সহস্র কোটি বছর ধরে

এনার্জি ট্র্যান্সফরমেশনের আদি লগ্ন থেকে

হাজার নক্ষত্র পেরিয়ে

একা খুঁজি আবছায়া ধ্রুবতারা

কখনো বা হিমশীতল জলরাশির মধ্যে

কখনো বা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডের উল্কার ঝাপটে।

সময়হীন সময়ের রথে চেপে

পুষ্পক রথের স্বপ্ন কাব্য থেকে স্পুটনিকের ঔরসে।

প্লেস্টসিনের আফ্রিকার হোমো ইরেক্টাস রূপে।

ইজরায়েলের উপত্যাকা হয়ে

এরিডিউর নিশ্চিন্ত বেলাভূমিতে।

দিশাহারা আমি খুঁজেছি জন্মের মানে

সুমেরিয়ান সভ্যতা থেকে আজকের দুর্দিনে।

দূরের ওই নক্ষত্রের পানে না-তাকিয়ে।

গড়েছি সভ্যতা, এঁকেছি নতুন পৃথ্বী

গেঁথেছি বেলাভূমি থেকে বিজয় মুকুট।

 

জয় পরাজয়, উত্থান পতন

পাওয়া হারানো, চাওয়া না-পাওয়া

ইতিহাস থেকে ভূগোলের মানচিত্র এঁকেছি

সদর্প অহংকারে।

সভ্যতা থেকে অসভ্যতার রূপ

অহং থেকে পরাজয়ের কদর্য স্বরূপ।

অনন্ত সময় সাক্ষী অপকর্মের মোহর সেটিয়ে।

দিশাহারা বহ্নি জ্বলে কালচক্রের ছিন্নমূলে।

ধ্রুবতারা তো অরুন্ধুতি, স্বাতি, বিশাখা নয়

নয় সময়ের গহ্বর থেকে তুলে আনা মুহূর্তের দিশা।

চেনা-অচেনা হাজারও নক্ষত্রে, ধ্রুবতারাটা কোথায়?

চিনেছি কী তাঁকে অনন্ত সময়ের দ্বারে?

 

শুষ্ক কঠিন পৃথ্বী ফেলে দীর্ঘশ্বাস

রন্ধ্রে রন্ধ্রে শোনায় মূর্খতার আভাস

না-চেনা স্তুতির বন্দাগানে।

হাজার জয়ে পরাজিত ইতিহাস

বিদ্রূপ করে সময়চ্ছিন্ন ক্রীতদাস

না-পাওয়া চেতনায়, ব্যর্থ ধর্মের উল্লাসে।

 

এনার্জি আবার মিলিয়ে যাবে

ব্ল্যাক হোল থেকে আরেক অদৃশ্যে।

সময় হারিয়ে যাবে আজ-কাল-পরশু হয়ে অনন্ত গভীরে।

মুহূর্তটাই অপেক্ষায়মান ধ্রুবতারা নক্ষত্রের দিকে চেয়ে…

তুরীয়লোকের সিংহদুয়ারে।

 

সেখানেই আমি শান্ত, ভাসমান, সদা প্রবহমান

সময়ের গণ্ডি ছেড়ে মুহূর্তের অনুভূতির স্পন্দনে সাকার।

আবছায়া ধ্রুবতারা প্রকট

শান্ত চেতনার নিঃশব্দ কোলে।

Advertisements