Dekha (Low Resolution)

অনিরুদ্ধ বসুর তৃতীয় উপন্যাস “দেখা”-র ভূমিকা লিখতে বসে কয়েকটা কথা মনে হল। মান আর হুঁশ … এ দুই নিয়ে মানুষ। এ কথা অনেক শোনা। কিন্তু কি সত্যিই কখনো আমরা এ দুটো জিনিসের খোঁজ করি?

অনিরুদ্ধর এই ছোটো উপন্যাসটি পড়ার পরে, অন্তত আমার একটা কথা মনে হচ্ছে যে, অনিরুদ্ধ ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে, এই লিরিকাল কাহিনিটিতে এই দুটি জিনিসেরই খোঁজ করে গেছে। মানুষের জীবনের অনেকগুলো মূল প্রশ্ন উঠে এসেছে এই উপন্যাসটিতে। পিতা কে? পিতৃসেণহ কী এবং কেন? সন্তানস্নেহের আসল রূপটি কী? মা কাকে বলে? মাতৃত্ব কী অর্জন করা যায়? নাকি তা নিতান্তই এক জান্তব এবং জেনেটিক ব্যাপার মাত্র। জীবন আসলে কী এবং সবার উপরে এই জীবন নিয়ে কী করব?…এই বেসিক প্রশ্নগুলির উত্তর না খুঁজে পেলে আমাদের ‘হুঁস’ হবে না। আর হুঁস না হলে ‘মান’-ও আসবে না।

অনিরুদ্ধ এক আপাত সরল কাহিনির মধ্যে দিয়ে চিন্তাশীল পাঠককে জীবন সম্পর্কিত অনেকগুলি মৌলিক প্রশ্নগুলির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, এটাই এক সংবেদনশীল লেখক হিসেবে ওর কৃতিত্ব।

র এই উপন্যাসটির নাম ‘দেখা’। ছোট্রো নাম, কিন্তু তাৎপর্য গভীর। দেখা শব্দটির পেছনে তিনটি ফ্যাকটর আছে। দ্রষ্টা, দৃশ্য এবং পর্যবেক্ষণ। কে দ্রষ্টা? যে দেখছে। এখানে কে দেখছে? শ্রাবস্তি, অরিজিৎ না মঞ্জরী? নাকি পাঠক? নাকি মহাকাল? দৃশ্যটাই বা কী? কী দেখছে ওরা? পশ্চিম দেখছে পূবের জাগতিক দৈন্যের পিছনের এক বিশাল বিরাট ঐতিহ্যকে! নাকি পূব দেখছে পশ্চিমের বৈভবের আড়ালের এক অনমত দৈন্যের হাহাকারকে? কী ভাবে দেখছে? অনুবিক্ষণে না দূরবিক্ষণে? নাকি বিহঙ্গদৃষ্টিতে?

এক আপাত সারল্যের আড়ালে, অনিরতদ্ধ এই জটিল প্রশ্নগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে। বুঝ জন যে জান সন্ধান আর যদি সত্যিই মননশীল পাঠক এই প্রশ্নগুলির জবাব খুঁজে পান, তবে সেটাই হবে তাঁর আসল দেখা……..মান আর হুঁশকে দেখা। জীবনকে দেখা। জীবনের আসল ‘দেখা’কে দেখা।

আজ অনিরুদ্ধর এই তৃতীয় উপন্যাসটির ভূমিকা লিখতে বসে মনে হচ্ছে, খ্যাতিমান এই শল্যচিকিৎসক আরও আগে কলম ধরলে বোধহয় বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণালি ভান্ডার অনেক বেশি সমৃদ্ধ হত।

অলমিতি।

দুর্গাপুর জুন ২০০৯             আশিস কুমার চট্রোপাধ্যায়

Dekha 17th January 2011

Advertisements