনার রসনা।

চেতনা হিসেবের অঙ্ক নয়

শূন্য কলস ভরাট করা যায়?

নড়বড়ে স্বপ্ন চুড়া

আঁকে আজকের মন্ত্র।

আগামী তো সেই তিমিরে

ধোঁয়াশার কুয়াশা তন্ত্র।

আজকের পূর্ণতা কী আগামীর শূন্যতা?

না কি,ব্যর্থতার কদর্য ঘুটে ছেটান

আগামীর নব আলোড়ন?

 

ছবিটা আঁকা হয়ে গেছে।

Create a free website or blog at WordPress.com.

Up ↑

StormyPetrel

আমার মনের মাঝে যে গান বাজে,শুনতে কি পাও গো?

Writcrit

Creative and Bookish

The Blabbermouth

Sharing life stories, as it is.

Prescription For Murder

MURDER...MAYHEM...MEDICINE

Journeyman

Travel With Me

কবিতার খাতা

কবিতার ভুবনে স্বাগতম

NEW MEDIA

LITERARY PAGE

Coalemus's Column

All about life, the universe and everything!

Ronmamita's Blog

Creatively Express Freedom

যশোধরা রায়চৌধুরীর পাতা

তাকে ভালবাসি বলে ভাবতাম/ ভাবা যখনই বন্ধ করেছি/দেখি খুলে ছড়িয়েছে বান্ডিল/যত খয়েরি রঙের অপলাপ/আর মেটে লাল রঙা দোষারোপ

Kolkata Film Direction

Movie making is a joyful art for me. I enjoy it as hobbyist filmmaker - Robin Das

arindam67

বাংলা ট্রাভেলগ

The Postnational Monitor

Confucianist Nations and Sub-Sahara African Focused Affairs Site

TIME

Current & Breaking News | National & World Updates

বিন্দুবিসর্গ bindubisarga

An unputdownable Political Thriller in Bengali by Debotosh Das

rajaguhablog

Welcome to your new home on WordPress.com

জীবনানন্দ দাশের কবিতা

অন্ধকারে জলের কোলাহল

%d bloggers like this: