আবার জাগতে হবে

কাউকে কোনও মুহূর্তে, কোনদিন।

এই ক্লেদাক্ত বিষাক্ত গহ্বর থেকে।

লিখতে হবে নতুন স্বরলিপি

পুরাতনকে পেছনে ফেলে।

যেখানে নতুন কুড়ির প্রথম বৃন্ত

ফুটবে নিজ সৌরভের নব ফাল্গুনে।

রাতের নিঃশেষ হওয়া

স্কচের মাদকতার আবেশ

এখনও কী আর কিছু বাকি আছে?

হয়নি এখনও শেষ?

তোমাদের অহমের রেশ

উদ্ধত বিস্মৃতির অন্ধকারে?

জগাছে না আলো,

মাখছে না রেণু

কণ্টকময় ফুল-চন্দন শোভা

নিজ সৌরভের

উজাড় করা স্তাবকের প্লাবনে।

ইতিহাসের স্তুপাকৃত ভরা মধু

ক্লান্তির রঙে এখনও প্রোজ্জ্বল

নিঃশেষ হওয়া চিন্তার স্থূল রূপান্তরে।

জাগাবে না অযাচিত আবেগ

ফিরবে না রজনীগন্ধার

অন্ধকার একাকী আতুরঘরে।

কালের ইতিহাস কী সব?

আজকের কী আর কিছু নেই?

স্তব্ধ চিত্ত উদাস চোখে চায়…

ফেলে আসা কাল

সে তো সকলেরই চেনা।

না চেনা আগামী

কারোর কী তা জানা?

পাবলিসিটি খেলে চলে

উদাত্ত উল্লাসে, ত্রাসে, কানাকড়ির লোভে

না-চেনা কালকের ইতিহাসের

না দেখা সৌরভে।

আগামী চুপিসারে মুচকি হাসে

এলোকেশে ঢাকা নবীন কেশে।

অর্বাচীন সময়, না জানি, কত মধুময়!

অট্টহাস ছাড়ায়, প্রলাপের বিলাপে।

ক্ষণকাল, হারিয়ে যাওয়ার অবগুণ্ঠন

বাঁচতে সদা সমীহান

ভিত, সন্ত্রস্ত, কালকের আগমনে।

এখনও কী ঘুমিয়ে আগামীর যুগস্রস্টা?

মুছে যাওয়া অতীতের ঐকতানে কলেবরে?

জাগতে তো হবেই কোনও একদিন

কোনও এক ফেলে আসা অতীতের

সূর্যমাখা স্বপ্নের আঁতুড়ঘর থেকে

আগামীর অচেনা ভোরে।

আজ? কাল? অথবা পরশু?

নাকি, না-চেনা সূর্যমাখা সকালে

রুপোলী আলোয় ঝকমক করা বোয়িং

রানওয়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে

মাটি থেকে ডিভোর্স করা আগে

হাঁকছে উদ্বেল শেষ বাসনা নিয়ে

‘এলে না …

এখনও এলে না …

দাস ভিদানিয়া’

 

Advertisements