Search

Month

June 2018

তোমায় দেখেছি

তোমাকে দেখেছিলাম ইজের পরা স্কুল ফ্রকে।

এক্কা দোকা খেলার ফাঁকে পুকুরপাড়ের দিবালোকে।

আমার কিশোর মন চেয়েছিল

আরও নিবিড় করে দেখতে।

অর্ধস্নাত উদ্বেল যৌবন।

গাছের ফাঁক দিয়ে উদ্বেলিত তরঙ্গ তখন।

তোমাকে দেখেছি দিকশূন্য পাখিদের ভিড়ে।

নিজস্ব ডানা মেলে উড়তে স্বপ্ন বিহঙ্গ বিহনে।

হাঁসের সঙ্গে কানামাছি খেলা।

তোমার সারল্যের স্বতঃস্ফূর্ত একতারা।

দেখেছি তোমাকে বিহঙ্গ স্বপনে একেলা।

কানামাছি করে শুধু মনের ভেলা।

তোমাকে দেখেছি খরাতপ্ত জ্যোৎস্নায়,

স্বল্পবাস পেখম মেলতে ছাদের কিনারায়।

প্রথম স্পর্শ আলো আঁধারিতে কম্পিত ঠোঁটে।

দেখেছি তোমাকে উজ্জ্বল সোনালি প্রভাতে।

বাসরের রাতে দেখেছি চুম্বনে স্নাত।

রজনীগন্ধার মালার বিছানায়

বিবস্ত্র, নিবিড়,কাম উদ্বেলিত।

 

দেখেছি আমাকে গ্লানিতে বিধ্বস্ত,জর্জরিত, ক্ষত।

কেউ ছিল না পাশে,শুধু তুমিই ছিলে

পাশে একা। বল জোগাতে নতুন মন্ত্রে।

 

আজ তোমার উলঙ্গ দেহ অর্থহীন

যৌবনের উল্লাস ম্লান থেকে ক্ষীণ।

তবুও তুমি আছ আমার রন্ধ্রে।

কামহীন,মোহহীন,ছন্দহীন

অচেনা নিবিড় বন্ধনে।

বার্ধক্যের দেওয়ালিতে নব ফাল্গুনে।

যেখানে প্রতি মুহূর্তের পদচিহ্ন।

বাঁচার ছবি আঁকে।

শান্তির অনুভূতি,অস্তিত্ব বিবর্ণ।

Advertisements

অন্য দেখা

71PJ-3L8ehL

বইঃ টাইমলাইন আলস্কা

লেখকঃভাস্কর দাস

প্রকাশকঃপ্রতিভাস

দামঃ৮০০ টাকা

ভাস্কর দাসকে চিনি আমাদের মেডিক্যাল কলেজের কৃতি ছাত্র,প্রখ্যাত অর্থপেডিক সার্জন হিসেবে। সখ,ভালো ছবি তোলা। আশ্চর্য হলাম যখন ভাস্কর বলল “অনিরুদ্ধদা একটা বই লিখেছি। পড়ে বলবেন কেমন হয়েছে” বইটা অ্যামাজনে অর্ডার দিলাম। ডেলিভারিতে, গৈরিক কালো সংমিশ্রিত সুন্দর মলাট উল্টে, আর্ট পেপারে ছাপান বইটা উলটে-পালটে দেখলাম, প্রত্যাশিত ভাবেই ছবিতে ভর্তি। নিজের একটা খুনের উপন্যাস নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম বলে রেখে দিলাম। সময় পেলে পড়ব। খুনের উপন্যাসে খিচুরি আর জিলিপি পাকাতে মাঝেমধ্যে চিন্তার জন্য বিরতি লাগে। এই বিরতিতেই বইটা তুলে নিয়েছিলাম আলস্কার ভ্রমণ কাহিনি পড়ব বলে।

কিন্তু,না। এ কি পড়ছি!

ভ্রমণ কাহিনির আপাত অন্তরালে টাইমলাইন আলাস্কাযেন বিশ্ব দর্শন। বিন্দুর মধ্যে সিন্ধুর স্বাদ।ঘর থেকে কিছু পা ফেলে শিশিরবিন্দু নয়,উত্তর মেরুর বুৎপত্তি,বিবর্তন,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরম্পরায়ের এক সমন্বিত উপাখ্যান। আলাস্কার টাইমলাইন,শুধু ভ্রমণের টাইমলাইন নয়,ইতিহাসের টাইলাইন নয়,বহুমাত্রিক এই লাইন যেন বাধাহীনভাবে খেলে বেড়িয়েছে এক বিশাল খনিজ সম্পদে। ভ্রমণ কাহিনি হিসেবে শুরু,ক্রমশ গভীরে প্রবেশ করছে। অজানা বহু তথ্য গল্পচ্ছলে পেশ করছে। শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কাজে হাত দেওয়া বোকামি।

১১০০০ বছর আগে পৃথিবীর শেষ বরফযুগ থেকে ভাঙাগড়ার মধ্যে আলাস্কার ভৌগলিক বিবর্তন সংক্ষেপে ভূখণ্ডের মানচিত্র আঁকছে। ‘ইটারন্যাল মেহেম’উপন্যাস লেখার সময় রেসিয়াল মাইগ্রেশনের ইতিবৃত্ত লিখতে গিয়ে যে বেরিং স্ট্রেট দিয়ে বেরিঙ্গিয়া,রাশিয়া আর অ্যামেরিকার সংযোগ স্থাপন করেছিল,কিছুটা পড়েছিলাম। এখানে তার বিস্মৃত বিবরণ। কে এই ভিটাস জেনাসেন বেরিং?কে পিটার দ্য গ্রেট,যার নামে রাশিয়ার সেন্ট পিটারসবার্গ? নিকিটা সুগমিন,জর্জ উইলহেম স্টেলারের কাহিনি। নামগুলোই শুধু শোনা ছিল। টাইমলাইন আলাস্কাথেকে জানলাম ওদের জীবন কাহিনি। শুধু জীবনী নয়,সঙ্গে নানাবিধ ছবি,যেমন দাড়ির ট্যাক্সের, সি এপ,সমুদ্র গাভীর,২য় কামচাটকা অভিযানের স্মারক মুদ্রা, বেরিংস ভয়েজেস বইয়ের ছবি – নানান ছবিতে সমৃদ্ধ লেখার পাশেপাশে।ইতিহাস একের পর এক উন্মোচিত হচ্ছে,ভাস্করের সহজ লেখার স্বচ্ছতায়।

২০,০০০ বছর আগে লাস্ট গ্লেসিয়াল ম্যাক্সিমাম থেকে ভাঙাগড়ার মধ্যে আজকের আলাস্কা। তথ্যগুলো নেটে কিছুটা লিপিবদ্ধ থাকলেও,তাকে সাজিয়ে সংক্ষেপে ইতিবৃত্ত বলার মধ্যে লেখকের মুনশিয়ানা স্পষ্ট। এস্কিমো শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় থাকলেও তার মানেটা যে ‘কাঁচা মাংসভোজী’,শুধু এটুকুই জানা নয়। কোথাও কী নামকরণের পেছনে একটা অবজ্ঞা,একটা তাচ্ছিল্য রয়ে গেছে? ‘সভ্য’সমাজের অহং কী প্রকাশ পাচ্ছে না? ইনুপিয়াক,আথাবাস্কান,ইউপিক,অ্যালিউট,অ্যালিউটিক,তিঙ্গিত,সিম সিয়ান,হায়দার বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বইটা না পড়লে অজানা থেকে যাবে।

রাশিয়া থেকে বেরিং এবং তাঁর উত্তরসূরিদের আলাস্কা অভিযানের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণিত। দেশ আবিষ্কারের সঙ্গে সেই দেশকে লোটার স্পৃহা ‘ফার ট্রেডের’ইতিবৃত্তে প্রকট। সভ্যের বর্বর লোভনগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা। প্রকৃতির কোলে, প্রাকৃতিক বেশে, গানে-নাচে প্রাকৃতিক বন্দনায় ভরে থাকত যাদেরসহজ সরল জীবন।সভ্যতার ভয়াবহ কুটিল থাবায় ওদের প্রাচীন সংস্কৃতিকে পেছনে ঠেলে,দেখাল কৃষ্টির নামে সাম্রাজ্যের বিকাশ আর ধর্মের নামে, ওদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিলীন করতে, এক কাল্পনিক ঈশ্বরকে সামনে খাড়া করে।সভ্যতা এল।সঙ্গে নিয়ে মানুষের অন্তরের কুটিল নগ্নতা।প্রাকৃতিক সাজে সাজা নারীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেল ইরটিজমের নগ্নতায়।নিয়ে এল কুটিল সাম্রাজ্যবাদের ভয়াবহ অহংকারর উন্মাদ তাণ্ডব।বিক্রি হয়ে গেল কোমলতা।বিক্রি হয়ে গেল নিষ্পাপ সারল্যে ভরা বনলতার কোলে বড় হওয়া মাধবীলতা।

এ প্রসঙ্গে বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। আমার বাবা তখন ইউনাইটেড নেশনস-এর ডিপ্লম্যাট হিসেবে থিম্পুতে। গরমের ছুটিতে মেডিক্যাল কলেজ হস্টেল ছেড়ে বাবার ওখানে বেড়াতে গেছি। আমাদের বাড়িতে ডিনারে ভুটানের তদানিন্তন ফরেন মিনিস্টার লাকপা শেরিং রাত্রি ভোজের পরে বাবাকে প্রশ্ন করেছিল “ইটস অল ভেরি নাইস দ্যাট ইউনাইটেড নেশনস ইজ প্রভাইডিং আস এইড। ডস দ্যাট মেক আস এনিওয়ে বেটার উইথ দ্য টেন্টাক্যালস অফ সিভিলাইজেশন?” প্রশ্নটা আদি অন্তকালের। টাইমলাইন আলাস্কা পড়তে পড়তে মনে হল,প্রশ্নটা আজকেরও। তাই কী কবিগুরুর আক্ষেপ দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর… হে নব সভ্যতা,হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী। দাও সেই তপোবন পুণ্য ছায়ারাসি। গ্লানিহীন দিনগুলি

ব্যারানভের ইতিবৃত্ত পড়তে পড়তে কর্ম জীবনের পরিহাসটা আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। শাস্ত্রে বারবার সত্যের জয় নিয়ে অনেক জ্ঞানগর্ভ ব্যাখ্যা শুনি। সত্যের কী জয় হয়?না কি নিছকই মন ভোলান সান্ত্বনা? রাজ অনুগত্য,না মানুষের মনের রাজধিরাজ,কোন পথ শ্রেয় ভাবতে হয়। দুনিয়াদারির পথ, জন স্বীকৃতির পথ না নিজস্ব চেতনার পথ – কোনটা শ্রেয় সে বিচারে না গিয়ে,নিজস্ব শান্তিই যে পথের ধ্রুবতারা, এই চেতনাই বোধহয় জাগতিক শান্তির মূলমন্ত্র।

রাশিয়ার অধীনস্ত আলাস্কা ঘটনাক্রমে কী ভাবে অ্যামেরিকার অন্তর্ভুক্ত হল,তার বিশদ বিবরণ আছে টাইমলাইন আলাস্কাতে। রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কাকে কেনার ঘটনা সহ,আলাস্কার বিভিন্ন দ্রষ্টব্যের ইতিবৃত্ত সিটকার রেস্টুরেন্টে বসে পাঠককে উপহার দিয়েছে ভাস্কর। সঙ্গে দ্রষ্টব্য স্থানের মনোরঞ্জক ছবি। অবশেষে অনেকেদিন পর অ্যামেরিকার আলাস্কাকে ৪৯তম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি।

ভ্রমণ কাহিনি পড়ব বলে শুরু করেছিলাম। শেষ করলাম দ্য গ্রেট ল্যান্ড আলাস্কার বুৎপত্তি,ইতিহাস,ভূগোল থেকে পলিটিক্যাল এই বিশদ ইতিহাসকে বন্দি করা ১৫৫ পাতার টাইমলাইন আলাস্কায়। বইয়ের সঙ্গে উপহার স্বরূপ পেয়েছি ভাস্করের তোলা একটা ভিডিও। ছাপানর উৎকর্ষতা,আর্ট পেপারে ছাপা অসংখ্য ছবির এই বইটা,সঙ্গে বিশাল জ্ঞানের ভাণ্ডার।৮০০ টাকা দামটা কম-ই মনে হয়েছে।

আলাস্কা যাইনি। যাওয়া হবে কি না,জানি না। ভাস্করের চোখ দিয়ে অন্য আলাস্কাকে দেখলাম। এ দেখাই বা কম কীসের?

31ffo-lOU-L

Timeline Alaska

 

 

আপেক্ষিক সুস্থতা

আপেক্ষিক সুস্থতা।

কী সামাজিক পাংক্তেয় করার চেষ্টা?

যেখানে সামাজিক সুস্থতা আপেক্ষিক।

শাড়ি,জিনস,মিনিতে ঢাকা

রঙিন মোড়ক আঁকা

উলঙ্গ পরিহাস।

দিনের গৃহবধূ, রাতের দয়িতা

রং পালটানো গিরগিটি স্বপ্নের নবমিতা

সামাজিক চাদরে মখমল দোপাটি।

যা সুবিধে তাই সুস্থতার একমাত্র আংটি।

আলো যেখানে অন্ধকার ঢাকে

স্বপ্ন যেখানে ছবি আঁকে।

ভারচুয়ালিটির সাজান রঙে

নিজেকে মোড়া সেই ঢঙ্গে।

বেচে কে,কেনে কে স্বপ্ন যে কার

ফেরিওয়ালা ঘুরে মরে  মন ছারকার।

 

সুস্থতা কী বাজারে বিক্রির পসরা?

মনকে বিক্রি করে না পাওয়া স্বপ্নের অভিলাশা?

সুস্থতা কী তোমার ইচ্ছেতে সত্তাকে বিক্রির দেওয়ালি?

এ কোন মজলিসে বসে স্বপ্নের মেহফিল সাজাই

নিজের সুস্থতাকে বাজারে নিলাম করে

কোন অজানা শান্তির ঠিকানা পাই?

 

(পুনঃ
বেচে কে,কেনে কে স্বপ্ন যে কার

ফেরিওয়ালা ঘুরে মরে  মন ছারকার

এই পঙক্তিগুলো বন্ধুবর আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি)

Blog at WordPress.com.

Up ↑

StormyPetrel

আমার মনের মাঝে যে গান বাজে,শুনতে কি পাও গো?

Writcrit

Creative and Bookish

The Blabbermouth

Sharing life stories, as it is.

Prescription For Murder

MURDER...MAYHEM...MEDICINE

Journeyman

Travel With Me

কবিতার খাতা

কবিতার ভুবনে স্বাগতম

NEW MEDIA

LITERARY PAGE

Coalemus's Column

All about life, the universe and everything!

Ronmamita's Blog

Creatively Express Freedom

যশোধরা রায়চৌধুরীর পাতা

তাকে ভালবাসি বলে ভাবতাম/ ভাবা যখনই বন্ধ করেছি/দেখি খুলে ছড়িয়েছে বান্ডিল/যত খয়েরি রঙের অপলাপ/আর মেটে লাল রঙা দোষারোপ

Kolkata Film Direction

Movie making is a joyful art for me. I enjoy it as hobbyist filmmaker - Robin Das

arindam67

বাংলা ট্রাভেলগ

The Postnational Monitor

Confucianist Nations and Sub-Sahara African Focused Affairs Site

TIME

Current & Breaking News | National & World Updates

বিন্দুবিসর্গ bindubisarga

An unputdownable Political Thriller in Bengali by Debotosh Das

rajaguhablog

Welcome to your new home on WordPress.com

জীবনানন্দ দাশের কবিতা

অন্ধকারে জলের কোলাহল

Debraj Moulick

Dangling between Books & Films

A Bong পেটুক's quest .....

“I hate people who are not serious about meals. It is so shallow of them.” ― Oscar Wilde, The Importance of Being Earnest

%d bloggers like this: