Search

Category

Poems

স্বপ্ন

স্বপ্নকে হারাইনি ময়ূরপঙ্খি রথে। 

 

স্বপ্নকে হারাইনি কারও হাত ধরে 

সাজতে মনোরথ। 

একাকী বাসনা, 

কামনা তাও একান্ত। 

বসন্ত তো মধুররেনু বনিকা

বিকোতে পরিকর সময়ের নিলামে। 

কেউ সম্মান করে অস্তিত্বে। 

কেউবা আগামীর নিলামে। 

আমিই একা জোনাকি। 

সেলাম বিহীন অন্তরমহলে। 

ফোটে অজস্র তারার হাসনুহানা 

বিগলিত সম্মোহনী কেশে 

স্খলিত মুহূর্তের স্বপ্ন আবেশে। 

আঁকে জীবনের করবি

রামধনু রঙে জীবনের ছবি। 

কে তুমি মহান এত বলিয়ান? 

স্বপ্নকে বিকতে চাও দুনিয়ার হাটে?

একান্ত জীবনের গান। 

কোন ভূষণে পরাতে চাও তাকে? 

আছে কী তোমার নতুন ছন্দ

জীবনের গান? 

আছে কী বোধ 

আগামীকে দেখার আত্মা?
পেয়েছ কী অন্য কিছু

জীবনের নতুন সন্ধান? 

Advertisements

অভিলাসা

তোমাকে কতবার দেখেছি 

কৈশরের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে

যৌবনের লালসে। 

কলতলায় ভেজা স্তন

আবৃত, প্রকট, উদ্ধত। 

হাতছানি পশরা নিয়ে আহ্বানে, 

অনাবিষ্কৃত বেদনায় আকাঙ্ক্ষার তিখরে। 

লাস্য যুবতির কামাতুর আহ্বানে। 

প্রোজ্জ্বল তোমার দেহের ঢেউ-এর উদ্ভাসন

নিপীড়িত রন্ধ্র, নিপীড়িত নিম্নমুখী দুঃশাসন। 

বিদীর্ণ খরাতপ্ত যৌবন।  

সন্ধিক্ষণের আবেষ্টিত ব্রা-ব্রত পার্বণ। 

ভাসাতে চায়, ডুবতে চায় নিবিড় বন্ধনে

সামাজিক বেষ্টনী ছেড়ে মহাপ্লাবনে। 

স্বপ্ন দেখেছিলাম একমুঠো আকাশ।

তুমি কী দেখতে চাও তার সুমধুর প্রকাশ? 

দেখতে চাওনি তার ব্যপ্তি অকুল তিমিরে? 

সেখানেই ভোর, সংজ্ঞাহীন, অর্থহীন নিশীথে। 

সেখানেই জ্বলে বহ্নি আগামীর শিখা, 

তার ঔরসে কী তোমার মায়া-কায়ার কাব্য লিখা?  

তোমাকে তো দেখেছি মন ছন্দের আঙিনায়। 

পাওয়া বা হারানো সে তো তোমার চেতনায়। 

সবই মায়া অভিলসা থেকে স্বার্থের দুনিয়ায়, 

তুমিই সত্য অবিচল, এই মোহময় ব্যথায়। 

স্বপ্নটা, কেন বাস্তব হয় না?

স্বপ্নটা, কেন বাস্তব হয় না? 

কল্পনার তুলি দিয়ে আঁকা যায় ছবি। 

মাঝরাতে, একা ঘুম ভাঙা অন্ধকারে

চুরমার হয় ময়ূর মহলের বাসর

এলমেল ধোঁয়াশায় হারায় আঁধারের রবি। 

কল্পনার তুলি দিয়ে আঁকা বাস্তবের যুগছবি। 

একাকী লড়াইয়ের কঠিন মাটিতে লাঞ্ছিত ভাস

আগামী চেতনার নতুন ক্যানভাস। 

মৃত আত্মা জীবন খুঁজতে চায়

হিসেব-নিকেশের গরমিল অঙ্কে।

ভূষণ, শ্রী, রত্নে বিকিয়ে সত্ত্বা। 

একটু স্বীকৃতির স্বপ্নে। 

ধুসর আগামী পথেই হারিয়ে যায়

বিকবার লৌকিক স্বার্থে। 

ক্ষণকালের পরিচিতিতে

অস্তিত্বহীনতাকে বাঁচাতে। 

অজান্তে, অলক্ষ্যে। 

অন্ধকারের তমসায় তাচ্ছিল্যে একাকী

হৃদয় কথা কয় নতুন সুরে।  

ঔদ্ধত্য, না সংবেদনশীল মন? 

নতুন স্বপ্ন দেখে অর্থহীন মজলিসে।

একাকী নির্জনে, নিভৃতে। 

ঘুমে জাগরণে। 

আজকের স্বপ্ন কালকের বাস্তব।  

তবু কেন হারিয়ে যায়

ঘুম ভাঙা অন্ধকারে? 

স্বপ্নের বল নেই বলে? 

স্মৃতি কী?

সুখ স্মৃতিতে ভাসা কল্পনা। 

না কি, বর্তমানকে ছাঁচে না ধরার ব্যর্থতা? 

অবসাদ গ্লানিতে

নিঃশেষ হওয়া সাংসারিক আমিত্বে

অস্তিত্ব যখন টালমাটাল। 

স্মৃতিই শান্তি, স্মৃতিই তৃপ্তি 

স্মৃতি বাঁচার বর্তমান। 

এমনও তো হতে পারে

স্মৃতি প্রেরণা 

আগামীর চেতনা 

পুরাতনকে শেখা নতুন নতুন মন্ত্রে? 

আগামীকে দেখা 

নতুন দর্শন, নতুন আঙ্গিকে? 

আলোড়ন

শূন্যতা,না কি পূর্ণতা?

ব্যর্থতা,না কি জাগরণ?

বিদ্রূপে তিতিবিরক্ত

স্থিত,সঙ্কল্পিত,বলিষ্ঠ মন।

 

শূন্য,পূর্ণ,চেতনার ব্যপ্তি।

অবচেতন খোঁজে নিশ্চিন্ত শান্তি।

অন্ধ হাতড়ে বেড়ায়

অবচেতনের ক্যানভাসে।

মূর্খ খোঁজে বালুচর

অক্ষমতার উদ্ভাসে।

মোহময় স্বপ্ন দেয় হাতছানি।

কোথা থেকে কেনা যাবে নিজেকে।

নিজের চেয়েও বেশি করে দামি।

মোহে মোহিত লাখো বাসনা

তৃপ্ত বিক্ষিপ্ত চেতনার রসনা।

চেতনা হিসেবের অঙ্ক নয়

শূন্য কলস ভরাট করা যায়?

নড়বড়ে স্বপ্ন চুড়া

আঁকে আজকের মন্ত্র।

আগামী তো সেই তিমিরে

ধোঁয়াশার কুয়াশা তন্ত্র।

আজকের পূর্ণতা কী আগামীর শূন্যতা?

না কি,ব্যর্থতার কদর্য ঘুটে ছেটান

আগামীর নব আলোড়ন?

 

ছবিটা আঁকা হয়ে গেছে।

তোকে দেখব বলে

তোকে দেখব বলে

মৃত্যুও মুখ ঘুরিয়েছে।

কায়া,ছায়া,মায়া,মমতা পেরিয়ে

এখনও মোহমুক্ত বাঁচিয়ে রেখেছে

দেখব বলে উলঙ্গ চাঁদের গ্রহণ।

এখনও স্বপ্ন মধুময়

স্তম্বিত কাল,অন্তহীন সময়।

সেই কবেরকার ‘চাঁদ মামা দেখা’

কবেকার ফেলে আসা

নরম হাতের না-ভোলা ছোঁয়া।

কবেকার স্বপ্নে ভাসা জীবনের ডাকে

মৃত্যুর গ্রহণ হয়েছে কবেকার ফাঁকে।

 

আধ আধ কথা,না চেনা বুলি শোনা

সোনা কী এখনও চাঁদের কণা?

আজও বহুদূরের অচেনা।

বিপাকে জড়িয়েছে উদাসী মন

সময় হয়ত ভিক্ষা চেয়েছে

চিনতে তাকে প্রতিক্ষণ।

মৃত্যু দেয় না মরণের ডাক

সোনার চেতনা জানতে

মরণও থেমে থাকে জীবন ফাঁকে।
জানা অজানা অদৃশ্যের প্রান্তে।

সোনাকে কে চেতনা জাগাবে

জীবন মরণের প্রান্তে?
জীবনেকে না চিনে মরণের অঙ্কে।

তোর অপেক্ষায় এ জীবন

কবে তুই দিবি মরণের বাস্তব

ওপারের সঞ্জীবন লিখন?

 

অনেক দেখা হল পৃথ্বীর দুঃসময়

শুধু অচেনা বন্ধন দিন বাড়ায়।

মৃত্যু কী তবে জীবনের কাছাকাছি

তোকে দেখব বলেই কী

আজও বেঁচে আছি?

কতক্ষণ

কতক্ষণ বিচ্ছিন্ন নিঃশব্দ ভুলে একাকী?

সত্তা খোঁজে বিক্ষিপ্ত অস্তিত্বের জোনাকি।

আলোর দিশায় ভরা নতুন স্ফুলিঙ্গের ফুল্কি।

স্বপ্নকে বাস্তবে আনার ধোঁয়াশা উল্কি।

 

কম্পন থেমে গেছে।

অতীত প্রাচীন।

দিন ঢলেছে রাতের মখমল ক্লেশে।

চেতনার বহ্নি আঁকে স্বপ্নের দেওয়ালি।

আঁকিবুঁকি অজস্র ঝিলিক মারে বিদ্বেষে।

স্বপ্নের মখমল রাত

নাকি চেতনার বহ্নিতে

অনুশোচনার আত্ম প্রভাত?

থমকে সব হারানোর বিস্মৃতিতে।

গহন রাতের গহ্বরে নিজেকে চিনতে।

আর কতক্ষণ থামতে হবে?

চলার পথ আরও কদ্দুর?

স্নিগ্ধ স্বপ্ন, মোহ মধুর।

 

সময় কী থেমে গেছে দ্বন্দ্বের পথে?

সময় কী চেতনা পেয়েছে অজানা রথে?

ক্ষণ,দাও চেতনার উল্কা স্ফুরণ।

ডুবিয়ে অতিচেতনের স্ফুলিঙ্গে

স্বর্গ,মর্ত্য,পাতালের বাইরে

নতুন শুভক্ষণ।

মনকে তৃপ্ত  করতে

হারানো স্বপ্নের উল্কা বিহঙ্গে।

তোমায় দেখেছি

তোমাকে দেখেছিলাম ইজের পরা স্কুল ফ্রকে।

এক্কা দোকা খেলার ফাঁকে পুকুরপাড়ের দিবালোকে।

আমার কিশোর মন চেয়েছিল

আরও নিবিড় করে দেখতে।

অর্ধস্নাত উদ্বেল যৌবন।

গাছের ফাঁক দিয়ে উদ্বেলিত তরঙ্গ তখন।

তোমাকে দেখেছি দিকশূন্য পাখিদের ভিড়ে।

নিজস্ব ডানা মেলে উড়তে স্বপ্ন বিহঙ্গ বিহনে।

হাঁসের সঙ্গে কানামাছি খেলা।

তোমার সারল্যের স্বতঃস্ফূর্ত একতারা।

দেখেছি তোমাকে বিহঙ্গ স্বপনে একেলা।

কানামাছি করে শুধু মনের ভেলা।

তোমাকে দেখেছি খরাতপ্ত জ্যোৎস্নায়,

স্বল্পবাস পেখম মেলতে ছাদের কিনারায়।

প্রথম স্পর্শ আলো আঁধারিতে কম্পিত ঠোঁটে।

দেখেছি তোমাকে উজ্জ্বল সোনালি প্রভাতে।

বাসরের রাতে দেখেছি চুম্বনে স্নাত।

রজনীগন্ধার মালার বিছানায়

বিবস্ত্র, নিবিড়,কাম উদ্বেলিত।

 

দেখেছি আমাকে গ্লানিতে বিধ্বস্ত,জর্জরিত, ক্ষত।

কেউ ছিল না পাশে,শুধু তুমিই ছিলে

পাশে একা। বল জোগাতে নতুন মন্ত্রে।

 

আজ তোমার উলঙ্গ দেহ অর্থহীন

যৌবনের উল্লাস ম্লান থেকে ক্ষীণ।

তবুও তুমি আছ আমার রন্ধ্রে।

কামহীন,মোহহীন,ছন্দহীন

অচেনা নিবিড় বন্ধনে।

বার্ধক্যের দেওয়ালিতে নব ফাল্গুনে।

যেখানে প্রতি মুহূর্তের পদচিহ্ন।

বাঁচার ছবি আঁকে।

শান্তির অনুভূতি,অস্তিত্ব বিবর্ণ।

আপেক্ষিক সুস্থতা

আপেক্ষিক সুস্থতা।

কী সামাজিক পাংক্তেয় করার চেষ্টা?

যেখানে সামাজিক সুস্থতা আপেক্ষিক।

শাড়ি,জিনস,মিনিতে ঢাকা

রঙিন মোড়ক আঁকা

উলঙ্গ পরিহাস।

দিনের গৃহবধূ, রাতের দয়িতা

রং পালটানো গিরগিটি স্বপ্নের নবমিতা

সামাজিক চাদরে মখমল দোপাটি।

যা সুবিধে তাই সুস্থতার একমাত্র আংটি।

আলো যেখানে অন্ধকার ঢাকে

স্বপ্ন যেখানে ছবি আঁকে।

ভারচুয়ালিটির সাজান রঙে

নিজেকে মোড়া সেই ঢঙ্গে।

বেচে কে,কেনে কে স্বপ্ন যে কার

ফেরিওয়ালা ঘুরে মরে  মন ছারকার।

 

সুস্থতা কী বাজারে বিক্রির পসরা?

মনকে বিক্রি করে না পাওয়া স্বপ্নের অভিলাশা?

সুস্থতা কী তোমার ইচ্ছেতে সত্তাকে বিক্রির দেওয়ালি?

এ কোন মজলিসে বসে স্বপ্নের মেহফিল সাজাই

নিজের সুস্থতাকে বাজারে নিলাম করে

কোন অজানা শান্তির ঠিকানা পাই?

 

(পুনঃ
বেচে কে,কেনে কে স্বপ্ন যে কার

ফেরিওয়ালা ঘুরে মরে  মন ছারকার

এই পঙক্তিগুলো বন্ধুবর আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি)

Blog at WordPress.com.

Up ↑

StormyPetrel

আমার মনের মাঝে যে গান বাজে,শুনতে কি পাও গো?

Writcrit

Creative and Bookish

The Blabbermouth

Sharing life stories, as it is.

Prescription For Murder

MURDER...MAYHEM...MEDICINE

Journeyman

Travel With Me

কবিতার খাতা

কবিতার ভুবনে স্বাগতম

NEW MEDIA

LITERARY PAGE

Coalemus's Column

All about life, the universe and everything!

Ronmamita's Blog

Creatively Express Freedom

যশোধরা রায়চৌধুরীর পাতা

তাকে ভালবাসি বলে ভাবতাম/ ভাবা যখনই বন্ধ করেছি/দেখি খুলে ছড়িয়েছে বান্ডিল/যত খয়েরি রঙের অপলাপ/আর মেটে লাল রঙা দোষারোপ

Kolkata Film Direction

Movie making is a joyful art for me. I enjoy it as hobbyist filmmaker - Robin Das

arindam67

বাংলা ট্রাভেলগ

The Postnational Monitor

Confucianist Nations and Sub-Sahara African Focused Affairs Site

TIME

Current & Breaking News | National & World Updates

বিন্দুবিসর্গ bindubisarga

An unputdownable Political Thriller in Bengali by Debotosh Das

rajaguhablog

Welcome to your new home on WordPress.com

জীবনানন্দ দাশের কবিতা

অন্ধকারে জলের কোলাহল

%d bloggers like this: