Search

Category

Essays

আধ্যাত্মিক আত্মা

বন্ধুরা যখন ‘আধ্যাত্মিক’ অনুশীলনে ব্যস্ত, ওদের সেই আধ্যাত্মিকতার ডামাডোলে আমি দিকশূন্য। মূর্তিপুজার মন্ত্রোচ্চারণে ধুপ, ধোঁয়া, কাঁসরঘণ্টা, ফুল-বেল পাতা। 

পুজা শেষে কোনও প্রখ্যাত কম্পানির মেডিক্যাল রিপ্রেসেন্টেটিভ হীরের মালার ভেট দিতে বন্ধুবর আমাকে বলল “দেখ মায়ের কি করুণা। ভাবছিলাম বউয়ের জন্য হীরের মালা কিনব, মা বাড়ি বয়ে পৌঁছে দিলেন” পুজো ঘরের কালীমূর্তিতে মালাটা পরিয়ে বলল “মায়ের দান। মায়ের গলায় সঁপে দিলাম”

এমনিতেই আধ্যাতিকতার সিকিভাগও আমার মধ্যে নেই। তিলক, চরণামৃত আমার  কাছে লৌকিক আচার। মানে না বোঝা স্তোত্রেতে কনফিউজড। সবাই একাগ্র আধ্যাত্মিকতার সন্ধানে। এরা নিয়মিত পীঠস্থানে যায়। আবার ওষুধ কম্পানির স্পন্সারে সেক্স টুইজিমেও। বিশ্বাসের অভাব এবং শারীরিক অক্ষমতার জন্য এদের সঙ্গে তাল মেলান সম্ভব নয়। তাহলে আমি কোথায়? ঈশ্বর প্রাপ্তি বা আধ্যাত্মিকতা আমার জন্য নয়। না পারছি লোকাচার, বিশ্বাসে তাল মেলাতে, না পারছি অন্য কিছু ভাবতে। মন বলছে ‘হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথাও, অন্য কোনওখানে’

কোথায়? রবিবারে গির্জায় যাওয়া, দিনে পাঁচবার নমাজ। এগুলো কী ঈশ্বর প্রাপ্তির পথ? 

লেখার সূত্রে, বিশেষ করে আমার দুটো উপন্যাস ‘ইটারন্যাল মেহেম’ আর ‘আলো আঁধার’ লেখার জন্য প্রচুর পড়াশোনায় একটু কিছু শিখেছি। ইটারন্যাল মেহেম যেহেতু জেনেটিক ক্লোনিং ও রেসিয়াল সুপিরীয়রিটির ওপর, তার মাইগ্রেশন জেনেটিক বিজ্ঞানের অঙ্ক পরিষ্কার। আদি অ্যাফ্রিকান কমিউনিটি উত্তরে সুজিয়ানায় গিয়ে এলামাইট ডিনেস্টি স্থাপন করে, যা সুমেরিয়ান সভ্যতার বুৎপত্তি। পরে দু-ভাগে বিভক্ত হয় – পূর্বে ইন্দো-এশিয়ান ও পশ্চিমে ইন্দো-ইউরোপিয়ান সভ্যতায়। এই আদি অ্যাফ্রিকান কমিউনিটি দক্ষিণ-পূর্বে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাবরেজিনিস। উত্তরে  ভারতীয় ড্র্যাভেডিয়ান। এবং পূর্বে জাপান হয়ে বেরিং স্ট্রেট অতিক্রম করে নেটিভ অ্যামেরিকান। ওয়াই-লিঙ্কড হ্যাপলোগ্রুপ আর এমটি ডিএনএর মাধ্যমে তা প্রমাণিত।    ধর্মের বুৎপত্তি অ্যাফ্রিকান কমিউনিটির উত্তর মাইগ্রেশন থেকে। 

যদিও শাস্ত্রে বলে ধর্মের বুৎপত্তি সনাতন ধর্ম। আমার মতে আজিবক ধর্ম থেকে। আদি ইজমের হেটরোডক্স স্কুল থেকে যার সূত্রপাত, আজিবক ধর্মের বুৎপত্তি ৫০০০ বছর খ্রিস্টপূর্বে ম্যাকখালি গোশালার একদল নাস্তিক সদস্যদের নিয়ে শ্রমণা মুভমেন্টে। তাদের বিশ্বাস, ভাগ্যই জীবন গতির নিয়ামক। চেষ্টা বা সাধনার কোনও স্থান নেই। যদিও অনেক বইতে আজিবক ধর্ম, বৌদ্ধ বা জৈন ধর্মের সমসাময়িক বলে বর্ণিত, বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে মেটাফিজিক্যাল অ্যাটমিক থিওরি অনুযায়ী ওদের মুভমেন্ট কসমিক এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। এই চিন্তাধারার ভিত আইনস্টাইনের ইউনিভার্সাল এনার্জি ট্র্যান্সফর্মেশনের ভিত্তিতে, যা এখন ব্ল্যাক হোল নামে প্রতিষ্ঠিত। এই এনার্জি ‘সোহম’ (সো+অহম) যখন  মিলে যায়, তখনই অধিষ্ঠিতে পৌঁছন যায়। অর্থাৎ আমিই তিনি। মানে ব্যক্তিগত এনার্জির সঙ্গে মাস এনার্জির মিলন। ওলটালে শব্দটা হয় হম-সা (হম+সা) বা হংস। রাজহাঁসের মতোই চেতনার বিচরণ। যার জাগতিক অর্থ আত্মার সঙ্গে মাস এনার্জির মিলন। ব্ল্যাক হোল থিওরি অনুযায়ী মৃত্যু শুধুই এনার্জির পরিবর্তন। 

জৈন ধর্ম, আজিবক ধর্মের শ্রমণা মুভমেন্টের উত্তরসূরি। মহাবীর, ভরধমান নামে ৫৯৯ বছর খ্রিস্টপূর্বে ৩০ বছর বয়সে আধ্যাত্মিকতার সন্ধানে সন্ন্যাসী হন। পরের সারে বারো বছর গভীর তপস্যা, প্রায়শ্চিত্তের মধ্যে কেভলি (সর্ব জ্ঞান সিদ্ধ) হন।

৫৬৩ বছর খ্রিস্টপূর্বে বৌদ্ধ ধর্মও সেই পথেই হাঁটে। মহাবীরের মতোই রাজত্ব, গৃহত্যাগ এবং অবশেষে পাঁচজন শিস্য (যারা বারানসিতে তাঁকে পরিত্যাগ করে) শেষমেশ সারনাথে গিয়ে আধ্যাত্মিক চেতনায় আলোকিত। ঠিক সেই সময় দুই উড়িয়া ব্যবসাদার (পালিভাষী) ও পথে যাচ্ছিল। তারা ওনাকে খাবার, জল দিলে, উনি নবলব্ধ মন্ত্র শোনান। ওনার উপলব্ধি দক্ষিণে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে বৌদ্ধধর্মের ওপর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ পালি ভাষায় রচিত। শুরু হয় ওনার চিন্তাধারায় হীনযান ঘরানা। অষ্টমাঙ্গিক মার্গের মূল মন্ত্র ‘আত্মদীপো বিহরথ অওসরনা অনঞ্চ সরনা’। বিভিন্ন ধাপে তার উত্তরণ – অচৈতন্য, চৈতন্য, দৃষ্টি, প্রেম, দ্বন্দ্ব (আপেক্ষিক বা সত্তা), দহন, মুক্তি বা নির্বাণ এবং অধিষ্ঠিতি বা অনাপেক্ষিক অস্তিত্ব। এই উত্তরণের পথে নাস্তি, রাবণ, অসুর, শয়তান, রক্ষর সঙ্গে অস্তি, আত্মা, গো, সল (আরবি), আমিত্বের বিভিন্ন ধাপে টানাপড়েন। শেষমেশ অধিষ্ঠিতি। মানে ব্যক্তিগত এনার্জির সঙ্গে ইউনিভার্সাল এনার্জির মিলন। আজিবক বা আইনস্টাইনের ব্ল্যাক হোল কনসেপ্টে। আকার আপেক্ষিক। নিরাকারই ব্রহ্ম। 

গণ্ডগোল সাধল ভারতে প্রচলিত হিন্দু ধর্মের প্রতিপত্তি। গৌতম বুদ্ধ যখন রাজা প্রসেঞ্জিতের রাজ্যে অচিরাবতি নদীর ধারে, সাহেত ও মাহেত শহরে আশ্রয় নিল, আত্ম রক্ষার্থে প্রচলিত হিন্দু ধারায়  টিকে থাকার জন্য মূর্তি পুজোকে মেনে নিল। আরেক বৌদ্ধ ধারা শুরু হল। সংশোধিত হিন্দু ধর্ম – মাহাযান। ২৪ বছর ধরে ১০০০টি পদ্মের ওপর প্রচারের মধ্যে মূর্তি পুজোকে মানতে বাধ্য হল। সেটাই হল ধর্মের সর্বনাশ। নিরাকারকে আকারে বন্দি করতে গেলে যা হয়। পরমাত্মা কী জীবাত্মায় বিকশিত হতে পারে? 

৫০০ বছর পর ১৩ বছরের এক তরুণ সিল্ক রুট দিয়ে জেরুজালেম থেকে ভারতে আসে। স্বাভাবিকভাবেই পুরির গোঁড়া মোহান্তরা তাঁকে বিতাড়িত করলে ১৩ বছর ধরে সারনাথ, সিকিম, নেপাল, লে, লাদাক থেকে জ্ঞান আরোহণ করে ফিরে যায় জন্মভূমিতে। আজিবক, জৈন, বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে মনুষ্যত্বের ভাষা বলতে। তাদানিন্তন রাজার সঙ্গে সংঘাত। সে, মা মেরি ও তার ১৩ জন বন্ধু দেশ থেকে বিতাড়িত। ফিরে আসে  সিল্ক রুট দিয়ে ভারতে। এবার শ্রীনগর। ইউজ আসাফ নামে রোজাবেলে মনুষ্যত্বের মন্ত্র শেখাতে। ৮০ বছর জীবৎকালে এক পুত্র সন্তান রেখে দেহত্যাগ করেন। মৃত্যুর ১৮০ বছর পর এক কাল্পনিক উপখ্যান লেখা হয় যীশু নাম দিয়ে যাকে আমরা বাইবেল বলেই জানি। এরাই পলিটিক্যাল আধিপত্যের জন্য রোমানদের স্যাটার্নালিয়া উৎসবের সঙ্গে যীশুর জন্মের গল্প ফাঁদে।

তথাকথিত যীশুর সমসাময়িক রোম সাম্রাজ্য ডামাডোলে। রোমানরা সূর্য দেবতার পুজো করত। ধুমধামে পার্টি, আনন্দ উৎসব, উপহার প্রদান স্যাটার্নালিয়া উৎসব হিসেবে পালিত (১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর) যা পেগান ফেস্টিভ্যালের আকারে। শনির উপাসনা। কারণ শনি গ্রহই ইহলোক ও মহাবিশ্বের দ্বার রক্ষক। শনির আশীর্বাদ ছাড়া মহাবিশ্বে প্রবেশের লাইসেন্স নেই। আজও সেই প্রথা বর্তমান। জাজের কালো গাউন, ডিগ্রি নিতে হলে ছয়ভুজ টুপি ও কালো গাউন প্রহরীকে মনে করিয়ে দেয়। স্বীকৃতির জন্য শনির বরমাল্য প্রয়োজন। ইহলোক থেকে মহাবিশ্বলোকে। মৃত্যু কেবল এই যাত্রার ট্র্যাঞ্জিশন। বা এনার্জি পরিবর্তনের মধ্যস্থল। যা আইনস্টাইনের ভাষায় ব্ল্যাক হোল। 

পুজো করি না, চার্চে যাই না, নমাজ পরি না – ধার্মিক তো নই-ই। বরং বাহাউল্লার  (১৮১৭ – ১৮৯২) চিন্তাধারা ‘কসরৎ মেঁ ওহেদৎ’ (ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি) অনেক বেশি মনুষ্যত্বের কাছাকাছি। আমি তো বাহাই ধর্মের নই। তাহলে আমি কোথায়? 

একমাত্র হিন্দু ধর্মে মূর্তি পুজো ছাড়া প্রচলন অন্য কোথাও নেই। তাই আজিবক, জৈন, বৌদ্ধ, ইসলাম, খ্রিস্ট, বাহাই ধর্মের প্রতিপত্তি। প্রধান কারণ, কল্পনাপ্লুত মূর্তি ছেড়ে মনুষ্যত্বের আরাধনা। কাল্পনিক মূর্তির কাছে বশ্যতা, সোহমের কনফিডেন্স কেড়ে নেয়। দুর্বল করে দেয়। সংকীর্ণ বচসায় লিপ্ত করে ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সের জন্ম দেয়, যা আধ্যাত্মিক আরোহণের পরিপন্থী। তার ওপর যদি আচার যোগ হয়, দ্বন্দ্ব অবশ্যম্ভাবী। আধ্যাত্মবাদ থেকে বিচ্ছিন্ন। আত্মার ধ্বংস। 

মানে ‘যত মত তত পথ’-এর মতো ধর্মতেও ধোঁয়াশার কুয়াশা। 

তাহলে আমি কোথায়? সীমা-অসীমের না-জানা ধোঁয়াশায়? এখনও অজানা, অচেনা। মাণ্ডুক্য উপনিষদের চেতনার ব্যাপ্তিতেও অসীম অজানা। জাগ্রত স্তরে তো কেবল নিজেকেই দেখা। অস্তিত্বের তারতম্য নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অচৈতন্যের আরেক রূপ। স্বপ্নেও অর্ধ-চৈতন্য। ঘুমের আমি আর বাইরের তারতম্য ভেদে অপারগ। এ কোন আমি? গভীর সুপ্তিতে আমিটাই আচ্ছাদিত। দেহ, মন, ইন্দ্রিয় অস্তিত্বহীন। তুরীয়তে আত্মজ্ঞান জাগ্রত। আত্মা ব্রহ্ম মিলেমিশে একাকার। যেখানে নিদ্রা, জাগরণ আপেক্ষিক। 

তারও বাইরে মিনোস্কি ডায়াগ্রামের ‘এলস হোয়ার’। পরম রহস্যময়ের পথেই কী  আমার চেতনা? অনাধ্যাত্মিক আত্মা খুঁজছে সেই ‘এলস হোয়ার’? 

প্রজ্ঞানন ব্রহ্ম থেকে পাওয়া জাগ্রত চেতনার বিন্যাস। তার দৈহিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক বিন্যাসেই সভ্যতা। পঞ্চেন্দ্রিয় মানে অজানা। জ্ঞান জানা। বিজ্ঞান ব্যাখ্যা। সত্ত, রজ, তম ক্রমশ অচৈতন্য থেকে চেতনায়। সীমার মধ্যেই অসীমকে পাওয়ার হাতছানি। এর বাইরে প্রাজ্ঞানম-ই চৈতন্যে উত্তরণ। ঋগ্বেদের ধ্রুবতারাই ব্রহ্ম কি না জানি না। মহাব্যোমে খোঁজা মানে জাগতিক বলয়ের বাইরে। সেই অজানায় কী চেতনার পূর্ণতা পাওয়া যায়? যদি মানুষ অমৃতাস্য পুত্রই হয়, ব্রহ্মাণ্ডের ইউনিভার্সাল এনার্জির একাংশ, তবে সে কোন অজানা অসীমে খুঁজবে উত্তরণের চেতনা? তা কী কেবল মুনি-ঋষিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? 

অহম ব্রহ্মাস্মি বলে, ঘুমের সময় বা সদ্য জাগ্রত শিশুর জাগরণেই অচৈতন্য। জানা নেই অস্তিত্ব। অথবা আধ-চৈতন্য স্বপ্নের ঘোর। জানা, কিন্তু দেখার ক্ষমতা নেই। জাগ্রত ‘চেতনা’ পঞ্চেন্দ্রিয়র আমিত্ব বাসনা। সীমার মধ্যেই খ্যাতি, দ্যুতি থেকে অবলুপ্তি। শিকল বাঁধা সাংসারিক বলয়ে আমিত্বের আস্ফালন। ব্যক্তি অহং ছেড়ে চেতনার মার্গে ছোটার চেষ্টা। ব্রহ্ম দর্শন, আত্মা। আমার আমিকে না বুঝে অনির্দিষ্ট অসীমের নামে খেলা। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতার মধ্যেই অধিষ্ঠান। আমিই ব্রহ্ম, ব্রহ্মই আমি। মানে নিজের মহাবিশ্বের সঙ্গে মিলেই পূর্ণতা বা অধিষ্ঠিতি। আইনস্টাইনের ব্ল্যাক হোল বা এনার্জি কনভার্সন। 

অচেনা আমিকে দেখার মধ্যেই অসীমের স্বাদ। নিজেকে দেখা, চেনা, বোঝার মধ্যেই আলো। অসীমের আঁধারে নয়। আদেখা আমিকে দেখে ভয়কে জয়ের পথেই পূর্ণতা। সীমাহীন আকাশের অদৃশ্য কোণায় বা মন্ত্রোচ্চারণে নয়। সীমার বন্ধনে, চেতনার উন্মেষেই শান্তি। যেখানে বাহির আপেক্ষিক। চেতানাটাই বড়। বন্ধুবরদের মতো ধার্মিক উপঢৌকন নয়। 

বন্ধুকুলের আধ্যাত্মবাদের আড়ম্বরের লৌকিকতা প্রদর্শনের বাইরে, নিরাম্বর আমি। পুজো-পার্বণের মহাযজ্ঞ না করে, একান্ত নিভৃতে হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে খুঁজে পাচ্ছি আমাকে। আমার মনুষ্যত্বকে। শনি কঠিন শিক্ষায় সেই জ্ঞান দিয়ে আমায় সমৃদ্ধ করেছে। ঈশ্বর না আধ্যাত্মিক আত্মা, সময় বলে দেবে। নিজের আলোয় দেখছি ইহলোক, পরলোক। সব লোকের সমন্বয়ে জাগ্রত অন্তরের মহালোক। অন্তরের প্রণবধ্বনি বোধহয় ক্ষীণ হলেও শুনতে পাচ্ছি। মনকে নিতে ইহলোকের স্বপ্নমহলে। অগম্য পরম প্রশান্তিময় ভূলোকে।

Adhyatwik Atma

Advertisements

LITERARY INFLUX IN SOCIAL MEDIA

In recent times, the forms of communiqué have undergone a constituted metamorphosis. With the escalation of the ‘www phenomenon’ at whirlwind speed over the past ten years, a vista of possibilities unlocked.  I call it the other form of 21stcentury Damien. Only the script has changed from the traditional 666 to http://www.  With its several plusses, it is a tool yet to be handled adequately in a productive fashion. Whether Damien was truly anti-Christ, when the whole fable of The Bible was conjectured 180 years after death of Christ (vide The Christ Conspiracy by S Acharya alias D M Murdoch)in a Pagan format for political control in the name of religion, is a matter for appraisal in the light of new evidences. Without delving into the preached myth which mesmerised millions over centuries, not without bloodshed, the true form of Damien is yet to be ascertained in a new light, as of today.

Verbal literary discourse as in religious books, later scripted in a printed format became the linchpin of public didactics. Over years, it evolved almost one-way, with provider meting out a collection of prime stories to a section of the society in a panoptic printed form for the readers’ enrichment. Several epics like Ramayana, Mahabharata, Iliad, Odyssey, Epic of Gilgamesh etc followed. Like the Bible, some were scripted based on the propagated hearsay to a gen unacquainted with the original proselytization. It evolved, modified by those writing the printed format with their personal construal. Often it deviated from the original verbal version. The readers had but little choice of refuting its real McCoy served in printed salver. For centuries this remained the only avenue of delivery (not taking into consideration the rural tootles for smaller sections where literacy was an issue). For the illiterate, the village folklore iterated over generations as tales imbibed from their ancestors.

From writings on papyrus, inscriptions in places of worship, the printed version constituted the hallmark of legitimacy. It had its merits and demerits. It presented a stipulatory form to the readers with little chance of them to countervail, even if the material was false. Printed version remained the reliable proof for centuries despite its discrepancies.

Over years, in the process of evolution it underwent copious vicissitudes. With Keith Rupert Murdoch in 1952 changing the format of printed version with his News Corporation, its global expansion, questions on its equivocation were suppressed by those, who felt the facts were to be delivered for their advantage.

United Nations, ruling the global scenario after World War II, presented Hitler’s suicide, recorded in history, as the truth. Several books emerged, films made on this resolutely tailored slogan.  Hitler apparently fled to Argentina, residing at Hacienda San Ramón, east of San Carlos de Bariloche.  Later around 1954, he shifted to a remote, barely accessible area at the northwest of Lake Nahuel Huapi near the Chilean border in a Bavarian-styled manse at Inalco. He died on February 1962. Mainstream historians like Guy Walters contradicts its genuineness. Literature, often fiction, has a factual element. Who are we to believe? The historian or the exposed truth? Since history was then sponsored by United Nations for their prejudiced interests, it was projected as the history until the truth was exposed. Later evolving in literary, celluloid forms on their bigoted fiction.

If one were to believe the preached myth of the Gulf War by George Bush, Saddam Hussain had chemical weapons of mass destruction, again the perception would be biased. As good as crucifixion of Christ! A young boy from Jerusalem came to India via the silk route. Initially he was ousted from Puri by the Hindu pundits, later went to Sarnath, Sikkim, Nepal, Leh and Ladakh to imbibe the wisdoms of both religions for thirteen years. He returned with his sapient wealth to revolt against prevailing norm enriching people with the mantra of humanity, much to the ire of the existing rulers. He was evicted, returned by the silk route to Shrinagar with his friends and followers, to preach the essence of humanity in Rozabal, by the name of Yuz Asaf until his death at the age of eighty years. He was later depicted as the saviour Jesus Christ with a tale of his crucified death followed by resurrection. Medically hard to accept a person could die nailed in limbs, if one were to question the reality of The Bible, it seems more of a fable than fact. More so, by the so-called Jesus born without copulation from womb of virgin Mary. Now analysed, at that time Rome was in chaos. Romans worshipped the Sun God, celebrating Saturnalia (17thto 23rdDecember) which involved private gift-giving, week-long partying and a carnival air. Its concept coincided with the Pagan festival. To gain control of the chaotic Rome, a fable was yarned as The Bible, a character named Jesus depicted as the saviour, whose birth was made to coincide with the festivities of Saturnalia for wider acceptance, when, it was actually the 4thMay. The Bible was written 180 years after his so-called projected birth. So, through literature a canard became the established truth even with its copious loopholes(vide The Christ Conspiracy by S Acharya alias D M Murdoch).

Gautama Buddha, who after Enlightenment in Sarnath, preached his awareness to a Pali speaking businessman. He carried forth his doctrines south to spread it as Hinayana cult, without an iota of idol worship. The first book on Buddhism emerged from Singhalese arena. Later cornered by Hindu pundits, he took refuge in the kingdom of King Prosenjit in Sahet and Mahet on the banks of River Achiravati (known as Srabasti). Here he started preaching lounged on thousand lotus petals, sponsored by the king himself. To subsist in his kingdom, he had to adopt the sponsor’s views in line with the modish Hindu practice of idol worship. It later emerged as the Mahayana cult. In his twenty-four years of sermon there, by submission, he temporarily accepted the order of idol worship. Now, if the truth of literature were to be analysed, which teaching would be the right one – Hinayana or Mahayana?

This is precisely where the issue of sponsored literature in the form of slogan formed the anchor of evidence. It was later adopted by Rupert Murdoch in the media format. Tainting facts with slogan depending on the sponsorship. Print media thus transformed from a dependable way of literature to a gadget of publicity and slogan, in tune with the amount of dosh shelled for a specific intent. Mostly controlled by the deliverer, tailoring it to their ‘guidelines’ of the theme of ‘story’ (read propaganda) they want to yarn. Apparently authentic, it’s an eyewash to indorse the contracted slogan.

It took years for the consumers to understand the concealed shibboleth scheme. More they realised, more it fell into disrepute. The proponents under-estimated the intelligence of the readers failing to audit their credibility. It resulted in wrath regarding its authenticity, leaving no leeway for contradiction.  Handing yet another powerful weapon to a bunch of dodgy people for endorsing their views and politicians for ‘brain washing’ the masses in exchange of substantial amount. Sponsored literature was slowly losing its foothold. The content often tainted with colours to harp the motto of the sponsors. It brought some inappreciable entities to limelight, bilking the developmental growth of a scrawny printed literature.

Amid the decay the internet started expanding with its social platforms offering a fairer playground to express opinion or contradict, in the form of Facebook, Twitter, Google, LinkedIn WordPress, Hub Pages, blogs etc. Printing costs soaring high, the format often not portable in bulk, the fonts not zoomable depending on insight, export costs etc all summed up to a new avenue of literature – the digital format, which gained popularity as eBook. With mobiles and tablets cheaper, internet easily accessible with increased connectivity, it soon became an avenue of literary output.

Not all could get to a publisher to circulate in either format even with their potential. Even if lucky, new authors wouldn’t have enough buyers to reach the mass. The easiest portal for exhibiting their works were the social platform, blog sites. At least, there were sure-fire readers. A relief for the lesser known, many with potential and quality. The problem lay in the content delivered. Since social media is an open platform, anyone can post anything – legitimacy unproven, often inferior quality, craps inclusive. Sieving the quality out of the lot becomes a major hurdle. No literary police to hold the reins. For the fluky, they might discover a diamond mine with new thoughts and ideas, often missing in cliché publications.

One of the main drawback is the issue of copyright. Each literary work stands at a high risk of being plagiarised, which happens frequently. Writings or poems in simple writing format run a very high risk. With modern versions of Adobe Acrobat, even a PDF file could be altered in Adobe. Less risky is the JPEG format though for those conversant could be easily Photoshopped. Who ratifies the legitimacy in a social media? The answer is abstruse. The recent trend seems to be altering words of an original literature and presenting as duplicator’s own. Is it plagiarism? Of course, it is. Could it be proved in Court of Law? If astutely done, the answer would be an emphatic ‘no’. The intellectual right in most countries has an arbitrary definition in law often difficult to validate.

A literary creator has two choices – to leave his creations in coop of his home or exhibit it in social media for a widespread credence, accepting the risks of bootlegging. In other words, the moment the work is posted, he foregoes his rights for a larger audience. The audience in social media is colossal. Diverse, it’s almost out-of-the-way in printed or eBook format. The widespread reach without marketing gives the literature in social media a coercive viable substitute. So puissant that reporters even after their media publication, where readership is weaning, post their works in social media for a baggier audience. The crucial decision lies in this vital principle. Do I claim the literary creation as my own or do I freely distribute in social platforms forfeiting my exclusivity for a wider audience?  Of the several, most would come to know the name of the creator with a trifling possibility of being plagiarised by some. Where spread of name is prime, the risk seems to be trivial. Many are prepared to pay the price for the meting out their name.

It poses a tricky issue. Do you want to be known or remembered? If popularity is the vital, social media literature gives wide exposure, as its free. Whether they read or not what is posted, is their obverse. Many would, some won’t. In a published book, where people must shell out the brass, unless the book has become celebrated or ill-famed, only a selected would buy to read. Readership would be constricted yet the authenticity of ingenuity remains. Popularity and quality have never been hand in hand. Anyone in literature needs to be focussed on precedence. Social media outputs need to be tailored to the relevant platform for a section of decipherer. People would only read that is relevant or of interest to them. Not what the author wants them to read. Isolating the target client, the literature needs to be tailored for that social group. Timing of posting is relevant too. None would read serious stuff during busy hours of a working day. Conversely, if it’s weekend, say Saturday night or Sunday morning, one can expect a high audience at leisure hours.

Literature in printed or eBook format has a published legitimacy. The validity of content in social media is often apocryphal. How to confirm its veracity? Revert to what already cited in books or follow the new trend hitherto unregistered? No way can the fidelity be affirmed. Googling would only lead to published citations. Where does previously unpublished literary article stand, if only extoled in social media? Many issues remain dubious.

Despite the drawbacks highlighted, it gives a podium for new thoughts and interactive discussion, missing in printed or eBook format. Anyone could contradict the author, either with his personal gen or with info from the net. If most people, groomed by canonic texts and net search, concorded earth is flat, the modern Galileo would be at a loss to affirm it’s round. Ambiguity remains as in other formats. Only a healthy discussion might enlighten a neutral reader whose literary argument is to be accepted. This was amiss in literature in printed or eBook format, thereby promoting impartial insight.

The technological and internet boom has brought data to our finger-tips, the truth is ‘you can imbibe from the internet what is already fed in’. Creative concepts are not always available in internet. Most relish in vomiting info on the net.  Paucity of ingenuity in that milieu is often obvious. Genius’ can’t be cultivated in familiar grime. Only shift from stodgy gives the creative ingenuity. The spur, which is out of the blue, is a gift of God – one which perceives two entangled snakes as double helix, is the dream to be later established scientifically and technologically. In a social milieu that spur might spark, either to be followed by the creator or imbibed by someone else and pursued to staggering heights.

When history is written, who attorns the genius? Raman Effect discovered by Dr K S Krishnan, an associate of Dr C V Raman, was nullified when Dr C V Raman walked away alone with the Nobel Prize disregarding his revolutionary contribution. Till this date very few know that Dr K S Krishnan discovered it when Dr C V Raman had given up after 72 hours. Physics is abstract. The ideas, truth and laws of physics are independent of passion, sentiments, emotions of human beings. But physicists who deal with those principles are humans full of all mortal emotions, sentiments, greed, lust for fame. No point evading the veracity. Such incidences would happen again and again. In the rat race for fame, people only remember who can elbow in. The truth is often obscured by other components.

If a verity can be wangled sapiently, in literature there is ample scope. In literary world ideas are stolen, garbled in many circumstances. My published novel Dekha (In English The Vision) had been plagiarised on several occasions by film directors, claiming the story their own. Other than the first one, which slipped my attention before release, I had been successful in halting the other releases. Only to face again another bout of plagiarism by another film director, despite its content being off the social media. Intellectual copyright remains a prime issue with no patronage unless ‘published’. In social media it’s vulnerable, not accepted legally. Though date and time stamp are accompanied in all postings, don’t know of any law to endorse its validity.

An element of commerce is furtively creeping in the social posts and blogs. Pay for what you read. More the people read, more the rewards. It’s still in the hands of a crowd, who yet don’t know to respect it. The drawbacks of these platforms may not be apparent, but stealthily an element of commerce over quality runs as a sea puss amid the flamboyant exhibitionism. It raises a perilous issue, whether quality could be maintained amid commerce. ‘I Wandered Lonely as a Cloud’was written by William Wordsworth, when in poverty living in a shack in Lake District. Eternal creations aren’t allied to commerce. Whether these blogs would remain as epoch creations, time can only decide. As of now, it is a wild conjecture. When the website portals are withdrawn, both precious works as well as craps would be wiped out, never to be found in net domain. The literary efforts would go down the gutter without leaving its relics.

Religion, science, history, ideas have all been recognised through literature. It might be biased, sponsored, manipulated, plagiarised or concocted. If that evidence is lost, be in printed or digital format, the cogent evidence is lost.

The social media though ten years old is a tool still at its trial stage. An efficient platform, it could be utilised for expression to a larger fraction accepting its pitfalls.

Amid the disputation of a doubtful medium, a directive Pole Star of future needs to be identified. The tussle between Geocentric and Heliocentric would always be in dynamic equilibrium drawing a poise in arguments. It is equally important for a defiant, like Prometheus or Promotho, to kindle an ailing humanity out of eddies to ascend above the cliché norms, like a phoenix. As much as it took two thousand years to acknowledge the myth of The Bible, it could take years for a modern Galileo to establish the earth is round. The preached anti-Christ (vide The Atlantean Conspiracy by Eric Dubay)as mentioned by the 666, may be the true alien Christ than the projected myth dominating for centuries. Time has come to audit bygone sponsored dubitable literature. Until its true nature is conceived, it would be foolish to attribute any vanity ventures as one of tomorrow.

My personal contention is of the several forms of social platform, the twitter (not literary) would stay to connect with unacquainted or those without known contact. LinkedIn would remain for the employment and business seekers. WhatsApp as free medium for messages, photo, video exchange. WordPress, Google Blog, Hub Pages for literary, photo-essay output. Facebook like Orkut would die its natural death due to loopholes in legislation in a mixed environ without a focus, except business. Time only could validate the authenticity of my speculation. Until then let’s keep the conjectures aside to see the authenticity of any venture.

It is the longevity on a stable foundation which carves the path of future, one which can transform a coal into a glittering diamond, prime and sustaining. The rest would fade with passage of time. No matter how far technology progresses, it cannot supersede a dream like Pushpak Rath,later factually established as an aeroplane. Facts can only establish the authenticity of a conceived speculation. It’s this rock foundation, which form the bonding of a literary relationship between deliverer and consumer outside multifactorial cacophonies.

Literary Influx In Social Media

 

Scientific Theories in Literature

Fiction literature has predominantly been the forte of liberal arts folks inditing literary work with emphasis on incidents, interpersonal relationships, historical tales, social events etc. often blended in varied permutation/combination. The reason being, the exponents of fiction were usually from a non-scientific backdrop.

Life is a voyage flaunting its colours in a multitude cavalcade of veiled façades. In the year 2006, I sustained a fracture of tibia, which confined me in a wheel chair for 6 months. Continuing my hectic practice, even in wheel chair, my social life came to a standstill, as I was quarantined from my other vibrant activities. To make the best of my solitary internment, I resorted to my forlorn hobby to explore a bygone facet cherished in adolescence, fortified by my literature-loving engineer father and literary mother, until the coercions of my professional career jostled it to the archive.

To make the best use of this internment, I was toying with idea of picking my literary hobby into scripting a novel.

Being a man of science striving to the literary realm, the Venn Diagram Theory of Mathematics forming the backbone of my debut Bengali novel ANWESHAN, later translated in English as QUEST. Venn or Euler Diagram denotes all possible relations between a finite collection of diverse sets, each set consisting of multiple overlapping closed circles. The interior of the circle symbolically represents the elements of the set, while the exterior represents elements, not members of the set. If these overlaps could be taken as human relationships, then each such could be depicted as human relationship like parent-child, husband-wife, lovers, opponents etc. Human interactions could be depicted by the intersecting circles. The amount involvement could be denoted by the extent of imbricate of the circle. In spite of multiple overlays of varied degree, there is still a portion free of these intersects. That’s the discrete sovereign soul, free of burdens of interactive relationships. Here I strived to reveal the concept of home in an atypical light.

Explicit relating human relationship, fertile enough to fulfil such a concept, regardless of their social stature and biological liaison. Here, I moseyed in the quest of humanity. In addition to others, the three leading vital characters are adeptly interlaced, throwing them into the vortex of intriguing modern life, where naivete gets drowned. They instantiate middle and upper-middle-class, full of fervent intensity, in search of an identity, to make their life evocatively stimulating. Lean captive souls, yen for freedom amid ubiquitous allure pleas. The principal ones under incidental pressure lunged by relation bondage, highlighting their dilemma. Do they possess rock-hard footing reliable enough to be the kernel of humanity? Bond of love tangled in the intersecting interpersonal relationships. Only when free from these, could one delve into their liberated soul – the portion free of these intersects. Amid the mortal pursuits, they are in quest of that profound core of their soul. Lending them a vent to the sublimity of home, beyond social paradigms. The novelconfirmed an endless journey of life with the hope to eventually realize, family is not always one’s flesh and blood, but feelings too. The extended relationships forming the essence, attained when flesh, blood with protein were fused to their pulsating heart. This new concept became an instant hit to the bestseller list, breaking all records.

My next science related venture was with another of my bestsellers TOMAKE later translated in English as THE MOMENT. It’s the tale of another realm. It conveyed a talismanic message from time’s internal cave. How to apprehend the concept of time.

Nothing new for two people to be beguiled by each other. This novel sees them in a new light. Is love and desire the same? Can these be put in the same paradigm of discernment? Is there a wafer-thin line delineating them apart, yet so close? Each have their own percept of the truth. Some would say love is abstract, desire concrete. Is it so? Desire could be abstract too. Could love, be explained by the chemical theories? Science has a clinical definition. Its cardinal is in certain hormones and cerebral neurotransmitters. Is bioscience the best alternative to its discernment? If so, the beauty of love would be lost in the scourge of fallacy. Is love a play of hormones and neurotransmitters? Is truth merely a perception of the apparent than absolute? Can a moment of pristine love eternally exist? This novella delves into the literary probe into the ever-eluding concept of love. An experiment in textual epithet of the blend of reality with fantasy.

The story-telling here was chronicledin the hoary ritual of the assibilation of a love-relation between a man and a woman in the form of a compendium of their passionate lyricallove-letters to each other, over a period of linear time. The two protagonists in this novel are in quest of that elusive answer, landing themselves in an eldritch cusp of time. As one letter follows to the next, the reader is deceptively led to believe they are into an orthodox love story, tactfully lulled to the safety of their known dimension, where time is linearconsisting of Past, Present and Future. They are forced to review accepted familiar social acuity of human relations on a linear time scale involving the Past, Present and the Future. The evolution of any such relation is a voyage from the Past to the Present onto the Future.

Until their comfort artefact is shattered at the very end of this chronicle, with the concept of time transmuting from its linear dimension into its fourth Vertical dimension, the Vertical Time!In the light and shade of this abstract maze, the two protagonists are flung to their subconscious, titillating them to play the game of love over surreal time.The reader groks the incidents in the chronicle occurring concurrently. This deplumes their mirage of linearity to spring an awareness like an epiphany, truth and love can’t be qualified or quantified by only the linearity of the time, but by its absoluteness.  This cuts into the familiar mode of groking life, experience, feelings and relations. It takes the reader to an alien realm stimulating to volte-face the very reality of existence. It’s this cusp known in science as Vertical Time which is reverbed in the syllable ‘OM’, the original primordial creative sound from the humming cosmic energy also called ‘Anahat Nada’ which represents the vibration of the purest Supreme or Universal Energy as depicted in the Manduka Upanishad. The three distinct syllables A-U-M as in OM represent the three psychological states – waking, dreaming and dreamless deep sleep. The fourth one, ‘Turiya’is the state of perfect bliss where an individual amalgamates his identity with the Supreme. That’s where time stands still and veers away from the well-known linear movement.

My next scientific infiltration into literature was with another of my bestseller CANVASE, later translated in English as CANVAS. Seven is a magical number in Nature. The seven hues of the rainbow are the kernel of the colours of the cosmos. Newton’s Colour Theory states the colours fuse to white in light or black in dark. These are perceptible platitudes of the spectrum. Beyond the visible, the ultraviolet and infrared play a sizable role for those who desire to look beyond the familiar pastels. Amid the identified colours of the canvas, only a few realise its significance. Those who can sense them, realise the mortal limitations onto an awareness to the realm of endless eternal bliss. An experimental novella, it dissects the prime female protagonist into the seven facets of feminine roles in society, like the motley prismatic array of the spectrum. The naïve college lass, the artist, the danseuse victim, the slut, the pro, the vocalist, the wife, the mother is a veracity of life’s ever-changing pennants. They are a deceptive mirage in pursuit for the eternal nirvana, amid their varied feminine facets. The seven dissimilar short stories of females in their diverse social roles, are entwined into a single novella.  Finally illuminating the readers to the cognisance of eventual mortal utopic nirvana in the nebulous cradle of peace, which many forget amidst their worldly chores. The mortal fiasco to find the real abode in the Universe, hailed by the hymnody of tranquil totality.  An eye-opener for those who aspire the sublime consciousness.

The next move into literature with scientific backdrop was my English novel ETERNAL MAYHEM. It’s spotless adrenaline raiser, a touch chalk and cheese grand narrative with numerous puzzling scientific murders occurring worldwide. This complex cliff-hanger keeps the reader’s adrenaline spurting from the onset as scientific murders take place in exotic global locations. Beautiful lassies, intelligentsia, global scientists are trapped in this white-knuckle masterpiece with all the twirl and twists that will keep the readers rapt. This volume is more than a murder mystery, to transport the reader from comfy lounger to a steaming isle, be it Bali, Fiji, Hawaii, Maldives, Bora Bora, Punta Cana or exotic nooks of Jamaica and Puerto Rico.

The book based on the villain’s morbid idea of racial supremacy and the fascinating idea of creating a new genetically super-race by genetic manipulation.  The narrative deals with the avant-garde ontogeny of genetic science concocting with a global spread-out of locations and characters. The search for a pure Aryan Race through genetics isn’t new, but bottling it with a fast-moving thriller, the proverbial old wine is distilled to a new brand. This fast-paced thriller shifts from exotic locales to high-tech labs, from countries to countries, from continents to continents. Beauts mingle with astute scientists. Death comes all of a sudden. The gripping story has all the ingredients of an excellent suspense-thriller with liberal doses of sex and humour. In the process, the global scientific world of genetics gets swathed into the whodunit.  Amid the scientific essence of genetic cloning research, it’s a scarper from the familiar concepts, to the roots of civilisation with its resultant diversities. It reveals shocking truths, so far clandestine. The apogee seals in a startling eye-opening truth of humanity, offering a thought-provoking riveting thriller.

In the next English thriller CONUNDRUM, immix of mathematics with murder added a diverse taste. A serial murderer is on the prowl in metropolis Kolkata. Several seemingly wanton murders with murderer pre-informing of every murder to an astute Professor of Statistics from Indian Statistical Institute. The victims, of both genders, are from diverse social strata without obvious connection. Police is at a loss without apparent motif, patterns of them with murder-weapons off-the-wall but distinctive. Perplexing why this professor is hooked into it. Precisely, when a prehensile tech-savvy accoster logically kills people innovatively at random without an ostensive reason. Arcane when this smart as a whip proclaims the details of each victim before getting rid of them. A challenge! Chilling, when an erudite prof is looped into these freaky games. Apparently wanton without known motives ranging from classic greed for money and/or power, eternal lust for sex, the ever-present revenge for some real or imaginary crime, lofty ideals, does it have all furtively packaged? The question looms, can this intelligent prof rip this enigmatic sudoku?

It’s mind games in a scientific style. The apogee seals in a startling eye-opening truth, offering a thought-provoking riveting thriller.

Often people are reluctant to read scientific truths in a non-fiction form. These novels not only give common people a bird’s eye view of the subject, but for the discerning, a deeper insight into the relevant subject in a lucid literary form. If we understand the kernel of human life is at the cradle of Nature, science reinforces its truth in a logical form. If literature could be mingled with science and philosophy, it would exalt the knowledge of the readers, who seem averse to reading non-fictions. Icing with philosophical truths would leave the readers, something to ponder. Also ensure sustenance beyond the current epoch.

Ostentation, Social Media and Humanity

“Rest in Peace” or RIP – three touchy words which implied a silent prayer for the departed has morphed with the same text, but lacking the human touch. Treading many deaths of near and dear ones in the last couple of years, with upsurge of exhibitionism in different avenues of social media, i.e. Facebook, Twitter, WhatsApp, Goggle, LinkedIn etc., it highlighted the abstruse three words.

We all are aware, death is the inevitable prognosis of being born. We aren’t aware of its timing only. For some, it might occur unpredictably at an incredible age under off-the-wall situations. For others, it is the aftermath of an aging process, the life span varying in different individuals. In realistic terms, it is the termination of a mortal process, the finale of the physical being. In our mortal life, this marks the ultimate interaction with the individual, be it in present or past reality, or virtual reality of social media.

No doubt, in the www age, social media has become a part and parcel of our existence today. With messaging, human interaction weaned to the press of a button. Even that click on the button would’ve had the same effect, where silence is only mode of condolence verbalism. In few deaths over a couple of weeks of close friends, amid a thread of condolence messages, it was a blow out of the water to see other ‘common friends’ suddenly posting their or family’s pictures with the ongoing thread. Was it the right moment? Opinions may vary, arguments may be put forward for justification “Just because someone has died, doesn’t debar anyone from posting selfies and other pictures”. Is it appropriate for a disco dance in a Sraddha milieu? Accepting both are part of life. Taken aback, balled over even in techno-savvy progressive milieu, I was at a loss. Where are we heading? Is human relation all about fanfare of presence?

It raised a critical question, where are we advancing?

Having spent most of my life without the social media, either to boost the identity or inter-personal communication, a gift from Alexander Graham Bell after its repeated alteration, had been the communique mode, wired or wireless. When a caller called, I could feel a human voice with fragment of emotions in its tone. With smartphones gradually percolating the communique scenario, it shortened to texts than voice, where the message was obvious, emotions weren’t. With wildfire of social outlets, the costing texts found its way to the internet domain, which didn’t charge for individual messages. Yep… financially more viable. Until then or recouping old confrères was good enough function of the nascent social platform sprouting without structure, direction or legislation.

More than interactive communiqué, it soon became a platform of political slogans and publicity machinery, family album and worse still an hourly calendar reaching perilous expressions of psychological insufficiency or precisely identity crisis. The celebrities flooded it with their media clips, desperate to establish a niche amid muddled identity. If one is known, does he/she need to harp the media presence on a periodic basis? If one delves deeper into the psyche, element of insecurity is at its crux. For those, not fortunate to be a celebrity, basked in their reflected glory with other celebs, posting pictures with them, thereby appending to celeb penury.  This soon led others treading the trail posting pictures initially with their family and friends, later of themselves alone or in group as ‘selfie’. Even eminent persona joined in the trend. Often these picture posts are on a daily to an hourly basis, endorsing their mental deprivation only to be classified by American Psychiatric Association as ‘SELFITIS’, a psychological disorder. A fresh mode evolved in its presentation. For any social or national occasion, the greetings included a picture of their profile.

What Swami Vivekananda actually meant by ‘leave a mark in life’, the social bundle re-defined him in their own interpreted light of selfitis.  With human interaction waning to the press of a button, even in adequate human milieu, people became mobile freaks. It became more important to post a cosy dinner in social media than enjoy it in the company of others. Technology took over the reins of human interaction shoving them into solitary tech isolation. As human interaction diminished, in despair people clung more to the social platforms. Rather than cultivate furtive qualities, exhibitionism without content became the avenue of ‘leaving a mark in life’. People stopped reading, understanding. Supplementing with ‘likes’ to gain popularity or other vested interests trying to build a footmark in virtual world hoping for its reflection in reality, which expectedly was amiss.

Often, it makes me wonder, whether these ‘likes’ on profiles mean anything at all, other than slaking a desire of existence amongst some. Any adverse opinion is distraught which could result in being ‘unfriended’ or ‘blocked’. A virtual world thus survives on same principles as reality “Talk my language or you aren’t in my world”. This further proves the insecurity in a desperate attempt to gain a herd of cliques. Everyone may not be a celebrity, but the insecurity is same for all. They forget it is themselves they can only control. It’s their inner strength which establishes the identity, not a herd flocking around or endorsing their silliness.

The ostentation is reaching dangerous heights on these new established platforms. The more the exhibitionism, more the human pauperisation. Technology has advanced to catalyse human interactions. When it takes over humanity, what technological robots is the future creating? Another Frankenstein? Time to ponder than leap.

Cover Artist : Aditi Chakraborty

 

আ মরি বাংলা ভাষা

একবিংশ শতাব্দীতে বেশ কিছুটা হাঁটার পর খালি শুনি ‘গেল গেল’ রব। বিশ্বায়নের ঘোর কলি নাকি বাংলা ভাষাকে গ্রাস করবার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সংকুচিত লেখক কবিকুল তাই দিশেহারা। যেন দুনিয়ার লোকের আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই। কেবল বাংলা ভাষার পেছনে লেগে তার অধঃপতন আনা ছাড়া। বুঝতে পারেনি তথাকথিত গৌরবোজ্জ্বল বাংলা ভাষার অগস্ত্য যাত্রা বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল। দেশি মিডিওক্র্যাটদের মধ্যমেধার দাপটে তা যৌবনের অন্তেই জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। প্রৌঢ়ত্ব বা বার্ধক্য জাতীয় কোনও বিশেষ পরিণতির তোয়াক্কা না করেই। ‘বাঙালি বা বাংলা’ বিষয়ক আধুনিকতা, যা একান্তই কলকাতা-ভিত্তিক, তা বর্তমান ভৌগোলিক বাংলায় মাত্র দু-আড়াইশো বছরের উপনিবেশপর্বের অবদানমাত্র। এই পর্ব একাই মহাভারতের সাপেক্ষে ‘আঠারোশো’। তার আর কী-ই বা দরকার, দু-দিক থেকেই?

বঙ্কিমচন্দ্রের বাংলা ভাষা থেকে রবীন্দ্রনাথ বা শরৎচন্দ্রের ভাষায় যে বিবর্তন এসেছিল, রবীন্দ্রোত্তর পর্বে, কর্পোরেটর আধিপত্যে পুষ্ট লেখকরা, সে বিবর্তন আনতে পারেননি। তার প্রধান কারণ এই কর্পোরেট পুষ্ট লেখকরা বেশিভাগ বাংলায় স্নাতক। একমাত্র নীরদ চৌধুরী বা সমর সেন ছাড়া, যারা বাংলা সাহিত্য চর্চা করেছেন, তাদের ইংরেজিতে তেমন দখল ছিল না। অনেকে ইংরেজির অধ্যাপক হয়ে বাংলা ভাষায় লেখালেখি করলেও, প্রধানত বাংলা মিডিয়ামের বা বাংলার স্নাতক হওয়ার জন্য, ইংরেজি অ্যাক্সেন্টে সড়গড় ছিলেন না। তাদের সাহিত্যের পরিধিও পূর্বাঞ্চলের ব্যাপ্তির বাইরে বেরতে পারেনি। শরৎচন্দ্রের ‘পশ্চিম’ আর এখনকার ‘পশ্চিমের’ মধ্যে বিশাল তফাত। শুধু ভৌগলিক দিক দিয়ে নয়। মানসিক দিক দিয়েও। এই বিবর্তন ফল্গুধারার মতো ঘটে গেলেও, কর্পোরেট মখমল পুষ্ট লেখকদের ক্ষমতা ছিল না, ভাষাগত দিক দিয়ে সে বিবর্তন আনার। বাংলা মিডিয়াম স্কুল থেকে ইংরেজি উঠে যাওয়া দুর্গতি বাড়িয়েছে, এই কর্পোরেট পুষ্ট বাংলা সাহিত্যিকদের। ধান্দা করে কোনও ‘অ্যা’মেরিকান ইউনিভার্সটিতে শর্ট-টার্ম বাংলার অধ্যাপকের ফরেন ট্রিপ জোটালেও, ‘অ্যামেরিকা’ যে ‘আমেরিকা’ নয় সেটুকু বলার ক্ষমতাও ছিল না। আজও মেরুদণ্ড নেই।

‘সেই ট্র্যাডিশন আজিও চলিয়া আসতেছে’

তাই ভয়। গেল গেল রব। নিজেকে যুগোপযোগী না করার ব্যর্থতা।

সারা পৃথিবীতে সাহিত্যের বিবর্তন হলেও, বাংলার মুষ্টিমেয় লোকের হাতে তা এখনও বন্দি। তার প্রধান কারণ আশির দশকে সাহিত্যের কাণ্ডারিদের আকাস্মিক হাত-বদলের কারখানা ভাষার দিকনির্দেশক। তারাই যাদের প্রজেক্ট করেছে, তারাই সাহিত্যিক, বাকিরা নয়। এখন তাদের সাহিত্য কারখানা অস্তাচলে। সেই সঙ্গে পুষ্ট লেখকরাও। হাজার চেষ্টা করেও তো একবিংশ শতাব্দীতে লেখক তৈরির কারখানাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেনি। তার প্রধান কারণ, সাহিত্য সৃষ্টিধর্মী। কর্পোরেট ঘেরাটোপের আবদ্ধতায় সৃষ্টি হয় না। নিজস্বতা না থাকলে গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। তাই স্থানওপাচ্ছে না।

এখন বিশ্বায়নের সঙ্গে সময় হয়েছে বদ্ধ ঘর থেকে বেরিয়ে জগতটাকে দেখার।

দেখলে ভাল।

নইলে জাদুঘর।

রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। রবীন্দ্র পরবর্তী যে পরিবর্তন চুপিসারে সন্তর্পণে আসছিল, বুঝলেও নিজেদের অক্ষমতার জন্য তাঁকে ধামাচাপা দিয়ে অস্বীকার করেছে। তাহলে তো সরে যেতে হয়। নৈব নৈব চ। তাই দলবাজি, ক্ষমতা দখল, হারিয়ে যাওয়া থেকে অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়াস। বিবর্তনের দমকা হওয়াকে দমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা। তুষাগ্নির মতো স্ফুলিঙ্গ যে একদিন গ্রাস করবে, ভাবতেও পারেনি। আগুণের ঝলকটা দেখলেও, তাপ বুঝলেও, তা যে একদিন দাবাগ্নির মতো বেরিয়ে বাংলা ভাষাকে নতুন লাভার জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বুঝতে পারেনি। এই মখমল পুষ্ট কিছু উচ্ছিষ্ট তাদের মোসাহেবদের কানে কানে সেই মন্ত্রই দিয়েছে। মোসাহেবরাও তো তাদেরই মতো মিডিওক্র্যাট। তাই তাদের গুরুবাক্য হজম করে, কলেজ স্ট্রিট থেকে নন্দন কানন দাপিয়ে বেড়িয়েছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়। অস্তিত্ব সংকটে মরিয়া রাজনৈতিক তাবেদার, তাই ভাষার বিবর্তনের দাস না হয়ে, অস্তিত্বর ক্রীতদাস। ভাষাকে বৃহত্তর পরিধিতে নিয়ে যেতে গেলে যে যোগ্যতা থাকা বাঞ্ছনীয়, তা এদের নেই। তাই, যে ভাবেই হোক, টিকে থাক।

আর টিকে থাকার জন্য কিছু হাইপড লেখককে তো কর্পোরেট ফেলে দিতে পারে না। এরাই তাদের ব্যবসার চাবিকাঠি। গোলি মারো বাংলা ভাষা। টাকাই কর্ম, টাকাই ধর্ম, টাকাই অস্তিত্ব, টাকাই বাঁচা। তাই সংস্কৃতি। আজকের অস্তিত্বের নীতি। যা পাতে দেবে তাই খাবে। একবিংশ শতাব্দীতে দুনিয়ার ভোল পাল্টালেও, এরা এখনও রাবীন্দ্রিক ঘেরাটোপে আবদ্ধ।

রবীন্দ্রনাথ ছাড়া তো আর আমরা কিছুই ভাবতে পারি না

ভাবতে গেলে তো মুরদ লাগে। সে মুরদ কোথায়? ইংরেজির সীমিত জ্ঞানে, তাকে সাহিত্যের আনতে অপারাগ। বাংলা-ইংরেজি-হিন্দি মেশানো ভাষা অপভ্রংশ। বাংলা ভাষার সর্বনাশ করছে। রোজ যে ভাষায় অগণিত মানুষ কথা বলছে, তা নাকি নিকৃষ্ট। অপাংতেও। জ্ঞানী গুণীর ভাষা নয়। কারণ আমরা ওদের মত ‘আধুনিক’ নই। আমরা আমাদের মতো। বিগত দুনিয়ায়ই আমাদের গতি। তাঁকে বেচেই আজকের সংস্কৃতি!

যদি বা জ্ঞানী গুণীরা তাদের ভাষায় লেখা আপামরকে পড়াতে পারতেন!

সেখানেও অক্ষমতা!

লোকে বালি থেকে বোরা বোরা ছুটছে, কিন্তু তাবেদারের খাঁচায় বন্দি বাংলা ভাষা আজও রবীন্দ্রনাথের গুণগানে পঞ্চমুখ। রাবীন্দ্রিক দূরদর্শিতার ছিটেফোঁটা হজম করতে পারেনি। যে মহান পুরুষ সে যুগে বসে ‘শেষের কবিতা’ লিখতে পারেন, তিনি ইংরেজির এ থেকে জেড হজম করলেও ‘জ্ঞানী মানি অশিক্ষিত কিংবদন্তি’ (মিডিয়া তোষামোদের পুরস্কার) তার প্রেরণাটুকুও হজম করতে অপারগ।

শূন্যতা দিয়ে পূর্ণতা আনা যায় না। তার জন্য চাই অধ্যাবসায়, মনন আর চর্চা। অ্যাকাডেমি (মাপ করবেন ‘পণ্ডিতদের’ অ্যাকাডেমি বানানটাও বিভিন্ন ব্যাখ্যায় শোভা পাচ্ছে, ‘একাডেমী’ চত্বর থেকে বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন পিঠভূমিতে) যেখানে পূর্বাঞ্চলের এক্তিয়ার হয়ত বা বাংলাদেশ থেকেও এখনও বহুলাংশে ভাষাগত দিক দিয়ে আবদ্ধ। যেখানে এখনও অনুবাদ কিংবা শার্লক হোমসের অনুকরণ বাঙালি চিন্তাধারার ব্যর্থতা, অনেক গোয়েন্দা উপন্যাসের সংক্ষিপ্ততা উচ্চারিত, বিক্রিত ও সমাদৃত।

সেখানে যে গেল গেল রব উঠবে, এ আর আশ্চর্য কী?

মিডিওক্র্যাট মোসাহেব সংস্কৃতির বাজারি দালালদের হারানোর ভয়।

এর জন্য বহুলাংশে দায়ী, এতদিন ধরে রাজত্ব করা বাংলা সাহিত্যের বাজারি সম্রাটরা। কর্পোরেট পুষ্ট, দিক ভ্রষ্ট, চিন্তারোহিত লেখককূল। যারা অস্তিত্ব রক্ষাকেই মূলমন্ত্র জেনে বাংলা ভাষাকে নিজেদের বেশ্যালয় সমর্পিত করেছেন। বাঙালিকে মানুষ হতে দেয়নি। নাবালক বাঙালি এদের ওপর ভর করে স্টারডম খুঁজেছে। গত দিয়ে তো স্টারডাম আসে না। আসে নতুন চিন্তার বিন্যাসে। বাঙালি তারকা চায়। নতুন চিন্তাধারা নয়। কলোনিয়াল নাবালক, মালিক কিংবা কর্পোরেট মিডিয়ার পেছন চেটে রাতারাতি সেলিব্রিটি হলে নাম, যশ, প্রতিপত্তি।

বিদেশি সাহিত্যকে উনিশ-বিশ করে নোবেল জয়ের মূর্খ বাসনা। না পেলেই রব। কুয়োতে সরব। আক্ষেপ, হা পিত্যেস, রবীন্দ্রনাথের চর্বিতচর্বণ আস্ফালনেই ক্ষমতার শেষ। তাহলে কী বিদেশি ‘আগ্রাসনে’ বাংলা ভাষা টালমাটাল? কে চেনাবে কাকে আগামী কাল?

মৃত কর্পোরেট?

না কি, অচেনা অন্য এক সখের সাহিত্যিক। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জনিয়ার, কেউ বিজ্ঞানের মেবাবি উত্তরসূরি, কেউবা সখের সৌখিন কাণ্ডারি। রেকর্ড থেকে সিডি, অ্যানালগ থেকে ডিজিট্যাল ক্যামেরা, ছাপা বই থেকে ই-বুক, আগামীর মতো এরাই আগামীর কণ্ঠ, চিন্তা, বিন্যাস। বাংলা ভাষার বিবর্তনও অবশ্যম্ভাবী। যারা মেনে নিয়ে নিজেদের পরিবর্তন করতে পারবেন, তারা টিকবেন। না হলে, রেকর্ডের মতো অ্যাণ্টিক হয়ে জাদুঘরে পরিণত হবেন।

সময় হয়েছে পুরনো থেক নতুনে আসার।

সময় হয়েছে অতীতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামীকে বরণ করার।

সময় হয়েছে আজকের যুগে পা রেখে আগামীকে দেখার।

সময় হয়েছে কালকের ভাষা শোনার।

সময় হয়েছে কালকের কথা বলার।

সময় হয়েছে নতুনকে আহ্বান করার।

যারা করতে পারবে, তারাই টিকবে। বাকি সব ইতিহাসের পাতার জাদুঘরে তোষামোদির মেডেলের অলংকার নিয়ে বিবর্ণ ধূসর।

এখন দেখার, কে আগামীর অগ্রসর?

 

আগমনী

“মা আমাদের পূর্ণ উচ্চারণ, প্রথম পুণ্য অনুভব

মাগো যেদিকে চাই, সেদিকে রয়েছ তুমি

তুমি শুভ প্রতীক, জীবনবোধের অবারিত বাসভূমি

তুমি ভোরের আলোয় ভরা পবিত্রতার চেনা মুখ

স্নিগ্ধ, শান্ত, প্রসন্নতার চিরসুখ

ভবনে থেকেও তুমি ভুবনগামী

মাগো যেদিকে চাই, সেদিকে রয়েছ তুমি

একটু চোখের আড়াল হলে অভিমানে বহুদূর

ক্ষমায় আপন তুমি মোহন বাঁশির মিঠে সুর

অন্তরে থেকে তুমি অন্তর্যামী

মাগো, যেদিকে চাই, সেদিকে রয়েছ তুমি”

এক অজানা সর্বশক্তিমানকে যুগ যুগ ধরে মানুষ কল্পনার চোখে দেখেছে। কারণ পৃথিবী সৃষ্টির আদি অনন্তকাল থেকে পূর্ব পুরুষেরা শিখিয়েছেন ক্ষমতা বাইরেও এমন কোনও শক্তি আছে যে আমাদের জীবনের গতিপথকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই সর্বশক্তিমানকে তাদের সর্বস্ব দিয়ে ভক্তির অর্ঘ দিয়েছে। কখনো বা এই অজানা অচেনা তীব্র শক্তিকে একাকী নিভৃত আঁধারে, কখনো বা কোনও বিগ্রহ রূপে, কখনো বা কোনও মহাপুরুষের বাণীকে পাথেয় করে ধর্মের কাছে সঁপে।

যদিও ধর্ম ইতিহাস সাক্ষী বহু ধর্ম যুদ্ধের, তাকে উপেক্ষা করেই ধর্মের প্রবক্তাদের আনুষ্ঠানিক ভক্তি-শ্রদ্ধা জানিয়েছে। রামচন্দ্রের অকালবোধন ঠাই পেয়েছে শরতের সুপ্রভাতে, ঘরের মেয়ের আরাধনায় – স্বর্গলোক থেকে মর্তলোকে, কল্পনার দেবীকে বড় কাছে পাওয়ার চারটে দিনে। শুধু কাছ থেকে পুজর অর্ঘ নিবেদনে নয়, দেবী ও তার চার পুত্র-কন্যাকে নিজের করে পাওয়া, আনন্দঘেরা উৎসবে। পুজ আসছে। ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’ – ভুবন মেতেছে পুজর উৎসবে। মা কল্পনার মহাবিশ্ব থেকে বাস্তবের মাতৃগৃহে ছুটি কাটাতে আসছেন।

তাই আমাদেরও ছুটি। আনন্দোৎসব। দুর্গোৎসব।

নতুন নতুন থিমে সাজাচ্ছে কাল্পনিক মাতৃত্বকে। কল্পনার দেবীর রূপ ও আঁকার পাল্টেছে, যুগের তালে তাল রেখে। নিজেরাও সাজছে নতুন বেশে, মাকে ইহলোকে বন্দনা করতে। রাগ, ক্লেশ, বিবাদ, দুঃখ ভুলে একসঙ্গে মিলতে, মায়ের আগমনী আসরে। একই ছন্দে, একই তালে, মায়ের বন্দনাগানে।

সর্বশক্তিমান তো অন্তরের শ্রদ্ধার প্রতীক মাত্র। বিগ্রহের পুজর বাইরে তো হাজারও মা লুকিয়ে আছে আমাদের মধ্যে। গৃহবধূ থেকে না-চেনা বধূ। এই মাতৃত্বের রূপ যুগ যুগ ধরে পাল্টেছে। কখনো আটপৌর শাড়ীতে জননী রূপে, কখনো বিবাহের বন্ধনের বাইরে লিভিং টুগেদার সম্পর্কে, কখনো বা গণিতের ‘ভেন ডায়াগ্রাম থিওরি’ আকারে জৈবিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে অন্তরের না-বলা ছন্দের নিঃশব্দ মৌনতায়। এই মৌনতায় মধ্যে অচেনা জীবনের স্পন্দন। যেখানে বাজে না-চেনা রাগ, ঝঙ্কার তোলে না-বলা মাতৃত্বের বোল। সে সুর তো আমাদের মধ্যেই। শুধু তাকে পরখ করাটাই অজানা। নিঃশব্দ মৌনতায়, আপেক্ষিকতার মোহ কাটিয়ে, অন্তরের নিভৃতে। যেখানে অজান্তে, অলক্ষ্যে বেজে চলে লেসারের কম্পন, জা মিসেল জার অজানা নতুন সিম্ফনি।

rozabal_shrineগামী দিনে এই সংজ্ঞার বিবর্তন হবে। বন্ধনের বাইরে মাদার মেরির যিশু খ্রিস্টেকে জন্মের রূপকথা আপ্লুত করবে না আমাদের মূর্খ চেতনাকে। সেদিন আরেক যিশু ইউজ আসফ নাম নিয়ে, কোনও এক রোজাবালে বসে শোনাবে আজিবক, সনাতন ধর্মের মূলকে পাথেয় করে, আকারহীন সত্যের অমৃত কথা, আগামীর দর্শন। নাই বা থাকল নাম, নাই বা দেওয়া হল রূপ। বাহাউল্লার মতো শোনাবে চিরায়িত অমৃত সত্য “কসরৎ মেঁ ওহেদৎ”। সেই তো প্রকৃত আরাধনার প্রতিমূর্তি। যে বিশ্বমানবকে বাঁধতে পারে আকারহীন, ধর্মহীন মানবতার বন্ধনে। যা দেশ, কাল, সভ্যতা ভুলে, মানুষেকে বাঁধবে বিশ্বমানবের কল্যাণে। তাকে বরণ করে বেজে উঠবে নতুন আগমনী শঙ্খ, অন্তরের মিলনযজ্ঞে। আগমনীর বন্দনাগানে।

সন্ধ্যারতির পূজার নৈবেদ্য সেদিন মিলবে না-শোনা অন্তরের ঝংকারে। মায়া-কায়া মিলেমিশে একাকার, মাতৃত্বের না-চেনা সুরের ছন্দে। নতুন আনন্দে। গভীর অন্ধকার থেকে আলোর স্পর্শে। মা তো আরাধ্য বিগ্রহের বাইরে একটা উপলব্ধি, একটা অনুভূতি। মুক্তির পথ। শান্তির পথ। চেতনার উত্তরণ। শূন্যতার মধ্যে পূর্ণতার আবেশ। সেই সময় ফিরে দেখতে হবে নিজেকে।

যতদিন না ক্ষুদ্র ব্যক্তিত্ব মিলেমিশে একাকার হয় মহাবিশ্বের অধিষ্ঠিতে, আগমনী অসম্পূর্ণ। যেখানে অস্তিত্বটা অনাপেক্ষিক। জীবাত্মার সংগে পরমাত্মার অবিচ্ছেদ্য মিলনে পূর্ণতা – একমেবাদ্বিতিয়ম ‘সো অহং’ । সেখানে আলো নেই তবু আলোর বন্যা, যেখানে গন্ধ নেই তবু সুগন্ধের ঝর্না, যেখানে কেউ নেই, তবু যেন কার অমৃতস্পর্শে দেহ মন আনন্দে শিহরিত হয়ে ওঠে প্রতি পলে। যেখানে স্তম্ভিত জাগ্রত মহাবিশ্ব বরণ করে নেয় সত্ত্বা আর আত্মাকে পরম স্নেহে। কানে কানে নিঃশব্দে শোনায় এক গম্ভীর প্রণবধ্বনি শান্তির আলোকে, মহাবিশ্বের পরম সত্যের অমৃত কথাঃ

‘ওঁ প্রত্যাগ্যানন্দং ব্রহ্মপুরুষং প্রণবস্বরূপং

অ-কার উ-কার ম-কার ইতি

ওঁ স্বর্বভূতস্থং একং বই নারায়ণং পরমপুরুষং

অকারণং পরমব্রহ্মং ওঁ

ওমিতি ব্রহ্ম ওমিতি ব্রহ্ম…’

CF BLOCK RESIDENTS ASSOCIATION, SALT LAKE CITY, KOLKATA
agomoni1

agomoni2

agomoni3

Agomoni

ধর্ম : কিছু অনুভূতি

Religion is the highest order of politics.

কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্যি।

অসীমকে, সীমার মধ্যে আনার প্রচেষ্টায় মানুষের মানসিক evolution। Darwin-এর Theory of natural selection এর মধ্যেই তার জন্ম। মানুষের সঙ্গবন্ধ থাকার বাসনার মধ্যেই তার প্রাথমিক ব্যাপ্তি। আমাদের মধ্যে যে ভয় লুকিয়ে আছে, সেটাই অসীম। তাকে সীমার মধ্যে এনে, এক গোষ্ঠীকে বেঁধে ফেলার সংকল্পেই ধর্মের বুৎপত্তি। অসীমকে যেমন আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, অজানাকেও যে আমাদের তেমন-ই ভীষণ ভয়। যুগযুগান্তর ধরে মানুষের এই ভয়কে খুঁটি করে গড়ে উঠেছে ধার্মিক নিয়মাবলী। কখনো সত্যি কোনও মানুষের আকারে, কখনো মিথ্যে কোনও কাল্পনিক ভগবানকে সামনে খাড়া করে। এই অসীম বা অজানাটাই বিভিন্ন সময় ধর্মের উত্তরীয় পরে দেখা গেছে, নানান বেশে, নানা রূপে, নানা রঙে।

আসলে ধর্ম আর কিছুই নয়, নিজস্ব আত্মচেতনা।

এই চেতনা কেউ একা ঘরে বসে পায়, কেউ কারও পায়ের তলায় বসে, কেউ ছোটে দূর থেকে দূরান্তে, তীর্থ থেকে পুণ্য সাগরের কথিত স্বর্গরাজ্যে।  মানুষ যে নিজেই নিজেকে চেনে না। তাই পাগলের মতো কখনো ছুটে বেড়ায় কোনও ধর্মের দরজায়, কখনো বা কোনও মনিষীর সংস্পর্শে। কারণ, সে অপূর্ণ। কবিগুরু যখন গেয়ে ওঠেন আপনাকেই জানা আমার ফুরাবে না…’ তখন অন্যান্যদের মতো তিনিও কিন্তু সেই অজানার সন্ধান করে গেছেন, অসীমকে চেনার অভিলাষে। এই অসীমকে খোঁজার কেন্দ্রবিন্দুতে, যেটা তাঁর সীমাবদ্ধতা, অহরহ তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল, সেটা সংসারের মায়াজাল। শেষ পর্যন্ত, পেয়েছিলেন কী? বোধহয় নয়। তাই মৃত্যুর আগের শেষ কবিতাতে তাই আক্ষেপ, অনুসুচনা, নিজের অক্ষমতা, সাংসার নামক মায়াজালের কাছে নতিস্বীকার তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে। মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে সরল জীবন’

কীসের বিশ্বাস? কাকে বিশ্বাস? যার নিজের প্রতি বিশ্বাস আছে, তার কাছে সব ছলনাই জৈবিক অঙ্গ, জাগতিক নিয়ম। যে এই জৈবিকতার মায়া কাটাতে পেরেছে, সেই তো অসীমের সন্ধান পাবে। অসীম যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে, একাকীত্বের নির্জনতায় দীপ্ত। সেখানে কেউ নেই, খালি একা নিজের অচেনা দিকগুলো দেখা। এই নিজেকে দেখাটাই তো আত্মচেতনা। যদি নিজের অন্ধকারে কুঠারির মধ্যে, ভয় কাটিয়ে নিজেকে আবার নতুন করে, নিজের নগ্ন স্বরূপ দেখা যায়, সেখানে আরেক পৃথিবী। যেখানে আলো নেই, তবু আলোর বন্যা, যেখানে গন্ধ নেই তবু সুগন্ধের ঝর্না, যেখানে কেউ নেই তবু যেন কার অমৃতস্পর্শে দেহ, মন, আনন্দে শিহরিত হয়ে ওঠে প্রতি মুহূর্তে। যেখানে স্তম্ভিত জাগ্রত বরণ করে নেয় সত্ত্বা আর আত্মাকে পরম স্নেহে। কানে কানে নিঃশব্দে শোনায় গভীর মহামন্ত্র  শান্তির আলোকে। তাঁকে পাওয়া কঠিন হলেও অজেয় নয়। যে সে পথে বা বাড়িয়েছে, সেই তো আসল ধর্মের একনিষ্ঠ পূজারি। যেখানে জীবাত্মা আর পরমাত্মা এক সঙ্গে মিলে যায় to the concept of mass universal energy। সেখানেই অধিস্থিতি। সেখানেই পূর্ণতা, চিরশান্তি, সমাধি।  তাই মৃত্যুর প্রাক্বালে তাঁর নতুন চেতনা ‘সে যে অন্তরের পথ, সে যে চিরস্বচ্ছ’

সেটাই তো ধর্ম। আর এই পথ-ই তো সেই সোপানে পৌঁছনোর পাথেয়।  যখন শুধু ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’ এই চেতনা থেকে বিশ্বপ্রকৃতি, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এক, একমেদ্বিতিয়ম। এই মহাবিশ্বের সঙ্গে এক সুরে নিজেকে বেঁধে ফেলা, এই interaction টা জীবাত্মা আর পরমাত্মার মিলনের যুগলবন্দীর ছন্দ – মানুষের ধর্ম।

Private Detective: Living in Myth

Private detectives have been the in our fictions for ages. They have been the pivotal characters of riveting thrillers, hypnotised billions over decades, been the rachis behind the name, fame, survival of many national and international authors. The whodunits have made their way to celluloids, giving the viewers a grip of fictional suspense. In addition to bewitching the readers and viewers to a world of fantasy, it has generated a livelihood, to a crowd and continue to do so, who would have been defunct otherwise. As we have moved into 21st century, time has come to re-assess their fictitious incredible role in criminal investigation.

In 1833, Eugène François Vidocq, a French soldier, criminal, and crewman, founded the first known private detective agency ‘Le Bureau des Renseignements Universels pour le commerce et l’Industrie’ (The Office of Universal Information for Commerce and Industry) and hired ex-convicts. Official law enforcement tried many times to shut this agency. In 1842, the police arrested him, on suspicion of unlawful imprisonment and extracting megabucks on false pretences, after he had solved a peculation issue. He was sentenced for 5 years with a Fr 3000 fine.

In spite of falsified credentials, Vidocq is considered as having led to the concept of record-keeping, criminology, ballistics and anthropometrics. The whole business of private investigation came into practice where police were unwilling to act, or the client desisted police involvement. They also assisted companies in labour disputes, often provided armed guards, the role that is carried out by security agency today. Charles Frederick Field of United Kingdom set up an enquiry office upon his retirement from the Metropolitan Police, in 1852. Field became a friend of Charles Dickens. One of his employees, Hungarian Ignatius Paul Pollaky set up a rival agency. Through them both, private detectives secured a place in the fictional sagas. In 1840, Edgar Alan Poe created a fictitious character C. Auguste Dupin. This character was the detective in three of Poe’s stories.

Once the artistic blend of selling fictitious detectives hit the market, several authors towed the line, to create immortal fictitious characters like Sherlock Holmes, Hercules Poirot, Miss Marple. Under a colonial rule, the creative thoughts of our authors were confined to the ways of colonial masters. In keeping with their colonial slavery mind-set, they spun an array fictitious fables, centralising around the concept of singing their master’s voice. Bymokesh Bakshi, Kiriti Roy, Dipak Chatterjee, Feluda etc. were thus born to cater to the Bengali tastes, spelling the wonders that could be done by a private detective. These taradiddles became popular best-sellers, especially to the sections not well-conversant with English literature or who wanted a fresh taste in their local milieu.

When I was requested by my publisher to write my first murder-thriller CHAKRA, later translated in English as FULCRUM, a few queries buzzed in my mind.

  1. Whenever a death occurs, who investigates the case – the police or the private investigator (no matter how intelligent and modern he may be in fictitious sagas?
  2. After a murder, who would walk to a private detective, when police are there to carry out the primary investigation?
  3. Do private investigators (mind you they are normal citizens with same rights and restrictions as others) have same access to police records, forensic report etc.?
  4. Can they tap telephone conversations and access internet exchanges, i.e. social media and internet calls?
  5. Have they access bank accounts, insurance details or any other confidential details?

The answer was an obvious ‘NO’. If so, how could a private detective become the central theme of a novel, when his identity is ambiguous and apocryphal? If that is logical, in 21st century, no author could get away with some an absurd fiction. Fiction has to be realistic, believable, pertaining to the present. In conversation with a renowned figure, in an hour-long lecture to a ‘class-room student’ without any logic or know how, he further harped his credibility as a ‘Criminologist’. To my humble medical knowledge, one who is qualified in Forensic Psychiatry can call himself a Criminologist.

I thought, even if the investigation is done by known bodies at different corners of the country, there might be a mingle of persons trying to solve the murder-mystery. Each would have a positive input and finally one could imbibe those ideas and crack the final jackpot. They may not be a part of the investigative machinery. As much as the reader or the viewer is on the lookout for the murderer with the motive, he could be in lookout for the final emergent, out of lot. I also felt the customary murder weapons like a pistol, knife etc. could be sacrificed to modern scientific ways of murder based on my medical knowledge.

The end result was a maverick murder-mystery-thriller, which would keep the readers gripped until climax. Soon after CHAKRA or FULCRUM, I wrote another adrenaline charged international thriller PURSUIT and ETERNAL MAYHEM, an international thriller of scientific genome research, in light of my new concept.

For those orthodox, it might be difficult to shred their pre-formed concepts and come to terms with the harsh reality of the 21st century. But reality demands, realistic fiction, not abstruse fictitious tale-tales. We cannot be swayed by non-realistic approach to a scientific and logical investigative apparatus. With all due respects to past global best-sellers, wouldn’t it be wiser to evolve with the realistic upcoming era?
Chakra (Second Edition Front Page)

Fulcrum CoverPursuit (Low Resolution)

Eternal Mayhem

Conundrum (Front Page)

বর্তমান সমাজ, আধুনিকতার নিঃস্বতা

সামাজিক বিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সময় হয়েছে আরেকবার এই পরিবর্তনের নগ্ন পর্যালোচনার। বিশেষ করে নব্য লভ্য বাঙলার আধুনিকতাকে। ‘বাঙালি বা বাংলা’ বিষয়ক আধুনিকতা, বর্তমান ভৌগোলিক বাংলার মাত্র দু-আড়াইশো বছরের উপনিবেশ পর্বের অবদান। এই পর্ব একাই মহাভারতের সাপেক্ষে ‘আঠারোশো’।

ইংরেজদের মোসাহেবি করা, কলম পেশা, ‘রায় বাহাদুর’ ‘রায় সাহেব’ পদালঙ্কারে শোভিত মাছ-ভাত খাওয়া বাঙালি, কিছু কাঁচা টাকার বাবুয়ানায় ‘ফরেন’ ঘুরে হঠাত যেন সাহেব হয়ে গেল। সুট, বুট, হ্যাট, এমনকি শুদ্ধ ইংরেজি বানানটুকু না জানলেও চলবে, আদব কায়দায় সাহেবি উসৃঙ্খলতা নিয়ে, ঠাটবাট হাঁকিয়ে চললেই ‘সোশ্যাল এলিট’ হওয়া যাবে। সাহেবরা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে। তার মধ্যে প্রধান চিন্তা কোরও না। স্বতন্ত্র চিন্তার বলিকাঠে নিজেকে মেলে, সামাজিক বিরাগভাজন হয়েও না। ইট ড্রিঙ্ক অ্যান্ড বি মেরি, ফর টুমরো উঁই ডাই। চিন্তা করলে যদি বা আরেকটা বুর্জোয়া ক্লাস তৈরি হয়। দেশ শাসনের পক্ষে সেটা মোটেই শুভ নয়। সাহেবরা চলে গেছে। তাদের বাবুয়ানা আজ আর নেই। কিন্তু উত্তর কলকাতার, সাবেকি পায়রা ওড়ানো বাবুয়ানার রক্ত তো এখনও বিলীন হয়ে যায়নি। পুরো অংশে বর্তমান। সাহেবদের তৈরি করা প্ল্যাটফর্ম যদি পাওয়া যায়, তো সোনায় সোহাগা। নিজেকে কষ্ট করে তো আর কিছু করতে হচ্ছে না। খালি বর্তমান চলমানতার মোড়কে তাকে সাজিয়ে নিতে হবে। বিদেশির ছাঁচে রিয়ালিটি সো আর বিকৃত মানসিকতার সিরিয়াল, তাই বেঁচে থাকার উপকরণ। বাবুয়ানার মজলিসের নতুন রূপ। ইন্টারনেটের দাপট আর মিডিয়ার প্রলাপ তো সেই মন্ত্রেই দীক্ষিত করতে সদা আগ্রহী। অক্ষমতার শিখরে দাঁড়িয়ে, রঙিন স্বপ্নের মখমলে বিছানায় নিজেকে ভাসিয়ে দাও। ওখানেই শান্তি, ওখানেই তৃপ্তি, ওখানেই মুক্তি। মধ্যবিত্ত বাঙালির সাহেবি মোড়কে বিদেশিয়ানা ঘেঁষা স্ট্যাটাসের পূর্ণতা। বাবু কালচারের বর্তমান আভরণ।

বাবু কালচারের বর্তমান রূপ দেখে সংশয় জাগে, এটাই কী বাঙালি কালচার? গরম দেশেও ড্রিঙ্ক না হলে পার্টি জমে না। মোবাইলে গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে চ্যাট না করতে পারলে কী মডার্ন হওয়া যায়? মধ্যরাতে ডিস্কও থেকে বয় ফ্রেন্ডের সঙ্গে বিলাসিতা – নব্য রঙে সেজে ওঠে আধুনিক কালচার। বাবা-মায়ের প্রশ্রয়ে ছেলে-মেয়েরা ঘরের পার্টিতে মদ্যপান করাটা আধুনিক ফ্যাসান। আর সেই বাবা যদি সমাজের কেউকেটা হয়, তাহলে তো এটাই সামাজিক রীতি, নীতি, সংস্কৃতি। ‘সেলিব্রিটির’ ভূষণে শোভিত, কাঁচা টাকার দেমাকে গর্বিত, কিংবা নেটওয়ার্কিং-এ বলিয়ান কৃষ্টি তাই বর্তমান সমাজের নিয়ামক। শাশ্বত সত্যগুলো কেমন জোলো, ম্যানমেনে। থাক না ওগুলো পড়ে ভারতীয় সংস্কৃতির ছেড়া পাতায়। ওসব ঘাঁটলে তো আর সাহেব হওয়া যায় না। তাই আধুনিক হতে গেলে ওসব পড়ে সময় নষ্ট করার মানেই হয় না। সকাল থেকে সন্ধে অবধি, সামাজিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে, ইহা-উহা করে দিনশেষে একটু মৌজ না করে, কোন পাগল সাহেবি আভরণ হাঁটিয়ে, ভারতীয় কৃষ্টি-সভ্যতা ঘাঁটতে বসে?

অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে গিয়ে ঠেকে অন্তরের শূন্যতা। যে সামাজিক কাঠামো বর্তমান আধুনিকতার স্তম্ভ, সেটা সরে গেলে তো অস্তিত্ব নিঃস্ব। যেন কঙ্কালের মধ্যে প্রলেপ লাগিয়ে কতগুলো শব ভূষণে, দূষণে, আলোকিত করে রেখেছে এক অন্তঃসারহীন সত্যকে। যা মৃত্যুর চেয়ে বিভীষিকার মতো তাড়িয়ে বেড়ায় একাকী, নির্জনে। তাই নির্জনতা বর্জনীয়। সেই সামাজিক কাঠামোতে যদি আত্মজকে মিথ্য বলতে শেখাতে হয়, যদি আত্মজের পাপে হাত মিলিয়ে সায় দিতে হয়, তাও গ্রহণযোগ্য। একাকীত্বের সত্য থেকে তো পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। সেটা যে আরও বীভৎস, ভয়ঙ্কর।

সেখানে পাপ-পুন্য, ভাল-মন্দ, বলে কিছু নেই। সেখানে আছে এক ক্ষয়িষ্ণু সমাজের ওপর ভেসে বেড়ানর আপ্রাণ প্রয়াস। আধুনিকতার নিঃস্বতার মধ্যে সেটুকুই যেন বেঁচে থাকার একমাত্র পাথেয়। তবুও মাঝরাতে, একা ঘুম ভাঙা অন্ধকারে, কোন গভীর থেকে যখন ভেসে আসে অতৃপ্তির আর্তনাদ, একবারও কী মনে হয় না, আরেকবার নিজেকে দেখার? আধুনিকতার চুড়ায় বসেও নিজের নিঃস্বতা? যদি কখনো মনে হয়, সেদিন কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর্তনাদ করবে, কবিগুরুকে বেচবার জন্য নয়, আবার নতুন রূপে পাওয়ার জন্য। মন ডুকরে কেঁদে বলবে ‘দাও ফিরে সেই অরণ্য, লও এ নগর’। সেখানেই আধুনিক সমাজের জৈবিক ব্যর্থতার আসল পরাজয়।

Blog at WordPress.com.

Up ↑

StormyPetrel

আমার মনের মাঝে যে গান বাজে,শুনতে কি পাও গো?

Writcrit

Creative and Bookish

The Blabbermouth

Sharing life stories, as it is.

Prescription For Murder

MURDER...MAYHEM...MEDICINE

Journeyman

Travel With Me

কবিতার খাতা

কবিতার ভুবনে স্বাগতম

NEW MEDIA

LITERARY PAGE

Coalemus's Column

All about life, the universe and everything!

Ronmamita's Blog

Creatively Express Freedom

যশোধরা রায়চৌধুরীর পাতা

তাকে ভালবাসি বলে ভাবতাম/ ভাবা যখনই বন্ধ করেছি/দেখি খুলে ছড়িয়েছে বান্ডিল/যত খয়েরি রঙের অপলাপ/আর মেটে লাল রঙা দোষারোপ

Kolkata Film Direction

Movie making is a joyful art for me. I enjoy it as hobbyist filmmaker - Robin Das

arindam67

বাংলা ট্রাভেলগ

The Postnational Monitor

Confucianist Nations and Sub-Sahara African Focused Affairs Site

TIME

Current & Breaking News | National & World Updates

বিন্দুবিসর্গ bindubisarga

An unputdownable Political Thriller in Bengali by Debotosh Das

rajaguhablog

Welcome to your new home on WordPress.com

জীবনানন্দ দাশের কবিতা

অন্ধকারে জলের কোলাহল

%d bloggers like this: