Search

Month

April 2015

TAGORE AND DEATH

“We are a part of vast entity classified as Universe” – Tagore inherited this truth from his father following the guidelines of Upanishad. However, never did he realize the truth would become a part and parcel of his life. In the sojourn of his life through numerous deaths that he encountered, it dawned to him our life is just a transient journey from the warmth of one mother’s breast to the warmth of another one. Or in other words from one womb to another. The phase in-between, which we term as “death”, is nothing but an unknown vastness beyond the realms of our knowledge. This is accordance with a Bhagawat Gita (Part 28 Chapter 2). It says:

“Abyaktadani Bhutani Byktamadhyani Bharat

Abyakta Nidhanaibya Tatra Ka Paribedana”

This means we are unaware where we were before birth. We are also unaware what will happen after death. The only bit we are aware of is our single life in-between. Having faced repeated deaths and bereavement in the long span of his life, right from being close to Michael Madhusudan Datta , known for his “Meghnad Badh Kabya”, Dinabandhu Mitra known for his “Neel Darpan”, his mother, then the love of his life his boudi Kadambari Devi who inspired him from childhood in his literally endeavours, his father, his daughter, then his son and again his elder daughter, his elder sister and numerous others; he coins his solace in agony “Amar Sakal Dukher Pradip Jwele Diyo, Amar Bythar Puja Hoyeni Samapan”. At that juncture, it dawned to him that there was a thin line between the known, which he termed as “Sheema” and the unknown vastness, which he classifies as death or “Asheem”, which he had already learnt from his father.

If this long journey of “so called” life which is flaccid lolling like a jelly and disappearing into our human’s nest of insanity. How painfully life alters life…..how insolently humility creeps in the wake of a spent revolution, how foolhardy to suppress an upheaval. In desperate solitude, dooms one question – the sword over meaningful existence! If that were so, then why do we strive with an intense throbbing expectation?

These deaths made his mind waver into that unknown looking for a solace through his expression of words and songs. The eternal philosophy of peace, harmony and tranquillity appealed to him in lines with the sloka of Rig Veda:

“Samani bwa akuti samana hridayani bwa

Samanstu bo mana jatha suswahati”

This concept actually elevated his writings from petty mundane matters of everyday life to bring forth the truth of humanity as a whole, which gave his writings a new dimension to the international arena irrespective of age, sex, culture, civilization to a universal eternal truth expressed through his songs, poems, stories and literary works.

He delved deeply trying to fathom the unknown, either in the form of planchet, or in the form of his sublimation to God, where again Upanishad echoed the completeness of the Universe – life or death being just different phases of that completeness, as daylight and darkness are two aspects of our everyday life, in the expression of “So Aham” which means, it is I who has created the Universe.

This transient jelly-like form of life is just a lucid stage which he expresses in musical form sometimes as “Jakhon Porbe Na Mor Payer Chinha Eyi Banke” or “Sheemar Majhe Asheem Tumi Bajao Apon Sur” or at phases he awaits for his unidentified Lord of Universe to cast an eye on him and prepares himself even after the death of his younger son “Jabo Na Je Jabo Na Re, Roibo Pore Ghorer Majhe, Jodi Tahar Amay Pore Mone”. And ultimately he succumbs to that sublimation “Jeebono Moroner Shimana Charaye Bondhu Je Amar Eshechho Daraye” and when this realization awakens amidst the agony of deaths, he submits to the peace in himself “Nayane Sanmukhe Santir O Parabar”.

He lost his childhood friend, philosopher and guide and maybe his only love notun bauthan Kadambari Devi ( probably the short story Noshtoneer was a reflection of his inner feelings for his lost bouthan) when he was twenty-four years old. This loss also inspired him to seek his bouthan whom he presumed probably lay at the cradle of God. This unquenched love led him to his mental detachment from mortal world into the unknown world of death. In this quest of love, his lyrics took a dual twist of the word “Tumi” which in different phases can be interpreted as “love” or at other phases can be interpreted as “God or the vast Universe” where love and God meet at a common platform into the unknown world of the vast unknown, which we term as death. His mind sings tunes of this completeness through his lyrics “Tomaro Asheeme Prano Mono Loye”.

Looking at it scientifically from quantum physics point of view this Universal One is nothing but a Fermi Sphere – when an outside energy flows into the sphere an electron shoots out. May be that is life. And the “hole” created on emergence of electron is positron. Maybe that is death or vice-versa. The cosmic philosophy of Albert Einstein is reflected in philosophical form through his expressions.

The key factor of the life of Tagore is not whether he was alive or not. Once someone asked him “Are you afraid of death?” Promptly came the reply “No”. Actually, his mind was well above the realms of the two, into a vast completeness.

I would say this Universal One is in reality, a serenity of eternal existence…..a sublime state of going through penance of life. A mental harmony of thought, of action, of doing good so that we reach Moksha or Ashtamangik Marg, as per teachings of Buddha. This is the final state of unification with the eternal one; so that these thin compartments are lost into One……. that is we do not have to be re-born again. Everything is bound to die one day as he had learnt from life, which includes all of us mortals. What will remain is our soul that will pass on from one form to another. Let us all keep the shroud of that soul pure and clean. It is just an attempt at amalgamation of “Jeebatma” and “Paromatma” into a common tune of the one and only One.

Life may come and life may go. Death may come and death may go. However, the harmony of life and death into a single tune merged the soul of Tagore into being a part of that vast Universe.

This concept of death singles out Tagore to an arena which is portrayed by the fact that even after his mortal death in 1941, he still remains in his death singing the sweet melody of our every moment even after one hundred and fifty years today and maybe for centuries to come.

সুর তুলুক সূক্ষ্ম কারুকাজ

সুরটা বহুদিনের চেনা।

কিন্তু কোথায় যেন একটা অসংলগ্ন ঝংকার বিটস ছন্দপতন ঘটাচ্ছে চেনা সুরের না-চেনা ব্যঞ্জনায়। থমকে দিয়েছে স্বভাবিক সুরের মূর্ছনা। নিয়ে এসেছে নির্বাক অসহনীয় যন্ত্রণা। সুর তো প্রাণ স্পর্শ করা ছন্দের ব্যঞ্জনা। ব্যঞ্জনা আছে, সুর নেই। চাটুকারিতার চাকচিক্য আছে, প্রচারের ধামাকাও আছে, কিন্তু প্রাণ নেই। হার্টবিট বাড়াবার উপকরণ থাকলেও, হার্ট নেই। বিবর্তনটা অবশ্যম্ভাবী জেনেও, ট্র্যন্সিশনটা কেমন সুরহীন যন্ত্রাংশের ক্যাচক্যচে আওয়াজ।

আমি কী তবে বুড় হয়ে গেছি? ফেলে আসা অতীতের স্মৃতির বিস্মৃতি থেকে নতুন সুরে আর জাগতে পারছি না? স্বর্ণযুগের পরে কী শুধু রাবিন্দ্রিক অশ্রুমোচন? মেনে নিতে মন চায় না।

এ তো বেশিদিন আগের কথা নয়। গীতি রস মিশে যেত ভাবের অনুভবে। এরা কেউ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা অতুলপ্রসাদ নয়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, শ্যামল গুপ্ত, ভাস্কর বসু, সলিল চৌধুরী বা পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই থিরুমলের কণ্ঠে আধুনিক গান চিরায়িত সত্যের বাণী শোনাতঃ

‘তোমার ভুবনে মাগো এত পাপ…

সে কী অভিশাপ?

নাই প্রতিকার।

মিথ্যারই জয় আজ সত্যেরও নাই তাই অধিকার’

কখনও আবেগে প্রেমিক যুগল গঙ্গার বুকে ভাসতে ভাসতে গেয়ে উঠতঃ

‘কে প্রথম কাছে এসেছি’

বা সলিল চৌধুরী সাজিয়ে তুলত সন্ধ্যার আবেশে মোড়া চিরশান্তির বনলতাকেঃ

‘শ্যামল বরনি ওগো কন্যা…

এই ঝিরঝির বাতাসে ওড়া ওড়না’

সুরকার যেন গীতিকারের কল্পনাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইত। হেমাঙ্গ বিশ্বাস থেকে কমল দাসগুপ্ত থেকে এক এক করে উঠে এসেছে প্রতিভার স্ফুরণ। রাইচাদ বড়াল, সলিল চৌধুরী, অনুপম ঘটক, সুধিন দাসগুপ্ত, নচিকেতা ঘোষ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সলিল চৌধুরীর সৃষ্টির পেছনে অন্য এক গন সুরের অভ্যুত্থান – অরুণ বসু, মন্টু ঘোষ, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় জাদু ছড়াচ্ছে একদল তরুণ তুর্কির ক্ষুরধার লেখায়, তার স্ত্রী জ্যোতি চৌধুরীর নিভৃত আশ্রয়। ষাটের গোড়ার দিকে ওয়েস্টার্ন সিম্ফনির আঙ্গিকে গড়ে উঠল নতুন ধাঁচের জীবনমুখী গান – অরুণ বসুর তত্বাবোধনে রুমা গাঙ্গুলির নৃত্য পরিবেশনায় ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়ার, যা ক্রমে বিকশিত হল পরিমল সেনের দক্ষ পরিচালনায়।

মানুষের গান। জীবনের গান। প্রতি মুহূর্তের সুর মূর্ছনা এক অ-রাবিন্দ্রিক বিন্যাসে।

সমান দক্ষতায় উঠে এল মারগিয় রসবোধ। কখনও নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও রবিশঙ্কর, কখনও আলি আকবর, আল্লা রাখা, ভি জি যোগ, বড়ে গোলাম আলি খান সাহেব থেকে বিসমিল্লা খান। কিংবদন্তি অবিস্মরণীয় সৃষ্টি মাধুর্যে ভরিয়ে দিতে লাগল অনভুতির বাসনা। বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়, জয়া চৌধুরী, মনিলাল নাগ – অতীত যেন বর্তমানের নতুন স্ফুলিঙ্গে পাখনা মেলে ভেসে যাচ্ছিলই ললিত গৌরী থেকে বাসন্তী কেদার থেকে ভূপনাথ হয়ে শাওনি কল্যাণে। শুভ্র বরণ এক অনন্ত সময়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, নীরবতার বাতাবরণ সরিয়ে, সুরের সূক্ষ্ম কারুকাজ সাজিয়ে চলেছে, একদল যুগ স্রষ্টা। প্রভাতের স্তোত্র থেকে সন্ধ্যার দেবারতি। সুরের আরাধনার সময়ও যেন সুরকেই বলছেঃ

‘তুমি আমার ভোরের বেলা

ঝিম দুপুরের দান

শেষ বিকেলে লালের ছোঁয়া

নীল তারাদের গান’

সেই হারিয়ে যাওয়া তারাদের ভিড় থেকে, অনন্ত সময়ের কিছুটা ব্যাপ্তি পেরিয়ে, সেই ‘নীল তারাদের গানকে’ তো আজও খুঁজে বেড়াচ্ছি। যাত্রাটা অনেকদিন আগেই শুরু হয়ে গেছে। পেছনের দিকে না ফিরে, মনে হচ্ছে, এক যুগ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছি। অতীতের পাল ছেঁড়া দমকা হাওয়ায়, ভেসে যাওয়া নৌকোটা, যেন অকুল সমুদ্রে ভাসছে একটা নোঙরের আশায়। ক্ষণিক আয়ুর মধ্যে প্রাণ খুঁজছে বর্তমানের কাছে। অতীতের স্মৃতিকে পেছনে সরিয়ে, বর্তমান অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে বেড়াচ্ছে একটা অস্পষ্ট অবয়ব। নতুন ছবি। নতুন চিত্রপটে। যা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে জীবলোকের চাওয়াকে এক নির্দিষ্ট মোহনায়। খালি মোহনার ঠিকানাটাই এখনও জানি না। তারাদের পূর্ণতার আস্ফালনে তো শুধুই শূন্যতার রাগ শুনতে পারছি। হাজারও লোকের ভিড়ে কোথায় যেন অন্তরের নির্জনতা আমাকে গ্রাস করছে। যা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি এক বেলাভূমির তেপান্তরে, নির্জনে সহস্র কোটি গাছের বনাঞ্চলের মধ্যে।

একটু রং চাই। একটু ছন্দ চাই। একটু সুর চাই।

নাই বা হল দয়িতার হাতে হাত রেখেঃ

‘আকাশ পানে চেয়ে চেয়ে

সারা রাত জেগে জেগে’

স্বপ্ন দেখার ভিড়। তবুও সুমনের অতীতের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে মন চায়ঃ

‘এই যে দেখেছি আবছায়াটা লাগছে ভাল

ঘরের কোনে একটি মাত্র মোমের আলো

কার তার কী?

আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি’

আমিও হয়ত স্বপ্ন দেখি আগামীর। কারও হাত ধরে নয়।

নিজ বৈশিষ্ট্যে, নিজ সৌরভে, বিকশিত না-ফোটা কুড়ির স্বপ্ন।

আগামী দিনের স্বপ্ন।

যা স্পন্দন তুলবে নিঃশব্দে নীরবে মনের দেওয়ালি উৎসবে। অখ্যাত অনামি এক কবি আশিস চট্টোপাধ্যায়ের কলমে ভেসে আসে সেই জীবনবোধঃ

‘জীবনের ঝরে পড়া ধানগুলো

খুঁটে খুঁটে খেয়ে চলে স্মৃতির পাখিরা

ওগো ব্যাধ তুলো না গাণ্ডীব

তার চেয়ে হও তুমি নীল বাতিঘর

দেখাও দিশার আলো নিশার আঁধারে

অন্ধকারের দমকা আলোর রোশনাই-এর মধ্যে সেটাই তো আগামীর বীজ মন্ত্র। খরাতপ্ত আকালের মধ্যে তো বর্ষার না-চেনা মেঘমল্লারটা শোনার জন্যই উদগ্রীব হয়ে বসে আছি। হে আগামী যুগের স্রষ্টা – দেখাও সেই নবদিগন্ত, আধারের মাঝে।

আলোগুলো নিভে গেছে। ফিউজটা জ্বলে গেছে প্রচারের দাপটে। মায়াবী রাতে, তারাদের দিকে, উদাস চেয়ে বসে থাকি।

স্বপ্নের তারাদের ছোঁয়ার আশায়।

কবে আবার নতুন তারা ফুটবে?

জীবনটা আবার নিওন আলোর বাইরে, নতুন চাঁদের আলো দেখবে?

কবে আবার পরশুটা, আজ হয়ে আসবে?

আজও খুঁজে বেড়াই

সুরটা আজও খুঁজছি।

রাঙা মাটির মেঠো পথে। কোন বসন্ত পূর্ণিমার চাঁদনি আলোয়। লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরা আলো আধারির মখমলে জ্যোৎস্নায় লাজ রাঙা ওই শ্যামলা মেয়েটির মুখে।

সুরটা আজও খুঁজছি।

গভীর অমাবস্যার নিশুতি রাতে, একা ঘুম ভাঙা অন্ধকারে। সশব্দ নগরীর নিঃশেষ হয়ে যাওয়া ঔরসে।

সুরটা আজও খুঁজছি।

বিথভেনের মুনলিট সোনাটা থেকে, অজয়ের তিরের নতুন বাঁকে।

নতুন আঙ্গিকে।

রবীন্দ্র পূর্ব থেকে রবীন্দ্র উত্তর, সত্তরের দশক পর্যন্ত সেই সৃষ্টির মাধুর্য যেন হঠাত থমকে দাঁড়াল আশির দোরগোড়ায়। ‘আশি তে আসিও না’ তে এসে, বলাকা আর পাখা মেলতে পারল না। আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতন একটি ক্ষণকালের উত্তরণ জ্বলে উঠেও হারিয়ে গেল ‘দেশোদ্ধারের’ কনফিউসড স্লোগানে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে, আমারা ফিরে গেলাম আবার আশির দশকে। সেখানে বিথভেনের মুনলিট সোনাটা খেলে বেড়ায় না বীরভূমের মেঠো পথে। রাঙা ধুলা থাকলেও পথটা ভেঙে গেছে। বিলিতি বেগুন এখন রাঙা হয়েও, না পারছে ছন্দ তুলতে দেশি কিংবা বিদেশি বাগানে। সুরটা কোথায় হারিয়ে গেছে চোরাবালির সস্তা মোহের বিস্তৃত স্রোতে।

রাগটা কোথায় যেন বে-রাগ হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে এক নব রূপের সস্তা অলঙ্কারে। যে অলঙ্কার পারে না তুলতে নব কিশলয়ের ছন্দ, নতুন অঙ্গীকারে। যেখানে সৃষ্টি, আছিলায় অবাঞ্ছিত বৃষ্টি, আজকের নিলামে। সেখানেই শব, করে নিরাস্রুত রব, আজকের এই ঝরা মূল্যহীন সাজান বাগানে। সেই অন্ধ আধারের তিমির নিভৃতে, একটাই প্রশ্ন জাগে মনে, পলে পলে প্রতিক্ষণে।

কোনটা একাল, কোনটা সেকাল, কোনটা ইহকাল, কোনটা পরকাল, এই শ্লোগানের কলরব কী তা জানে? যা বাস্তব কাঠিন্যে সুমধুর, যা ওই নির্মল স্বপ্ন শ্যামলা বধূর, সেটাই তো আগামীর গীত, আমাদের স্বপ্ন সংগীত ফুলঝরা এই খরাতপ্ত বাগানে। যা উত্তাল প্রবাহে আলোড়িত করতে পারে, আজকের এই ঝরা গোলাপের কণ্টক আবৃত ব্যর্থ অহংকারের মেকি দুনিয়ার অন্ধকূপকে।

সেটাই সংকট!

কালকের নয়, আজকের।

তারা আজটাকে দেখতে চায়, পাঁচমিশালির আবর্তে। বিশ্বায়নের ঘূর্ণিঝরে কম্পাস বিহীন এয়ারক্রাফটের মতন, দিকশূন্য ভেসে চলেছে অন্ধকারের গভীরে, তলহীন অতলে, ঠিকানা বিহীন নিরুদ্দেশের ঘোলাটে মহাশূন্যে। প্লেনটা মাটি থেকে ডিভোর্স করে মধ্যাকর্ষণ-এর আবর্ত থেকে ছিটকে পড়েছে, মহাবিশ্বের প্রশস্ত শূন্যতার সীমাহীন গোলোকে।

কোনটা নিজস্ব, কোনটা নয়, ঝরের আবর্তে ধোঁয়াশায় ভরা। অবশ্যই বিশ্বায়ন, পরিধির ব্যাপ্তি ঘটিয়েছে। কিন্তু এই বিশাল বিস্তৃতির মধ্যে ফিল্টার করতে অক্ষম কোনটা গ্রহণযোগ্য, কোনটা বর্জনীয়। কারণ ভিতটাই যে নড়বড়ে। যে সাধনা, যে অধ্যাবসায় এই ভিতের স্তম্ভ, সেখানেই খামতি। মিডিয়ার মায়াজালে নিজেকে তুলে ধরাটাই মুখ্য, সুর-সাধনা-শিল্প সেখানে গৌণ।

সময় কোথায় সুরের আরাধনার?

প্রচারের আলোর রোশনাইতে বুঁদ হওয়া ঝলমলে হাজারও ওয়াটের প্রখর আলোয়, সময় কোথায় ফিরে যাওয়ার, একনিষ্ঠ সাধনার, সৃষ্টির কঠিন খনিতে?

সেখানে না আছে গ্ল্যমার, না আছে অর্থ, না আছে কালকের কোন স্বপ্ন। আছে শুধু নিরলস তপস্যা। কঠিন কঠর পাথরের বুকে, এমনও তো ভরসা নেই, পাষাণ ভবিতব্য অহল্যার মুক্তি দেবে। তাই রাবিন্দ্রিক অশ্রুমোচন, কিংবা স্বর্ণ যুগের রোমন্থন করে যদি লাইমলাইট কুড়িয়ে নেওয়া যায়, তবে সাধনা করে কী হবে? অর্থ নিশ্চিত, দু-একটা ভিক্ষার উপাধিও জুটে যেতে পারে, জায়গা মতন তোষামোদি করতে পারলে।

তার মধ্যেই পূর্ণতা।

সেটাই শিল্পী স্বত্বার একমাত্র স্বীকৃতি!

হয়ত সেখানেই বিবেকের শূন্যতা।

হারাবার ভয়।

কালকে যদি আরেকজন, নিজেদের তৈরি সজান বাগানে নতুন চারা লাগায়! ভিতটা যে টলমলে হয়ে যাবে। তাই নিজেদের মধ্যে খাওয়াখাওয়ি। পাছে ইঁদুর দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে! পাছে অন্য কেউ নিজের সাজান বাগানে নতুন ফুল ফোটায়। তাহলে তো অস্তিত্বটাই সঙ্কটে পড়ে যাবে!

তাই ‘রোখ’।

নিজেরা দলবদ্ধ হয়ে, আগামীর স্রষ্টাকে কোণঠাসা করে, ডুবন্ত নোঙরহীন জাহাজটাকে, ভাসিয়ে রাখার ব্যর্থ প্রয়াস।

প্রকৃত স্রষ্টার তো হারাবার ভয় নেই। কিছু কী তার ছিল, যে সে হারাবে? যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে শূন্য থেকে ঈশ্বরের বরমাল্যে আর নিজের কঠিন অধ্যাবসায়।

সেটাই তো আগামীর সুর।

সেটাই তো কালকের গান।

সেটাই তো বুনিয়াদ যার ভিতে গড়ে ওঠে কালপ্রবাহের অমর সুরের মূর্ছনা।

সেই সুরটাকেই তো আমি খুঁজছি।

মেঠো ধুলার রাঙা পথ পেরিয়ে, গভীর অন্ধকারের বুকে – যেখানে চাঁদনি রাত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে জ্যজ-এর মেলবন্ধনে। যেখানে বাউল, ভাটিয়ালি মিশে যায় পাশ্চাত্য সিম্ফনির নতুন ক্যডেন্সে। যেখানে সৃজনি কৃষ্টি, বৃষ্টি আনে, গ্লোবালাইজেশনের হাত ধরে বিশ্বের মেহফিলে। ওই জিনস, স্কারট, হট প্যন্টস পরা শ্যামলা মেয়েটির কাজল কালো চোখ দুটো, নতুন রঙের ফাগুয়ায় শানিত দৃষ্টিতে চিকচিক করে ওঠে। এঁকে চলে নতুন সুরের, নতুন ছন্দের মায়াজাল। মনের গভীর মরুভূমিতে নতুন মরূদ্যান গড়তে। তার বহুদিনের স্বপ্ন বাসরে।

রাঙা মাটির মেঠো পথে নয়।

লেজারের কম্পনে ভেসে ওঠে নতুন দিগন্ত, অন্তের ওপারে…

হোরডিং ছেড়ে, স্পন্সরকে পেছনে ফেলে, সবুজ মনের কোমল হৃদয়। ভেসে আসে নব বসন্তের নতুন আজান – কংক্রিট, স্কাই স্ক্যপ্রারের আনাচে কানাচে। ঝংকার তোলে মাল্টিস্টরিড কমপ্লেক্সের ছোট্ট ফ্ল্যাটের সারাউন্ড সাউনডে।

প্রকৃত চিরবসন্তের অমৃত মন্থনে।

সুরটা আজও খুঁজছি।

অতীতকে তার সিঙ্ঘাশনে বসিয়ে, বর্তমানের তালে তাল মিলিয়ে, আগামীর ছন্দের নিশ্চিত বন্দনায়। যা মলিনতা থেকে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে চলে যুগ পার হয়ে যুগান্তের হৃদয় বাতাসে।

হে আগামীর বকুল – নব কিশলয় হয়ে ফোট, আজকের ক্ষয়ে যাওয়া অপকৃস্টীর প্রাণহীন বিমর্শে। তোমারাই তো আগামীর পথিক – একে দাও কালকের সাক্ষর, আজকের বিলুপ্তির অবাঞ্ছিত কবরে। যেখানে অজস্র বাতির রোশনাই, আঁধারের বুকে জ্বালিয়ে দেবে চিরন্তন পূর্ণতার রংমশাল জ্বালা নতুন ফাগুনের হোলি, আগামীর দেওয়ালি।

সুরটা আজও খুঁজছি।

তোমাদের কাছে।

আগামীর ইতিহাসের নতুন ক্যানভাস আঁকতে।

বাংলা ভাষা – সেকাল একাল (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে)

বাংলা ভাষার বুৎপত্তি থেকে একবিংশ শতাব্দী।

কতত বছর পার হয়ে গেল।

কত লোক শহিদ হল ভাষার মর্যাদার জন্য।

কত বিবর্তন এল, লেখনী প্রকাশে।

অন্য দেশের বন্ধুরা বলে “তোমাদের ভাষাটা রসগোল্লার মতন মিষ্টি”। মিষ্টি তো বটেই। সুরেলা তার প্রকাশের ছন্দ। অনেকটা ফ্রেঞ্চ ভাষার মতন। বুঝতে না পারলেও, কোথায় যেন মন ছুঁয়ে যায়। এত সম্ভার থাকা সত্ত্বেও, বিশ্বমানের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। প্রায়শই দেখি সভা-আলোচনা-মিডিয়া-প্রেসে একটা ‘গেল গেল’ রব। ইংরেজি সাহিত্য নাকি বাংলা ভাষাকে আগ্রাসন করছে।

তাই কী?

কেউ কী কারও স্বতন্ত্রতা কেড়ে নিতে পারে? এখন তো আর এ দেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য নেই। আজ ৬৭ বছর পার হয়ে গেল স্বাধীনতার পর। মানভুম (পুরুলিয়া) ডিসট্রিক্টে গড়ে ওঠা ভাষা আন্দোলনের বীজ ছড়িয়ে পড়েছিল ইস্ট বেঙ্গলের ঢাকা ইউনিভার্সিটি চত্বরে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির এমনই এক দিনে। সেই ইতিহাস সকলেরই জানা।

বঙ্কিমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, জীবনানন্দ, সামসুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, নুরুল মোমেন, ফারুক আহমেদ, তারাশঙ্কর, রমাপদ চৌধুরী ও আরও অনেক অনেকে সাক্ষর রেখে গেছে এই বিবর্তনের পথে। যদি তাই হয়, তবে কেন একবিংশ শতাব্দীতে বসে, আবারও শুনতে হয়, এক ক্লিসে হওয়া স্লোগান? বাংলা ভাষা নাকি বিদেশি আগ্রাসনের মুখে জর্জরিত। কেনই বা কেউ তাকে আগ্রাসন করতে যাবে, ঠিক বুঝতে পারি না। কার দায় পরেছে বাংলা ভাষাকে রসাতলে ঠেলার? না কি, গ্লবালাইজেশনের পরিপ্রেক্ষিতে, আজকের লেখকরা আর সেই বিবর্তন আনতে পারছে না বলেই কী ‘গেল গেল’ রব? নিজেদের অক্ষমতাকে চাপা দিতে?

অনেকে যে চেষ্টা করেনি, তা নয়। তবে তারা তেমন কেউ ভাষার দিকপাল নয়। কেনই বা রক্ষণশীল কূপমণ্ডূক গণ্যমান্যরা তাদের গ্রহণ করবে? এটা ভাবাও বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়! তাদের আধিপত্য নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে যে।

হ্যাঁ। গ্লবালাইজেশন শব্দটা ইছে করেই ব্যাবহার করেছি। বিশ্বায়ন বলতেই পারতাম। বাংলা ভাষা প্রেমীদের কাছে সেটা অনেক সুখশ্রাব্য হত। যেমন উপন্যাস লিখতে গিয়ে যদি লিখতাম ‘উনি ইংরেজিটা বাংলায় বললেন…’। যেভাবে ইংরেজি শব্দগুলোকে বাংলায় ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই ইন্টারনেটের (থুড়ি ইন্টারনেটের বাংলা প্রতিশব্দটা খুঁজে পেলাম না) যুগে কী এই ভাষাকে নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোন যুক্তি আছে? যেখানে যথাযথ ইংরেজি শব্দ নেই, সেখানে অনায়াসেই আমরা সেটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছি।

আর যেখানে আছে!

নইব নইব চ।

বাংলা ভাষা সেখানে ‘আক্রান্ত’!

হিপক্রিসি হয়ে গেল না?

এই হিপক্রিসিটাই তো অক্ষমের অহং, ভূষণ, আভরণ, ঔদ্ধত্য ও বিপর্যয়। যাকে পাথেয় করে, বিপন্ন হয়ে ওঠে, বাংলা ভাষার দিকপালরা। যদি বাংলা সাহিত্যে হিন্দি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তামিল, উর্দু, ভোজপুরি থেকে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, পর্তুগিজ, চাইনিজ, খামার কিংবা হাওয়াইন ভাষা ব্যবহার করলে, ক্ষতিটা কী?

বাংলা ভাষার অবমাননা হবে?

মাতৃত্বটা কী ঔরসে সীমাবদ্ধ? না, বিকাশের মহিমায়?

আজকালকার ছেলেমেয়েরা যে ভাষায় কথা বলে, সেটা কী বিশুদ্ধ বাংলা? যদি সেই ভাষাই বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে সাহিত্যে প্রয়োগ করা হয়, তা হলে কী ‘গেল গেল’ রব করে আরেকটা আন্দোলন শুরু করতে হবে? না, গ্লবালাইজেশনের পথে হেঁটে ভাষাটাকে বিশ্বের দরবারে স্থায়ী করে নেওয়ার সূত্র হতে পারে?

ভাষা দিবসের প্রাক্বালে সময় হয়েছে

আরেকবার ভাবার…

নতুন করে।

আগামীর পথ ধরার…

যাতে বিশ্বায়নের চোরাবালিতে ‘উন্নত শিরে’ আগামীর বাংলা ভাষা, নিজের গুণে, মানে, উৎকর্ষে স্থায়ী যায়গা করে নিতে পারে, বিশ্বের সমৃদ্ধ মেহফিলে। যেখানে অন্য সুরের তালে ছন্দ মিলিয়ে বিশ্বায়নের নতুন সিম্ফনির ক্যাডেন্সে, নিজস্ব মহিমায় বিকশিত হতে পারে।

VISION KOLKATA

Three small villages named Sutanati, Govindapur and Kolikata merged to carve a path to this large metropolis.

From the narrow streets of Nimtola, to the long stretches of EM Bypass and Rajarhat Connector and the emerging flyovers, from the small lanes of Baithakkhana Bazaar to the stretching malls of Forum, Metro Plaza and City Centre, from the dilapidated old mansions of the Babus, to the skyscrapers of the concrete jungle, from a joint family to that of a nuclear one, from the medical clinicians of yesterday, to a techno-savvy health arena, from the puratani music, to one of jibonmookhi gaan, from the days when people used to talk their heart in their own mother-tongue, to a new age Benglish way of speaking, – Kolkata has evolved into a multicultural technological, progressive hub of western imbibitions.

In this process of imitation of the west, in the name of ‘so called progression`, Kolkata has forgotten, what is their own! The confused society is running, progressing and achieving – but has lost its target. Materialism seems to have overpowered, the human being in them, to the extent, that assessment of life has equated itself to the achievement of social, material and economic success.

On the pivot of the old, can we build something for the new? We do have to learn and import the technology from the west. But in this process, time has come for us to audit, the immense amount of influence, that is readily floating into our being, to filter the vices and accept what is progressive, beneficial not only to our material endeavours, but also to our human soul. Quoting Vivekananda, who seems to be a forerunner, in this blend of east and west, we do have to accept technology from the west, but it is the west, which have to learn from us the philosophy of our soul! – the way to the complete fulfilment of our human being, in our quest for the eternal peace.

Let not, the past like Vivekananda, Tagore and Gandhi be embedded in the frames of our architect designed, colour shaded artistic walls. Let these fore runners show us the light, build the foundation stone of the next generation, on which we will endeavour to progress, with our new ideas and western knowledge, to build a Kolkata of tomorrow, where our authencity remains universal, unquestioned and carves a path to the international future. Let us not feel proud, in imitating the west. Let us talk, a new theme, to both the east and the west, a theme for tomorrow, a theme not only of material progress, a theme also of our spiritual upliftment. Let us not be mundane in the process of only taking and cherish our newfound success, in the confined walls of a small apartment in a multi-storeyed complex, where we become an island. Let us open our hearts and learn the technology from the west, but at the same time, look at our inner-soul and search for that peace. And, that peace lies not in taking only, but also in giving.

Let us build a Kolkata for tomorrow, where we perfectly blend the technology of the west, with our very own progressed inner-soul, in carving the future of the world. ‘So Ahang!` – it is I who has created this universe. It is not God, who is the only creator, let us pray to give us the powers to manifest our individuality and spread it to the future world. Then we will find, we are no longer alone, living in an island, the whole world is there beside us, in our complete being. Only then can we free ourselves from the finite boundaries of our thought and progress to the vast expanse of infinity.

Blog at WordPress.com.

Up ↑

StormyPetrel

আমার মনের মাঝে যে গান বাজে,শুনতে কি পাও গো?

Writcrit

Creative and Bookish

The Blabbermouth

Sharing life stories, as it is.

Prescription For Murder

MURDER...MAYHEM...MEDICINE

Journeyman

Travel With Me

কবিতার খাতা

কবিতার ভুবনে স্বাগতম

NEW MEDIA

LITERARY PAGE

Coalemus's Column

All about life, the universe and everything!

Ronmamita's Blog

Creatively Express Freedom

যশোধরা রায়চৌধুরীর পাতা

তাকে ভালবাসি বলে ভাবতাম/ ভাবা যখনই বন্ধ করেছি/দেখি খুলে ছড়িয়েছে বান্ডিল/যত খয়েরি রঙের অপলাপ/আর মেটে লাল রঙা দোষারোপ

Kolkata Film Direction

Movie making is a joyful art for me. I enjoy it as hobbyist filmmaker - Robin Das

arindam67

বাংলা ট্রাভেলগ

The Postnational Monitor

Confucianist Nations and Sub-Sahara African Focused Affairs Site

TIME

Current & Breaking News | National & World Updates

বিন্দুবিসর্গ bindubisarga

An unputdownable Political Thriller in Bengali by Debotosh Das

rajaguhablog

Welcome to your new home on WordPress.com

জীবনানন্দ দাশের কবিতা

অন্ধকারে জলের কোলাহল

%d bloggers like this: