Search

Month

May 2016

Puritan Wonder

Have I lost the trait?

In flawless puritan gait?

When the mind sings the cliché tunes

Of lost forgone with its dews?

The forlorn leas in mystic creeks

Chants the ditty of the lost dips.

Do I need to wake in wonder galore?

To sing the jingle of the Holy shore?

Present croons the mystic wonder glee

Without its puritan numinous spree.

Through the history of mystic time

Spinning their mystery magic dime.

Some won, some lost, others forgotten

In aura of glowing light

Lost the focus of magical bright.

Lost in history over mystic time

Crave for power glory, money and shame

Sublimed in the mortal ‘peace heaven’.

Had they viewed the reality

Would’ve faced the stubborn certainty

Of those in disguise over cliché mundane.

Fruitful yaws with feelers in ferocious claws

The clank of power and fame.

Tucked  neatly in frozen shelves

None for thy honour, thy name?

Lost in name, fame and shame.

The buzz of hard reality

Amid their deceitful calamity.

Sings the tune of today’s canto

To disperse the surplus stanza.

For a healthier tomorrow.

Spring, summer, autumn, plays it numinous tide

Of years found and lost in puritan wonder.

Time to peep in their magical splendour.

জননী মহাবিশ্ব

অ্যামেরিকার নারী পত্রিকায় প্রকাশিত মে-জুন ২০১৬  

“মা আমাদের পূর্ণ উচ্চারণ, প্রথম পুণ্য অনুভব। 

মাগো যেদিকে চাই, সেদিকে রয়েছ তুমি। 

তুমি শুভ প্রতীক, জীবনবোধের অবারিত বাসভূমি। 

তুমি ভোরের আলোয় ভরা পবিত্রতার চেনা মুখ। 

স্নিগ্ধ, শান্ত, প্রসন্নতার চিরসুখ। 

ভবনে থেকেও তুমি ভুবনগামী।

মাগো যেদিকে চাই, সেদিকে রয়েছ তুমি। 

একটু চোখের আড়াল হলে অভিমানে বহুদূর।

ক্ষমায় আপন তুমি মোহন বাঁশির মিঠে সুর। 

অন্তরে থেকে তুমি অন্তর্যামী। 

মাগো যেদিকে চাই, সেদিকে রয়েছ তুমি”

পুণ্য অনুভূতির জীবনবোধের উৎস ধাত্রীর ঔরস। বিশ্বব্যাপ্তির চেতনা থেকে অবারিত শান্তির কোলে পাথেয়। সেই মা শব্দটির পরিধি অসীম।

ঔরসের নিশ্চিন্ত বাতাবরণ থেকে ধরিত্রীর প্রথম আলোয় সহায়, তার ছোঁয়া তো কেবল জন্মলগ্ন থেকে নয়। জন্ম দিয়েছিলে আমাকে। স্তন-দুগ্ধ দিয়ে অন্নপ্রাশনের প্রথম অন্ন তুলে, জরা ব্যাধি থেকে আড়াল করেছিলে দুগ্ধের প্রতিরোধক শক্তির অপার মহিমায়। কথা শিখেছিলাম তোমার মিষ্টিমধুর বোলে। হাঁটতে শিখেছিলাম তোমার হাতে, হাত ধরে। প্রস্তুত করেছিলে জীবনযুদ্ধে একা চলতে। ‘মা গো মা এলাম তোমার কোলে, তোমার ছায়ায় তোমার মায়ায় মানুষ হব বলে’ 

মাতৃত্ব তো জীবন গতির নির্ধারিত চিরায়িত প্রবাহ নয়। নানা রূপে, নানা রঙে, নানা চেতনার তার প্রকাশ। জীবনের প্রতি মুহূর্তে। নানা সুর-রং-ছন্দ-অনুভবে তার বিকাশ। অবকাশের মধ্যেও, সান্ত্বনার স্নিগ্ধ শান্ত বাতাস। ‘বাবা বাছার’ বাইরেও বৃহত্তর জীবনে, তার পূর্ণতার প্রতিভাস। নাই বা রইল ‘ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এস’ কিংবা ‘আয় আয় চাঁদ মামা খোকার কপালে টিপ দিয়ে যা’ শিশুকালের ঘুম পাড়ানি গান। ভোর হলে জাগাতে নতুন চেতনায় – বিশ্বের মুখোমুখি একা। তবুও পেছন থেকে অদৃশ্য ভরসা “বাছা তোকে তো তৈরি করেছি বিশ্বের মুখোমুখি দাঁড়াবার। পারবি না, আমাকে ছাড়া?”

সেই কবেকার কথা। বহুদিন আগে বেলুড় মঠে সন্ধেটা কাটাতে গেছিলাম। গঙ্গার পাড়ে একা বসে তাকিয়ে ছিলাম দিনান্তে ক্ষীণ হওয়া সূর্যের দিকে। আস্তে আস্তে আকাশের আলো কমে আসছিল। একটা দুটো করে তারা ফুটে উঠছিল আকাশের ক্যানভাসে। গঙ্গার জল ধীরে ধীরে কালচে আকার নিচ্ছে। দূরে দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে একটা নৌকো পাল তুলে ভেসে আসছে। রাতের আঁচলটা আস্তে  আস্তে  হাওয়ায় উড়ে উড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামছে, ধীর পায়ে। ক্লান্ত অবসন্নতার শিথিল আচ্ছাদন বিছিয়ে। আকাশের এঘর ওঘর সেঘরের দরজা খুলে, সব ঘরেই একটা একটা করে, মৃদু তারার মোমবাতি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিলাম। হঠাৎ মনে হল, এই সন্ধ্যার সঙ্গে মায়ের যেন কোথায় যেন একটা অদ্ভুত মিল। সারাদিন হুটপাটি করে বাচ্চারা ঘরে ফিরেছে। শ্রান্ত ক্লান্ত অসহায়। মা তাদের আসার পথ চেয়ে ঘরে ঘরে দিয়া জ্বালিয়ে বসে। কখন ওরা এসে মায়ের কোলে লুটোপুটি খাবে। সন্ধ্যার আঁধার যেন মায়ের ঘন কালো চুল। মা আর সন্ধ্যা একাকার। দুচোখে হঠাৎই ভীষণ জ্বালা। চোখে জল। গোধূলির শেষ রশ্মি তখন গঙ্গার ওপর বিদায়বেলার শেষ আলোর আভা ছড়িয়ে ঢলে পড়েছে পশ্চিম দিগন্তে। রাগ ভূপালির শেষ রেশটা টেনে দিচ্ছে অস্তগামী সূর্যের নিঃশেষ হয়ে যাওয়া আলোর দিগন্তে। বর্ণহীন অন্ধকার আবার সেজে উঠছে নতুন বর্ণের আভরণে। কালো শাড়িতে ঢাকা ঘোমটা তোলা মা, সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে থমকে গেছে। ওপাশের দাওয়ায় শিশুটির কান্না তুলসীতলার প্রাঙ্গণ থেকে তাকে ফিরিয়ে এনেছে উঠোনের আঙিনায়। সেই কান্না বেলুড় মঠের সন্ধ্যারতির কাসরঘন্টার থেকেও মনকে বেশি করে নাড়া দিয়ে যায়। এ তো ছোট্ট একটা অবলা শিশুর করুণ মিনতিতে তার মা’কে কাছে পাওয়ার ডাক। এখানেই রয়েছে জীবনের আসল সন্ধ্যারতি। পূজার নৈবেদ্যর মধ্যে নয়। সন্ধ্যারতির পূজার নৈবেদ্য যেন, কোথায় মিলেমিশে গেছে, এক না শোনা অন্তরের ঝংকারে। মায়া-কায়া মিলেমিশে একাকার, মাতৃত্বের  না-চেনা সুরের ছন্দে। নব-রূপে নতুন আনন্দে। মনের গভীর অপূর্ণ অন্ধকারে আলোর স্পর্শে।

মোহন বাঁশিটা নিজের এক চিলতে আস্তানা থেকে বেরিয়ে এসেছে, বিশ্ববাসীর প্রশস্ত আলোকে, সারদা মায়ের অপার স্নেহের করুণায়। মাতৃবন্দনার প্রতীক, দেবী দুর্গা থেকে কালী নতুন আভরণে সাজছে। নতুন বেশে। প্রতীক তো আমাদেরই তৈরি বিগ্রহ, না চেনা অন্তর্যামীকে নতুন ভাবে চেনার। রূপের ঊর্ধ্বে অরূপকে, নতুন ভূষণে সাজিয়ে, নতুন সুর পূজার থালা থেকে অবচেতনের বদ্ধ কুঠরিতে। কখনো কালী মন্দিরে দেবীর বন্দনাগানে ‘মা কী আমার কালো রে…’ কখনো দুচোখ ভাসিয়ে হৃদমাঝারে কালীমূর্তির ধ্যানে ‘এ কালো সে কালো নয় গো শ্যামা, ভুলাবি কী মা মায়ার জালে?’  কৃষ্ণভক্তরা তাদের সুরে তাল মিলিয়ে গায় ‘কালাচাঁদের রূপ দেখলে কী আর কেউ ওকথা বলতে পারে?

কিন্তু মা তো আরাধ্য বিগ্রহের বাইরে একটা চেতনা, একটা অনুভূতি।

মুক্তির পথ।

শান্তির পথ।

চেতনার উত্তরণ।

শূন্যতার মধ্যে পূর্ণতার আবেশ।

সেই চেতনা নিজস্ব পরিমণ্ডল থেকে সেজে ওঠে মাতৃভূমির আরাধানায়। তাই বিবেকানন্দ কন্যাকুমারীতে বসে দেখতে পারেন অন্য এক মা’কে। জন্মভূমি মা। ভারত মাতাকে। যা, যে কোনও দেশের, যে কোনও জাতির ক্ষেত্রে সমান ভাবে প্রযোজ্য। ‘জননী জন্মভূমি স্বর্গদপি গরীয়সী’। কত যুদ্ধ লড়া হয়েছে এই জন্মভূমি ধাত্রীর জন্য। কত লোক কুর্বান দিয়েছে মাতৃভূমির মাটিতে স্বাধীনতার জন্য। ‘কলজে তোমার খাক হয়েছে মায়ের দেখে বেইজ্জত, ভাইরা লাথ কুত্তা বনে জালিম খানায় দেয় মদত, কেউ বা বলে হিন্দু বুলি, কেউ বা বলে মুসলমান , আল্লা হরি খুন হয়েছে চুপ রয়েছে দাস জবান’সেই মায়ের ডাকে একদিন বেজে উঠেছিল স্বাধীনতার দামামা এক সুস্থ জীবনের স্বপ্নে ‘স্বাধীনতা তুমি উঠনে ছড়ান মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন’– সেই মুক্তির পথ তো দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসা আর প্রণাম।

দেশাত্মবোধক চেতনা একদিন ছড়িয়ে বিশ্বের আঙিনায়, নব চেতনায়‘বিশ্বজন আমারে মাগিলে কে মোর আত্মপর, আমার বিধাতা আমারে জাগিলে কোথায় আমার ঘর?’  সেই চেতনার আলোকে কবে ধাত্রী ধরিত্রী হয়ে যায় অজ্ঞাতে, তখনই স্থান, কাল, সময়ের সাঁকো পেরিয়ে বিশ্ব চেতনার নতুন জাগরণ। মানবিকতার স্ফুরণ। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা। ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ সে তো বিরাট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতি প্রগাড় ভালবাসা। সেখানেই ব্যাপ্তি। অবচেতনের আঁধার পেরিয়ে, চেতনার আলোকে ধৌত হয়ে, প্রেমের পথে উত্তরণ।

তবুও তো চেনা হল না তাকে। কিছুটা উপলব্ধি করে দ্বন্দ্বের মধ্যে ঘুরপাক খাওয়া। অস্তিত্বে ধোঁয়াশা। তাই নিরুপায় হয়ে আবার নিজেকে সঁপে দেওয়া ‘সন্ধ্যা হল গো ও মা, সন্ধ্যা হল বুকে ধর, অতল কালো স্নেহের মাঝে, ডুবিয়ে আমায় স্নিগ্ধ কর’ – এখানেই পরাজয়। অন্ধকারে আরোহণের ব্যর্থতা। দ্বন্দ্বের সামনে দাঁড়াবার ভয়। যেখানে আপেক্ষিক স্বত্বা ঘুরপাক খাচ্ছে চেতনার চোরাবালিতে। এই দ্বন্দ্ব অতিক্রম না করে, নিজ হুতাগ্নিতে না জ্বলে, তো নির্বাণে পৌঁছন যায় না।

হাত ধরে গুটি গুটি পায় যে হাটতে শিখিয়েছিল, সে তো সীমারেখা বেঁধে দেয়নি কোথায় থামতে হবে। পথ কণ্টকাকীর্ণ। চোরাবালিতে পদে পদে স্খলনের আশংকা। জিহাদ। অস্তির সংগে নাস্তির টানাপোড়ন। শ্লেষ, অবজ্ঞা, ব্যর্থতা, পরিত্যাগ। আমিত্বমুখি চেতনার আত্মসমর্পণ। সত্তার কোলে। শুধু একটাই নিশানা। এগিয়ে যাওয়া ছেলেবেলার চাঁদমামার ছায়াঘেরা বনাঞ্চলের আঁকা বাঁকা মেঠো পথে এ পথ যে চলার পথ, থামার পথ নয়…

বারবার ফিরে ফিরে দেখতে নিজেকে। যতদিন না ক্ষুদ্র ব্যক্তিত্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় মহাবিশ্বের অধিষ্ঠিতে, যেখানে অস্তিত্বটা অনাপেক্ষিক। জীবাত্মার সংগে পরমাত্মার অবিচ্ছেদ্য মিলনে পূর্ণতা- একমেবাদ্বিতিয়ম ‘সো অহং’ । সেখানে আলো নেই তবু আলোর বন্যা, যেখানে গন্ধ নেই তবু সুগন্ধের ঝর্না, যেখানে কেউ নেই, তবু যেন কার অমৃতস্পর্শে দেহ মন আনন্দে শিহরিত হয়ে ওঠে প্রতি পলে। যেখানে স্তম্ভিত জাগ্রত মহাবিশ্ব বরণ করে নেয় সত্ত্বা আর আত্মাকে পরম স্নেহে। কানে কানে নিঃশব্দে শোনায় এক গম্ভীর প্রণবধ্বনি শান্তির আলোকে, মহাবিশ্বের পরম সত্যের অমৃত কথাঃ

‘ওঁ প্রত্যাগ্যানন্দং ব্রহ্মপুরুষং প্রণবস্বরূপং

অ-কার উ-কার ম-কার ইতি

ওঁ স্বর্বভূতস্থং একং বই নারায়ণং পরমপুরুষং

অকারণং পরমব্রহ্মং ওঁ

ওমিতি ব্রহ্ম ওমিতি ব্রহ্ম…’

বাংলা সংস্কৃতি একবিংশ শতাব্দীতেঃ প্রাসঙ্গিক রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথের জন্মের দেড়শো বছরেরও বেশি সময় অতিক্রম করার পর একবিংশ শতাব্দীতে বাংলা সংস্কৃতির দিকে ফিরে তাকাবার ইচ্ছেটা থাকেই।

আমি অন্তত আজকের প্রতিষ্ঠিত অস্তিত্ব সংকটে জর্জরিত কোনও ‘মহান কেউকেটা’ সংস্কৃতির বাহক নই যে, কালচক্রে, টাইম মেশিনে নিজেকে স্থগিত, রুদ্ধ, আবদ্ধ করে বলব “রবীন্দ্রনাথ ছাড়া তো আমরা কিছুই ভাবতে পারি না।” সেটা রবীন্দ্রনাথের মহত্বের কাছে নতি স্বীকার, না নিজেদের দৈন্যকে আড়াল করার চেষ্টা, নাকি নিজেদের শূন্যতাকে রবীন্দ্রনাথের মলাট দিয়ে পাতে দেওয়ার যোগ্য করে তুলতে চাওয়া- বোঝা শক্ত। রবীন্দ্রনাথের মহত্ব নিয়ে বিশদভাবে লেখা ও বলা হয়েছে। তাই ওনার প্রতিভা বা সৃজনীশক্তি সম্বন্ধে কিছু বলা নিষ্প্রয়োজন। প্রাসঙ্গিক তাঁরা, যাঁরা রাবীন্দ্রিক অলংকারে ভূষিত হয়ে ক্ষয়িষ্ণু বাংলা তথা বাঙালি সংস্কৃতির বাহক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রশ্ন জাগে, রবীন্দ্রোত্তর যুগে বাংলা সংস্কৃতি কতখানি এগিয়েছে।

তথাকথিত গৌরবোজ্জ্বল বাংলা সংস্কৃতির অগস্ত্যযাত্রা বেশ কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল। বিশ শতকীয় কুলীন স্বর্ণযুগের অবসানে তা এক নতুন মাত্রা পেল। একবিংশ শতাব্দীতে কিছুটা এগনোর পর বেশ বোঝা যাচ্ছে, দেশি মিডিওক্র্যাটদের মধ্যমেধার দাপটে সেই সংস্কৃতি যৌবনের অন্তেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। প্রৌঢ়ত্ব বা বার্ধক্য জাতীয় কোনও বিশেষ পরিণতির তোয়াক্কা না করেই। ‘বাঙালি বা বাংলা’ বিষয়ক নাগরিক আধুনিকতা, যা একান্তই কলকাতা-ভিত্তিক, তা বর্তমান ভৌগোলিক বাংলায় মাত্র দু-আড়াইশো বছরের উপনিবেশ-পর্বের অবদানমাত্র। এই পর্ব একাই মহাভারতের সাপেক্ষে ‘আঠারোশো’। তার আর কী-ই বা দরকার, দু-দিক থেকেই? গাঢ় আঁধারের এক সুদৃশ্য উত্তরীয় জড়িয়ে সমগ্র বাঙালি ক্রমশ কৈশোরের উচ্ছ্বাসে গোগ্রাসে গিলছে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া সেই সংস্কৃতির উচ্ছিষ্ট। পুরনো দিনের কথায় আক্ষেপ আর অবসরে অশ্রুমোচন। কবিগুরুর জন্মদিন বা মৃত্যুদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, তার ফাঁকে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দর সঙ্গে ঋত্বিক-সত্যজিৎ সমেত উত্তমকুমার, কিশোরকুমার আর পঞ্চম-সন্ধ্যা পালন ছাড়া আজ কি বাঙালির কিছুই দেওয়ার নেই! খিদে-তেষ্টার মতোই স্মরণ-মনন থাকা প্রয়োজন, কিন্তু তাতেই আটকে গেলে তো সৃষ্টি থাকে না।

এন্টার্টেনমেন্টের আঙিনায় ছোটবেলার চেনা সুরগুলো এখনও স্বর্ণযুগের মুকুট পরে ঘোরাফেরা করছে, কিছুটা বিবেক আর কিছুটা কথকের ভূমিকায়। তাল মিলিয়ে দুঃসহ টিভি থেকে বেরিয়ে আসছে নানা ঢঙে রবীন্দ্রসংগীত আর স্বর্ণযুগের উচ্ছিষ্ট বা তার অংশবিশেষ। এই সুরগুলো তো বহুদিনের চেনা। কিন্তু কোথায় যেন একটা অসংলগ্ন ঝংকার ছন্দপতন ঘটাচ্ছে চেনা সুরের না-চেনা ব্যঞ্জনায়। থমকে দিয়েছে সুরের স্বাভাবিক মূর্ছনা। ইন্দ্রিয়ে নির্বাক অসহনীয় যন্ত্রণা। সুর তো প্রাণ স্পর্শ করা ছন্দের ব্যঞ্জনা। অথচ ব্যঞ্জনা আছে, সুর নেই। চাটুকারিতার চাকচিক্য আছে, প্রচারের ধামাকাও আছে, কিন্তু প্রাণ নেই। হার্টবিট বাড়ানোর উপকরণ থাকলেও, পরিবেশ হৃদয়হীন। বিবর্তনটা অবশ্যম্ভাবী জেনেও, ট্র্যানজিশনটা কেমন যেন সুরহীন যন্ত্রাংশের ক্যাচক্যাচে আওয়াজ। মডার্ন রবীন্দ্রসংগীত। রবীন্দ্রনাথকে আধুনিক বাঙালি সংস্কৃতির অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কাঁটাছেড়ার নতুন নাম নাকি ইম্প্রোভাইজেশন, তবে চর্চায় নিশ্চিত মূঢ়জনের থিসিস কালচার। যাদের ম্লান, মূক মুখে একদিন ভাষা জোগানোর প্রতিজ্ঞা ছিল।

তবে কি বুড়ো হয়ে গেছি? ফেলে আসা অতীতের স্মৃতি-বিস্মৃতি থেকে নতুন সুরে আর জাগতে পারছি না? স্বর্ণযুগের পরে কী শুধুই রাবীন্দ্রিক অশ্রুমোচন? মেনে নিতে মন চায় না। রবীন্দ্রকালেই তো অতুল-দ্বিজেন্দ্র-নজরুল প্রমুখের তালে মেতেছিল বাংলা।

এ তো বেশিদিন আগের কথা নয়। গীতিরস মিশে যেত ভাবের অনুভবে। এরা কেউ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা অতুলপ্রসাদ নন। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, শ্যামল গুপ্ত, ভাস্কর বসু, সলিল চৌধুরী বা পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই থিরুমলের কণ্ঠে আধুনিক গান চিরায়িত সত্যের বাণী শোনাত ‘তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ…’ কখনও আবেগে প্রেমিক যুগল গঙ্গার বুকে ভাসতে ভাসতে গেয়ে উঠত‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ বা সলিল চৌধুরী সাজিয়ে তুলতেন সন্ধ্যার আবেশে মোড়া চিরশান্তির বনলতাকে-‘শ্যামল বরণি ওগো কন্যা…’ সুরকার, গীতিকারের কল্পনাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেত দেশ-কালের পরিধি ছাড়িয়ে। হেমাঙ্গ বিশ্বাস থেকে কমল দাসগুপ্ত – এক এক করে উঠে এসেছে প্রতিভা। রাইচাদ বড়াল, সলিল চৌধুরী, অনুপম ঘটক, সুধীন দাশগুপ্ত, নচিকেতা ঘোষ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সলিল চৌধুরীর সৃষ্টির পিছনে অন্য এক গণ-সুরের অভ্যুত্থান – অরুণ বসু, মন্টু ঘোষ, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। জাদু ছড়াচ্ছে একদল তরুণ তুর্কির ক্ষুরধার লেখায়, তাঁর স্ত্রী জ্যোতি চৌধুরীর নিভৃত আশ্রয়ে। ষাটের গোড়ার দিকে ওয়েস্টার্ন সিম্ফনির আঙ্গিকে গড়ে উঠল নতুন ধাঁচের জীবনমুখী গান – অরুণ বসুর তত্ত্বাবধানে, রুমা গাঙ্গুলির নৃত্য পরিবেশনায় ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়ার, যা ক্রমে বিকশিত হল পরিমল সেনের দক্ষ পরিচালনায়। মানুষের গান। জীবনের গান। প্রতি মুহূর্তের সুরমূর্ছনা এক অ-রাবীন্দ্রিক বিন্যাসে। সমান দক্ষতায় উঠে এল মার্গীয় রসবোধ। কখনও নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও রবিশঙ্কর, কখনও আলি আকবর, আল্লারাখা, ভি জি যোগ, বড়ে গোলাম আলি খান সাহেব থেকে বিসমিল্লা খান। কিংবদন্তির প্রাচুর্য অবিস্মরণীয় সৃষ্টিমাধুর্যে ভরিয়ে দিতে লাগল অনভূতির বাসনা। বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়, জয়া চৌধুরী, মণিলাল নাগ – অতীত যেন বর্তমানের হাওয়ায় পাখনা মেলে ভেসে যাচ্ছিল ললিত গৌরী থেকে বাসন্তী কেদার হয়ে ভূপনাথ, শাওনি কল্যাণে। শুভ্র বরণ এক অনন্ত সময়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নীরবতার বাতাবরণ সরিয়ে, সুরের সূক্ষ্ম কারুকাজ সাজিয়ে চলেছে একদল যুগস্রষ্টা। প্রভাতের স্তোত্র থেকে সন্ধ্যার দেবারতি। সুরের আরাধনার সময়ও যেন সুরকেই বলছে ‘তুমি আমার ভোরের বেলা ঝিম দুপুরের দানশেষ বিকেলে লালের ছোঁয়া নীল তারাদের গান’

সেই হারিয়ে যাওয়া তারাদের ভিড় থেকে, অনন্ত সময়ের কিছুটা ব্যাপ্তি পেরিয়ে, সেই ‘নীল তারাদের গান’ কি কেউ আজও খোঁজে? শুধু আমাদের মতো কালহীন সময়ের মাঝদরিয়ায়, অকুলে ভাসা কিছু লোক ছাড়া? অতীতের পালছেঁড়া দমকা হাওয়ায় ভেসে যাওয়া নৌকোটা যেন অকুল সমুদ্রে ভাসছে, নোঙরের আশায়। ক্ষণিক আয়ুর মধ্যে প্রাণ খুঁজছে বর্তমানের কাছে। স্নেহের দাবিতে স্মৃতিকে পিছনে সরিয়ে আশ্চর্য অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে বেড়াচ্ছে একটা অস্পষ্ট অবয়ব। নতুন ছবি। নতুন চিত্রপটে যা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে জীবলোকের চাওয়াকে এক নির্দিষ্ট মোহনায়। খালি মোহনার ঠিকানাটা এখনও জানি না। তারাদের পূর্ণতার আস্ফালনে তো শুধুই শূন্যতার রাগ শুনে চলেছি। হাজার লোকের ভিড়ে কোথায় যেন অন্তরের নির্জনতা আজ গ্রাস করছে। যা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি এক বেলাভূমির তেপান্তরে, নির্জনে। সহস্রকোটি গাছের বনাঞ্চলে। একটু রং চাই। একটু ছন্দ চাই। একটু সুর চাই। নাই বা হল দয়িতার হাতে হাত রেখে ‘আকাশ পানে চেয়ে চেয়ে, সারা রাত জেগে জেগে’ স্বপ্ন দেখা। দমকা হওয়ার মতো নতুন সুরের ব্যঞ্জনা এঁকে যে লোকটি এসেছিল, ‘এই যে দেখেছি আবছায়াটা লাগছে ভালো, ঘরের কোনে একটি মাত্র মোমের আলোকার তার কী? আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি’, সেই সুমনও স্বপ্ন হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে মাঝ দরিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। ভোল পাল্টে, অশুভ আঁতাঁতে, সর্বসৃষ্টি বিসর্জন দিয়ে, দেশোদ্ধারের কনফিউজড স্লোগানের কালচক্রে হারিয়ে গেলেন। অকুলে হাল ধরার অক্ষমতায়, নাকি আত্মজিজ্ঞাসার আতঙ্কে।

বিভূতিভূষণ, প্রেমেন্দ্র মিত্র, জীবনানন্দ, এক নতুন চেতনার স্ফুরণ। অনেকাংশে রবীন্দ্রনাথের থেকেও এগিয়ে। কিন্তু মানসিক দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাঙালি এদের থেকে সাহেবি উপাধিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই কালচক্রের আবর্তনে এরা ম্রিয়মাণ। ফাইন্যানসিয়ালি এরা নন-বেনিফিসিয়াল। তাই ওদের  ভুললে ক্ষতি নেই। বরং আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রনাথকে পাকড়ে যদি কিছু কামিয়ে নেওয়া যায়, সেটাই শ্রেয়। কবিগুরু তাই সৃষ্টির দূত থেকে বাণিজ্যিক ভূতে রূপান্তরিত হলেন। বাড়ল সাংস্কৃতিক তালকানাদের আধুনিকতার উচ্ছ্বাস। বো-ত-লপুর হয়ে গেল এলিটদের কালচাঁড়াল পীঠস্থান। নাই বা পড়া হল রবীন্দ্রনাথ। নাই বা বোঝা হল আন্তর্জাতিক-তাকে। রাব-ইন্ডিক উত্তরীয় চড়িয়ে স্কচে চুমুক দিলে স্ট্যাটাস বাস্তবিক বাড়ে, তবে পুরুষানুক্রমিক হিসেবেই খেয়াল রাখবে, রবিটবি যেন শখের হোমিওপ্যাথি আর জ্যোতিষের থেকে বেশি নম্বর না পায়।

সৃষ্টি যখন মিডিয়ার ঘেরাটোপে, যখন লাখ-লাখের পাবলিসিটি, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েও ছবি বাজারে চলেছে না, তখন খারাতপ্ত অস্তিত্ব সঙ্কটে হঠাৎ শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ জাদু ছড়াল। ভাসিয়ে দাও সেই স্রোতে নিজেদের। বক্স অফিসে ভরাডুবি হবে না। শরদিন্দুর গোয়েন্দার চর্বিত-চর্বণ করে সিরিজ বানিয়ে বাজারে ছাড়তে থাক। মধ্যরাতের পার্টি আর পেজ থ্রি-তে অস্তিত্বটুকু বেঁচে থাকবে। আর কিছু না হোক, খেয়ে-পরে টিকে থাকা যাবে। ব্যোমকেশ ছাড়া শরদিন্দুর আর কিছুই নেই!

কর্পোরেট আবহে কিছু সাহিত্যিক ও কবি বেরিয়ে এলেও, শেষ পর্যন্ত বাজারি কাটতির দিকে চেয়ে তাদের কেউ গুণগত মান ধরে রাখতে পারেননি। সমরেশ বসু, রামাপদ চৌধুরী, গৌরকিশোর ঘোষ, নাবারুণ ভট্টাচার্য বা সন্তোষ ঘোষ, সুবোধ ঘোষ, সুনীল-শক্তি, শীর্ষেন্দু-অতীন, বিমল করের পর বাংলা সাহিত্যও পেশাগত দোলাচলে ভরাডুবির মুখে। ১৯৪০-এ যে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা তীক্ষ্ণ-তীব্র হুঙ্কার ছাড়ল ষাটের দশকে। বাংলার নিজস্ব আঙ্গিক ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। অসীম রায়, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, হাংরি গ্রুপের মলয় ও সমীর রায়চৌধুরী, অরুণেশ ঘোষ, শৈলেশ্বর ঘোষ, বাসুদেব দাশগুপ্ত, তুষার ও ফাল্গুনী রায়, সুভাষ ঘোষাল, সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা কর্পোরেট-পুষ্ট লেখক নন, তাই এদের পরিচিতিও সীমিত। ১৯৬০ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত এই টানাপোড়েনের মধ্যে লেখকদের সহায় ছিল যুগান্তর ছাড়াও বেশ কিছু প্রকাশক সংস্থা। আশির দশকে সেই যুগান্তর ও অন্যরা ক্রমশ বিলীন হওয়ার পর থেকে কর্পোরেট যাদের প্রজেক্ট করছে, তারাই সাহিত্যিক। তার বাইরে সাহিত্য বলে কিছু হয় না। বলা যায়, একাধিপত্যের সেই দিন থেকেই শুরু হল বিপর্যয়। নব্বইয়ে বিশ্বায়নের হাত ধরে গড়ে উঠল নির্দিষ্ট ধাঁচে লেখক তৈরির কারখানা। সাহিত্যের বিবর্তন রীতিতে অনেক নাম বাজারে বিক্রিও হল। অনেক সাহিত্যিক বেশ সন্দেশের ছাঁচে তৈরিও হল কর্পোরেট ভাষার স্লোগানে নিজের জায়গা বুঝে নিতে। কিন্তু কেউ রেখাপাত করতে পারল না। অথচ রসেবশে থাকা বাঙালি নতুন কিছু খুঁজছে, যা এরা দিতে অপারগ। সেই পাবলিসিটি এল, কিছু আবার স্টারও হলেন।

কিন্তু সাহিত্য তো স্টারডম নয়, কালানুগ নিজস্বতা। চিন্তাধারাকে কর্পোরেট-শোভন মখমলে ফেলে নাচনির স্টারডম সমেত বিক্রি করে খ্যাতনামারা আরও প্রখ্যাত হলেন। ঠ্যাঙে দড়ির জ্যাঠামিতে হারিয়ে গেল সৃষ্টি। গায়েব হল কৃষ্টি। সুদৃশ্য ওড়না জড়িয়ে ভূরি ভূরি অর্থহীন লেখা বিক্রি করে বছরের আয় গুনলেন কর্পোরেট। নাম, টাকা, স্টারডমের বিনিময়ে সাহিত্য কখন ব্যাকসিট নিয়েছে তা বুঝতে পারলেন না। কিংবা চাইলেন না। যুগান্তকারী সৃষ্টি অর্থের মায়াজালে হয় না। তা তখনই সম্ভব, যখন একান্ত নিজস্ব তাগিদে অন্তর থেকে বেরিয়ে আসে। রবীন্দ্রনাথের লেখা আজকের যুগেও প্রাসঙ্গিক- কেন? হয়ত স্থান-কালের গণ্ডী ছাড়িয়ে চেতনার ব্যাপ্তিতে, সময়ের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে, মুক্ত বিহঙ্গের মতো অনেকের সঙ্গে ভেসে বেড়াতে পারে, তাই। কর্পোরেট মায়ায় সে অবকাশ কোথায়?

সাবালক বাঙালি আবার নাবালকের আনন্দ ফিরে পেল। হারিয়ে গেল সেরিব্রাল ম্যাচিওরিটি, অর্থাৎ মানসিক সাবালকত্ব, মানসিক বিস্তৃতি। সাহিত্য তখনই সাবালকত্ব অর্জন করে, যখন অজানা অচেনা দিকগুলো তার মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়। এখন বাঙালির সময় সিরিয়াল, মিরাক্কেল, বিগ বস, ভুল তথ্যসমৃদ্ধ দাদাগিরি আর স্পন্সর্ড মিডিয়ার চর্বিতচর্বণে ভারাক্রান্ত। বাঙালি ভুল শিখছে। ক্ষতি নেই। মিডিয়ায় স্টার হচ্ছে। চিন্তাধারা এখন ফেসবুকে, সেলফি আর হোয়াটস অ্যাপে সীমাবদ্ধ। সৃষ্টির আগে সেলিব্রিটি হতে হবে, তাই সাতসকালে বোঁচকা কাঁধে বেড়িয়ে পড় মিডিয়া-বাবুদের পদলেহন করতে। গতিহীন ঘূর্ণিপাকে চিন্তাশক্তি ফিউজড- হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া ফরগট ইয়েস্টার্ডে।

আমরা একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে গেছি। বিবর্তন হয়েছে চিন্তাধারায়। বিবর্তন হয়েছে সাহিত্যেও। প্রশ্ন ওঠে, কোনটা সমাদৃত? কোনটা হাইপ? কোনটা পূর্ণতা? কোনটা বিক্রির পণ্য? সেই চিন্তাশক্তি কেড়ে নিয়েছে ইডিয়েট বক্স। রূঢ় সত্যটা বাঙালি দেখতে চায় না, ভয় পায়। তারা ভালবাসে আলো-আঁধারিতে থাকতে। কেচ্ছার সরলতাকে আঁকড়ে সত্যকে এড়িয়ে যেতে। রূঢ় বাস্তব যে বড় নিষ্ঠুর, কঠোর, ভাবাবেগ বিচ্ছিন্ন। তাই অর্থ থাকতেও অস্তিত্ব-সঙ্কটের শিকার কিছু ‘নব্য বাবু’ এল কালচারাল মজলিসে নজরানা ছুড়তে, মেহফিল সাজাতে। দিনে-রাতে-প্রকাশে-অলক্ষ্যে। স্পন্সর্ড মিডিয়ার কারুণ্যে কিছু সেলিব্রিটি বাজারে বিকোতে এল। সৃষ্টিকে পিছনে ফেলে সেই দিনরাতের মেহফিলে নিজেদের বিক্রি করার জন্য বহু মিডিওক্রিটি আশ্রয় নিল। স্টার হল। একটু লাইমলাইটের জন্য যে কোনও মূল্যে বিকোতে প্রস্তুত। আচ্ছা, রবীন্দ্রনাথ কী সেলিব্রিটি ছিলেন? নিশ্চয়ই নয়। ‘এ তো হাটে বিবার নয়… কণ্ঠে দিব আমি তাঁরে… যারে বিনামূল্যে দিতে পারি’ নজরুলের আভরণে তারা নতুন সুর ভাঁজল ‘আমি অর্থের গান গাই, আমার চক্ষে টাকাই সত্য, টাকা ছাড়া আমি নাই’  সাহিত্যের নামে রবীন্দ্রনাথ বিকোচ্ছে স্পন্সারশিপের নিলামে। তাঁর ভুল তত্ত্ব বিক্রি হচ্ছে। বেস্টসেলার হচ্ছে। “ওনাকে পড়েই তো রবীন্দ্রনাথকে জানলাম”- হায় পোড়া কপাল দিকশূন্য বাঙালির। এখনও চিনতে শেখেনি শূন্যতার কেন্দ্রবিন্দু? তোতা কাহিনির বাইরে আসল সত্যকে! মিডিয়া জিনিয়াস বানাতে পারে না। তাই রাবীন্দ্রিক দর্শন নয়, রাবীন্দ্রিক কেচ্ছা হুড়মুড়িয়ে বেস্ট সেলার। এখন প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কী এটাই বাংলার সাহিত্য? স্বামী বিবেকানন্দ আর নিবেদিতার রাসলীলা! কিংবা কথামৃত ভুলে রামকৃষ্ণর নারী দর্শন? ‘সৃষ্টি তুমি আত্মদহনে জ্বল, যদি নতুন সুরে, নতুন তানে, না কিছু বলিতে পার’

তবে কী সে যুগেই সব ছিল? আজ এই যুগে কি আর কিছুই নেই? যদি তাই হয়, তবে কেন আজ এই বিক্ষিপ্ত মন!

সময় হয়েছে রবীন্দ্রনাথ থেকে বেরিয়ে রাবীন্দ্রিক চেতনার ঊর্ধ্বে উঠে নতুন কিছু বলার। সেখানেই কৃষ্টির প্রগতি। চিত্তের মুক্তি। আগামী সংস্কৃতির নতুন চিত্রগাথা। নতুন প্রাণের জোয়ারে ভাসা বলিষ্ঠ চিন্তা। যা স্পন্দন তুলবে নিঃশব্দে, নীরবে, মনের দেওয়ালি উৎসবে। না হলে রবীন্দ্রনাথকে সঙ্গী করেই ক্রমশ বাঙালি সংজ্ঞার অপমৃত্যু ঘটবে।

বন্ধুবর আশিস চট্টোপাধ্যায়ের কলমে তাই জীবন জিজ্ঞাসার স্বপ্ন আবার উঁকি দেয়ঃ

‘জীবনের ঝরে পড়া ধানগুলো

খুঁটে খুঁটে খেয়ে চলে স্মৃতির পাখিরা

ওগো ব্যাধ তুলো না গাণ্ডীব 

তার চেয়ে হও তুমি নীল বাতিঘর 

দেখাও দিশার আলো নিশার আঁধারে’

অন্ধকারে দমকা আলোর রোশনাইয়ের মতো সেটাই তো আগামীর বীজমন্ত্র। খরাতপ্ত আকালের মধ্যে বর্ষার না-চেনা মেঘমল্লার।

কবিগুরুর স্বপ্ন, তাঁর আড়ম্বরের মধ্যে নয়। নতুন চেতনার স্ফুরণে। ‘এখন করিছে গান সে কোন নতুন কবি তোমাদের ঘরে?’ দেড়শো বছর পরেও সেই বিশ্বচেতনার স্রষ্টাকে খুঁজছি সাহিত্যের পাতায়, সৃষ্টির কাব্যগাথায়। যা প্রচারের দাপটে প্রকট না হয়েও সদা প্রোজ্জ্বল। হাজার ব্যর্থতার মধ্যেও পথের দিশারি। আগামীর পাথেয়। নাই বা রইল উচ্ছ্বাসের ঘনঘটা। নাই বা রইল রঙিন বর্ণচ্ছটা। ধূসর বর্ণহীন অচলায়তনের অনাড়ম্বরেই হোক সেই ‘ব্যথার পূজার সমাপন’নতুন চেতনার উদ্ভাসে। কবিগুরুর ইতিহাস সাক্ষী রেখেই আগামী সীমা-অসীমের ধোঁয়াশা থেকে মুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট মোহনায় পৌঁছতে পারবে। দোলাচলের বাইরে জীবাত্মা আর পরমাত্মার যুগলবন্দিতেই হবে সাধনার পূর্ণতা- একমেবাদ্বিতিয়ম ‘সো অহং’

আলোগুলো নিভেছে, ফিউজটা জ্বলে গেছে প্রচারের দাপটে। বিজ্ঞাননির্ভর জীবনেও মায়াবী রাতে তারাদের দিকে উদাস চেয়ে থাকি, ছোঁয়ার আশায়। কবে আবার নতুন করে জীবনটা নিওনছটার বাইরে চাঁদের মায়া দেখবে? কবে আবার আজটা কাল হবে, পরশুটা আজ।

চিত্রশিল্পী অদিতি চক্রবর্তী

COSMETIC SURGERY…EVOLUTION & KOLKATA!

In the last fifteen years, there has been a dramatic change in the medical scenario. From the age old teaching of ‘in my experience’ it has evolved on to one of ‘evidence based medicine’, i.e. has it, the desired result, as has been described?  With advent of modern newer techniques the cost of medical treatment has also increased. There is no substitute for quality treatment, but at a price. If you want quality you have to pay the price. Each and every person wants the best. But where is that money, which is going to give the best come from?

Kolkata is not economically strong enough for the government to cater to this advanced quality medical care where consumables are expensive. With this newer concept in mind there has been an outgrowth of private hospitals, which are in no way inferior to any of the leading centres in India and the world. They have got the amenities, but you have to pay for it. There has also been an influx of foreign trained medical personnel, equipped with the latest methods of treatment. In short there is facility in Kolkata like any other metropolis in the world; and both from equipment point of view and expertise. Now to avail this quality medical care, which is available in Kolkata, a common man is faced with the burden of excess expenses, which they sometimes wrongly attribute to the corporate sector overcharging, which is not always the case.

When treating a patient there is no “second cheaper alternative’, because that compensates on quality. For example a simple K-wire used for fracture might be the cheapest but in no way the best. To avoid osteomyelitis (bone infection) on a broken bone, you need a rigid fixation. Stainless steel plates might be cheaper, but again is a compromise. If we have to put titanium plates, which are the best with the least problems, it costs. In plastic surgical scenario there have been a lot newer modalities that have emerged in the last few years. From liposuction to microsurgery to laser to radiofrequency rejuvenation, all are available in Kolkata, as per international standards, as well as expertise too. But a microsurgical stitch is ten times more expensive than an ordinary stitch, and it does involve long hours of surgery, which escalates the cost of consumables.

In the present day economic scenario of Kolkata, no government can provide this service ‘free’. Yet a significant amount of population is at lower socio-economic strata. Just like we have to buy food, clothing and shelter, so also in modern medicine, we have to buy health. The only alternative is to take out an insurance policy, to cover these medical expenses.

There has also been a socio-cultural change in the philosophy of life. With the wide prevalence of the electronic and print media, bombarding at our door-step and the insurance companies securing our future, the philosophical outlook towards life has also changed from ‘securing for future’ to ‘living for the present’. It is either a holiday to Maldives or Bangkok, booking the latest car or having a ‘boob job’. It is the philosophy, ‘I want it’. We cannot deny the fact that for elementary living, we need two square meals a day, a roof over our head and a little bit of cloth to cover our shame. The rest is a question of ‘desire’ – I want, and I want to live the way I want. It is a state of mind as to what gives you happiness. If it does, go for it. Today’s young lady is no longer dictated by parents, as when they should come back home or what dress they should wear. A housewife is no longer ‘an element’ to cater to her husband’s and family’s needs. She has a mind and independence of her own. She has got her own likings. She has to go out to earn money and she can herself afford her own luxury tit-bits.

If she wants to look beautiful by enhancing her breasts or is unhappy with her nose, or wants to get rid of the facial scars, she is ready to go under the knife. There has been an outbreak of beauty parlours and fashion shops to fulfil her primary wishes. But the question arises- do these beauty parlours have sufficiently trained personnel to look at their wishes? Why not go to a grocery shop owner to have your eyebrows corrected rather than an extravagant untrained beauty parlour. It will be cheaper. “Cosmetic” is word that sells. Anyone can put a tag in their name and call themselves a ‘cosmetologist’. But the real truth is it is only the plastic surgeons, who are trained in this science are qualified to practise this medicine.

In the past, to marry an ugly looking daughter, the father had to shell out dowry, to get a suitable groom. With the dowry system gone to oblivion, the humble parents have to resort to the plastic surgeons, to make their daughter acceptable to the be-fitting groom. The dress culture has undergone a radical metamorphosis – from the saree clad, half face covered housewife, to a modern lady wearing designer tops and partly revealing fashion dresses. With exposition of more and more bare skin and curvature, to get that curvature corrected has become an accompanying necessity- so also has there been a rush for cosmetic surgery. Even a poor housewife from a village would have it done, if she can afford it. And it is affordable too. The realm has shifted from people in showbiz to the girl next door. Maybe she will be in the television tomorrow.

With the family being more and more consolidated to nuclear structure, the housewife has her independence too. She has to convince her husband and no one else. If he is convinced, she can have it done.

With the sun rising in the eastern horizon, Kolkata is also rising to evolution of modernisation in every form. There is a future, a future for prosperity, progress and dominance. There are some steps to go towards this dominance. The para-medical training and professionalism has to increase more to bring it up to international standards. The academic scenario has to improve where Kolkata can itself generate its own successors in the field of medicine, rather than trained personnel from other places. And the unheard of avenues of medical treatment brought to the awareness of masses. We have the set-up for dealing with cranio-facial problems, where skull bones fuse to impair normal development of brain. If these bones are re-modelled making more space for brain to develop, some mentally retarded children can develop into normal human beings. Birth defects are not covered by insurance. It is high time for the insurers to look into these deficiencies of cover, to give the policy holders more versatility of choice.

If a nerve is damaged above shoulder, we term it as ‘brachial plexus injury’. This can be treated by surgery. Of the four trained surgeons in India, we have one in Kolkata. Only they must know where to go to.

The treatment of congenital defects starts from the day when the baby is born, not when it has become a necessity. Please consult a plastic surgeon, the next day the baby has a birth defect. He may guide you to the right modalities of treatment. Sometimes delay can be a disaster.

In the last one year, new techniques of cosmetic surgery have emerged. Three years back, we introduced Botox to Kolkata in a seminar held at Apollo Clinic (Theatre Road). Since then Botox has been immensely popular to the extent, anyone in Kolkata started doing Botox treatment at a much cheaper price than qualified plastic surgeons. The competition became so intense at reducing the prices that the treatment price fell below the cost price of a Botox vial!!! Botox works well, but the only disadvantage was it lasts for 6 months.

In the last year, a new method of permanent treatment of forehead wrinkles and lifting chin has come up in western world and now available in Kolkata. This is by process of introducing special threads called CONTOUR THREADS or APTOS THREADS.  It can be done under local anaesthesia and probably slightly more expensive than Botox. Though, thread lift can be done as an alternative to face lift, I still feel its role in facial rejuvenation is limited to those who are not trained to carry a SMAS or a composite lift, whose results have been proved to have long lasting value.

We were using collagen fillers as Restylane in the past, but this also like Botox lasts for 4 to 6 months. We had tried fat injections, but they dissolve in one years’ time. As a permanent solution, I was not using either of these techniques. I was injecting Artecol, as Lemperle, who is the inventor of Artecol, had trained me. This needs special training, otherwise results can be disastrous. Recent reports have revealed they form granulomas in the long run. A more recent solution to this is use of Reviderm, which lasts for 5 years, or Aquamid, which lasts for 10 years, which again needs training but have not been reported to have adverse effects.

In breast reduction and mastopexy there has been a continuous metamorphosis of technique. The aim has been to reduce scars and give a better shape. As cosmetic surgery involves fighting gravity, newer modifications of breast reduction and mastopexy technique have come up to fight the gravitational element. Will the breast remain lifted even after 5 years? The techniques practised by us are aiming at that, but time can only confirm its authenticity.

People have misconception about liposuction. Liposuction has nothing to do with obesity. Obesity is combined approach between a physician, dietician and plastic surgeon. Liposuction corrects body contour problem. The old theory of liposculpture preached throughout the world has disappeared owing to its incompletely trained abuse leading to serious contour problems. However, in trained hands, it still has a role.

Lip enhancement techniques have emerged for those who want to make it prominent.

With CONTOUR OR APTOS threads, a depressed look in the eyes can get a brighter appearance.

Practice of medicine is a process of evolution. Fashions change and with that, new techniques evolve to replace the old. Some stay, others, which cannot pass the test of time and clinical consistency wither away. Only what is genuine, authentic and proven lingers on.

Kolkata has a lot to offer. No point in thinking of going to Chennai or Vellore for better treatment. Maybe the person treating you in these places is fifteen years junior to his counter-part in Kolkata and maybe not as up-to date and experienced compared to the one in Kolkata. The question is finding the right person. It is better to rely on medical advice as who knows the job, than rely on family friends and relatives advising you, when you are puzzled. If the people understand this, you will find the surgeon next door is good enough. The other words of caution- beware of the ‘flying doctors’, advertising and coming for a weekend consultation. They may be a worse choice than a doctor next door, who will take care of you at 2 o’clock in the morning, if there is problem.

They said one day ‘The Sun never sets in Britain”. With the fast expansion in the healthcare sector, already we are getting foreigners flocking into Kolkata for quality healthcare at an affordable price. With the rising of Kolkata, maybe tomorrow, with the dawn of a new era, Kolkata may become the “Mecca” of the healthcare of the world.

 

 

বৃষ্টি ভেজা রাত

সূর্য অস্ত গেছে

অনেক অনেক অনেক আগে

হাঁসফাঁসে গোধূলি থেকে জমাট আঁধার।

মা ফ্লাইওভারের থমথমে রাতের জড়তায়

এসি গাড়িটা ছুটছে শ্রান্তির আঙিনায়।

তাপদগ্ধ কোলাহল থেকে কনত্রর মিষ্টি চুমুকে

একটু স্নান, একটু বিশ্রাম, একটু আরাম।

নিঝুম রাত, শুধু মুখোমুখি চাওয়া

কথা নেই, তবু অনেক কথা বলা।

মেঘটা চিবুক ছাড়িয়ে, ঠোঁটের ওপরে

সরীসৃপের মতো উঠছে কাজল চোখের দিকে।

সব মেঘ কেন আকাশ ভুলে বুকে?

স্বপ্ন কী তবে হারিয়েছে

কাজলকালো ও দু চোখে?

জড়ানো চোখ, কাঁপা ঠোঁট,

ক্ষণিক ক্লেশের বিরাম

এসির প্রলেপে যেটুকু আরাম।

দেহের চাওয়া ক্লেদাক্ত রাতে ম্লান।

আকাশ পেরিয়ে, নিশুতি মাড়িয়ে

রক্তমাখা আকাশগাঙ পেরিয়ে

বৃষ্টি এল। জড়তা ভেদ করে

রাতের মখমলে ওড়না বুলিয়ে

বাহির থেকে অন্তরে।

ছুড়ে ফেলে কনত্রর গ্লাস

শ্রাবণ তখন মত্ত উল্লাস।

ব্যথভারা অস্তিত্বর স্নিগ্ধ আলোকে।

Blog at WordPress.com.

Up ↑

StormyPetrel

আমার মনের মাঝে যে গান বাজে,শুনতে কি পাও গো?

Writcrit

Creative and Bookish

The Blabbermouth

Sharing life stories, as it is.

Prescription For Murder

MURDER...MAYHEM...MEDICINE

Journeyman

Travel With Me

কবিতার খাতা

কবিতার ভুবনে স্বাগতম

NEW MEDIA

LITERARY PAGE

Coalemus's Column

All about life, the universe and everything!

Ronmamita's Blog

Creatively Express Freedom

যশোধরা রায়চৌধুরীর পাতা

তাকে ভালবাসি বলে ভাবতাম/ ভাবা যখনই বন্ধ করেছি/দেখি খুলে ছড়িয়েছে বান্ডিল/যত খয়েরি রঙের অপলাপ/আর মেটে লাল রঙা দোষারোপ

Kolkata Film Direction

Movie making is a joyful art for me. I enjoy it as hobbyist filmmaker - Robin Das

arindam67

বাংলা ট্রাভেলগ

The Postnational Monitor

Confucianist Nations and Sub-Sahara African Focused Affairs Site

TIME

Current & Breaking News | National & World Updates

বিন্দুবিসর্গ bindubisarga

An unputdownable Political Thriller in Bengali by Debotosh Das

rajaguhablog

Welcome to your new home on WordPress.com

জীবনানন্দ দাশের কবিতা

অন্ধকারে জলের কোলাহল

%d bloggers like this: